Home » বিনোদন » অগ্নি-তস্কর শর্ট-ফিল্ম রিভিউ : পরমানু-বোমা চোরের গল্প

অগ্নি-তস্কর শর্ট-ফিল্ম রিভিউ : পরমানু-বোমা চোরের গল্প

১৯৪৫। হিরোসিমা ও নাগাসাকি বিদ্ধস্ত। পর্যুদস্ত জাপানের আত্মসমর্পণে এবং মিত্রশক্তির জার্মানি দখলে পরিসমাপ্তি ঘটেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। এই বিশ্বব্যাপী সমুদ্রমন্থনে যে অমৃতভান্ড (নাকি, হলাহল?) উঠে এসেছে, তার দখল নিয়েছে আমেরিকা। তুরুপের টেক্কা, বিশ্বশাসনের অমোঘ দন্ড – পারমাণবিক বোমা।

কিন্তু, আমেরিকার সুখনিদ্রা দুঃস্বপ্নে পরিণত হল এক সংবাদে – অ্যাটম বোমার যাবতীয় গোপন তথ্য পাচার হয়ে গেছে রাশিয়ায়।

হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, নারায়ণ সান্যালের বিখ্যাত উপন্যাস ‘বিশ্বাসঘাতক’-এর মূল পটভূমিকা এই বিশ্বাসঘাতকতার গল্প। যাঁরা পড়েছেন, তাঁদের ক্লাইম্যাক্সটা নিশ্চয়ই মনে আছে – বিশ্বখ্যাত এক বৈজ্ঞানিকের স্বীকারোক্তি, ওনার বিশ্বাসঘাতকতা এবং তার পিছনের ইতিহাস। অবশ্য, যেমন নারায়ণ সান্যাল উপন্যাসের মুখবন্ধে লিখেই গেছেন, এটা কোন গোয়েন্দা গল্প নয়। অপরাধী কে, এবং তাঁর বিচারের ইতিহাস নিউজপেপার আর্কাইভে সহজলভ্য।

তবে, ওই ‘কেন’ অংশটি বেশ আকর্ষক।

এবং, সেই অংশ নিয়েই ‘বিশ্বাসঘাতক’ উপন্যাসের শেষ অধ্যায় অবলম্বনে মুক্তি পেয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র – ‘অগ্নিতস্কর: এক বিশ্বাসঘাতকের গল্প’। এই সিনেমায় মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ঋত্বিক ভট্টাচার্য্য এবং তুহিন ব্যানার্জ্জী। টাইটেল ডিজাইনে সোনিয়া সেনগুপ্ত, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দিয়েছেন মিল্টন বিশ্বাস, সম্পাদনায় সৌলক সেন, সিনেম্যাটোগ্রাফি করেছেন সুদীপ্ত চক্রবর্তী ও সৌরভ মান্না এবং স্ক্রিপ্ট, স্ক্রিনপ্লে এবং নির্দেশনায় অগ্নিভ সেনগুপ্ত। সিনেমাটি প্রকাশিত হয় ২৩শে জানুয়ারী ২০২১-এ।

সিনেমাটি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রশংসিত হয়েছে। দাদাসাহেব ফালকে, এশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ইন্টারন্যাশনাল শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ বেঙ্গল সহ ১৮-টি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে, এবং প্রায় ৩০-টি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে মনোনীত হয়েছে।

সিনেমাটি আপনারা ইউটিউবে দেখতে পাবেন, লিঙ্ক দেওয়া রইল।

ঘটনাচক্রে সময় এই সিনেমাটির প্রমোশন পার্টনার। আমরা আনন্দিত এমন এক উদ্যোগের সাথে যুক্ত হতে পেরে। সময়ের সকল পাঠকের কাছে অনুরোধ, আপনারা সিনেমাটা দেখুন, এবং নিজেদের মতামত জানান।

আপনার মতামত:-