Home » ছোটোগল্প » ছোটগল্প : দাদা এবং সন্দীপ বাগচী

ছোটগল্প : দাদা এবং সন্দীপ বাগচী

বিষয় : গল্প

দাদা এবং সন্দীপ বাগচী
নয়ন বসু

তখন ২০১২ হবে। আমি তখন শ্যামবাজারে একটা রাষ্ঠায়ত্ব ব্যাংকের কেরানী। আমি হাতিবাগানের ছেলে, বাড়ির কাছেই অফিস। সকালে ভাত খেয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে হাঁটতে থাকলে সিগারেট শেষ হওয়ার সময় দেখি অফিস চলে এসেছে।
আমি সেসময় বসতাম ক্লিয়ারিংয়ে। মানে অন্য ব্যাংকের চেক দিলে সেটাকে প্রসেস করে ক্লিয়ারিং সেলে পাঠানো। সেটা পার্সোনাল চেক ও হতে পারে, আবার গভর্নমেন্টের কোনো ট্যাক্সের চেকও হতে পারে।


আমার বসার জায়গাটা ছিল দরজার ঠিক মুখটাতে। দরজা খুলে ঢুকেই একটা থাম, তার ঠিক পেছনে আমি বসতাম। সুতরাং দরজা খুললে একটু ঘাড় ঘোরালেই দেখতে পেতাম কে বা কারা ঢুকছে। তবে আমি বসতাম তিনতলায়। সেসময় লিফ্টও ছিলোনা। পাঁচতলা না হলে পারমিশন পাওয়া যায়না এরকম কিছু একটা শুনেছিলাম।
এরকমই একদিন বসে বসে চেকগুলোর এন্ট্রি করছি, কাঁচের দরজা ঠেলার আওয়াজ পেলাম। ঘাড়টা একটু কাৎ করে দেখি একজন ভদ্রলোক, তাঁর একহাতে একটা ক্রাচ, আরেকটা হাত দিয়ে দরজাটা খোলার চেষ্টা করছেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে উঠে গিয়ে দরজাটা খুলে দিলাম।
ওমা, ভেবেছিলাম ভদ্রলোক খুশি হবেন। উল্টে দেখি বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে আমার দিকে তাকালেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, ক্লিয়ারিং সেকশনটা কোন দিকে?
আমি একটু হেসে বললাম, আসুন এইখানে বসুন। আমিই দেখি।


ভদ্রলোকের মুখে কোনো অভব্যক্তি দেখতে পেলামনা। তারপর টেবিলের ওদিকে গিয়ে নিজের চেয়ারে বসলাম। ভদ্রলোককে এই প্রথম ভালোভাবে লক্ষ্য করলাম। বয়স আন্দাজ মধ্যচল্লিশ। মাথার চুল কাঁচাপাকা। একটা ফুলহাতা ঘিয়ে রঙের জামা পরেছেন, কবজির কাছের জায়গাটা গোটানো। হাতে ঘড়ি নেই। চোখে দেখে মনে হয় হালকা পাওয়ারের চশমা। অনেক মানুষ দেখতে পান ব্যক্তিত্বময় মানুষের চোখ জ্বলজ্বল করে জ্বলছে, আমি সেরকম কিছুই বুঝতে পারিনা। সেদিনও পারিনি। সাধারণ চোখ, মুখ। জামাটা ইন করে পরা। প্যান্টটা একেবারেই অফিসে পরে যাওয়ার কালো প্যান্ট, একঝলক মনে হলো সুতির। নাও হতে পারে।
ভদ্রলোক একটা চেক জমা দিতে এসেছেন। কোম্পানির চেক। সাড়ে তিনহাজারের। দেখলাম কোম্পানির নাম লেখা আছে সুরভি ব্রাদার্স এন্ড কোং। সিগনেচারের জায়গায় সন্দীপ বাগচী। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনিই সন্দীপ বাগচী?
আমি জানতাম ইনি সন্দীপ বাগচী হবেননা। কোম্পানির মালিক নিজে চেক জমা করতে আসেননা। তিনি কোনো কর্মচারীকে পাঠান। সেটা যত ছোট কোম্পানিই হোকনা কেন। আর চেক মাত্র সাড়ে তিনহাজারের। আমি এটা করেছিলাম ওনাকে একটু ঠোকার জন্য। একটু আগের ওনার বিরক্তিকর মুখটা এখনো ভুলতে পারিনি। করতে গেলাম ভালো আর উল্টে বিরক্ত হচ্ছেন!
আমায় অবাক করে উনি বললেন, হ্যাঁ, আমিই সন্দীপ বাগচী।
এবার আমার অপ্রস্তুত হওয়ার পালা। আমি বিস্ময়টা লুকোবার চেষ্টা না করেই বললাম, আপনি নিজে কেন আসতে গেলেন? কোনো কর্মচারীকে দিয়ে পাঠিয়ে দিলেই তো হয়ে যেত!
বলার সময় আমার চোখ স্বাভাবিকভাবেই পড়েছিলো ওনার একহাতে ধরে থাকা ক্রাচটার ওপরে। উনি লক্ষ্য করলেন। এবার আর বিরক্ত হলেন বলে মনে হলোনা।
স্মিত হেসে বললেন, অন্য কাজ না থাকলে নিজের কাজ নিজেই করে নেই।

আমি ওনাকে বলতে পারতাম চেকটা ড্রপবক্সে ফেলে চলে যাওয়ার জন্য। সবাই তাই করে থাকে। কিন্তু কোনো কারণে আমি সেটা বলে উঠতে পারলামনা। হয়তো ওনার ক্রাচ দেখে আমার দয়া হয়েছিল। ঠিক দয়া নয়, সহানুভূতি। মানুষ তো আফটারঅল!
আমি বললাম, ঠিক আছে আমি হাতে হাতেই নিয়ে নিচ্ছি চেকটা।
উনি ধন্যবাদ বলে চলে যেতে যাচ্ছিলেন। ঠিক তক্ষুণি সঞ্জয় চায়ের কেটলিটা নিয়ে দাঁড়ালো। আমি আন্তরিকভাবেই বললাম, এককাপ চা খেয়ে যান বরং।
উনি বসলেন। আমি সঞ্জয়কে বললাম আমার খাতায় ওনারটা লিখে রাখতে। আমাকে অবাক করে উনি বললেন, না না, তাহলে আমি খাওয়াচ্ছি আপনাকে। এক কাপ চা আর কি আছে!
আমি সঞ্জয়কে ইশারা করতে সঞ্জয় অন্য টেবিলে চলে গেল। আমি হাসতে হাসতেই বললাম, যেদিন আমি আপনার কাছে যাবো সেদিন আপনার চা খাবো।
প্রাথমিক জড়তাটুকু তখন কেটে গিয়েছিল। সন্দীপ বাগচী চা খেতে খেতেই বলছিলেন, আপনি বলছিলেন নিজে কেন এসেছি এই সামান্য চেক জমা করার জন্য?
আমি কিছু না বলে চেয়ে রইলাম। ভদ্রলোক অনেকটা স্বগতোক্তির মতোই বলতে থাকলেন, নয়নবাবু, এককালে আমার বিশাল ব্যবসা ছিল। বিশাল বলতে এখন যা আছে তার অন্ততঃ পঞ্চাশগুণ তো হবেই।
বলে ভদ্রলোক একটু থামলেন। আমি একটু কিন্তু কিন্তু করেই জিজ্ঞেস করলাম, সুরভি আপনার…বলে থেমে গেলাম।

  • মেয়ে। আমার মেয়ের নামে কোম্পানি। মেয়ে যখন পেটে, তখনই কোম্পানিটা খুলি।
    আমি একগাল হেসে জিজ্ঞেস করলাম, আজ ছেলে হলে কি নাম রাখতেন?
    উনি কিছু না বলে হাসলেন একবার। তারপর আবার বলতে থাকলেন, এটা আমার দুনম্বর কোম্পানি। এই এক্সিডেন্টের আগে যে কোম্পানিটা ছিল তার নাম ছিল মা তারা এন্ড কোং। আমরা তিন বন্ধু মিলে স্টার্ট করেছিলাম। আপনাদের এখানেই একাউন্ট ছিল।
  • তারপর?
  • তারপর আর কি! আমার বাইক এক্সিডেন্টটা হলো। তাও নয় নয় করে পাঁচ বছরের ওপর হয়ে গেল।
  • তা সেই কোম্পানির কি হলো?
  • এখন কি আছে না আছে আমি জানিনা। তখন বছরে পঞ্চাশ লাখ টার্নওভার ছিল। আমি ছেড়ে নিজের নতুন কোম্পানি খুলেছি।
  • ওমা, নিজের কোম্পানি, মানে একটা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ছাড়লেন কেন?
    ভদ্রলোক বেশ শান্তভাবেই চা খাচ্ছিলেন। মনে হলো একটু উত্তেজিত হয়েছেন। একটু জোর গলাতেই বললেন,বাঙালিদের কেন ব্যবসা হয়না জানেন তো? অন্যের ভালো কেউই দেখতে পারেনা। সে বাঙালি কি অবাঙালি যেই হোকনা কেন, কিন্তু বাঙালি হলো কাঁকড়ার জাত!
    আমি একটু হাসলাম। এছাড়া আমার আর কিই বা বলার ছিল! নবারুণ মনে পড়ে যাচ্ছিলো। বাঙালি শুধুই খচ্চর নয়, তদুপরি অসহায়!
  • আপনার এখন বয়স কম নয়নবাবু। একটা কথা স্পষ্ট জেনে নিন, এদুনিয়ায় পয়সাটাই সব। পয়সা ছাড়া কেউ আপন নয়।
    ভদ্রলোকের কথাটার মধ্যে কিছু একটা ছিল। কি ছিল বলতে পারবনা। কিন্তু আজ এই লেখাটা লেখার সময়েও আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে ওনার মুখটা। উনি বলছেন, যেদিন আপনার পয়সা নেই, সেদিন আপনার কেউ নেই!
    আমি একটু বোকা বোকা হাসি হেসে জিজ্ঞেস করলাম, তা পুরোনো বন্ধুদের কি হলো?

  • ওনার মুখে এবার একটু যেন কষ্টের ছাপ পেলাম। বললেন, আর বন্ধু! তখন আমি হাসপাতালে। বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। ডাক্তারবাবু বলছেন হাড়ের টুকরো সব বের না করতে পারলে ভেতরে সেপসিস হয়ে যাবে। তখনও আমার মেয়ে হয়নি। সদ্য বিয়ে হয়েছে। নতুন বউ, সেও কিছু জানেনা। প্রথম প্রথম দুই বন্ধু খুব আসতো। কিচ্ছু চিন্তা করিসনা, আমরা ব্যবসা দেখছি এসব ভুজুং ভাজুং দিত।
    তারপর একটা সময় পর তারাও আসা বন্ধ করলো। আত্মীয় স্বজনও তাই। সেটাই অবশ্য স্বাভাবিক। সবারই নিজের নিজের জীবন আছে। জলের মতো টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। তারই মধ্যে ডাক্তার জানালো ভেতরে হাড়ের টুকরো ঢুকে ইনফেকশন হয়ে গেছে।
    দুমাস পড়ে রইলাম নার্সিং হোমে। ততদিনে ব্যবসা সব চৌপাট হয়ে গেছে।
    আমি জিজ্ঞেস করলাম, মানে?
  • মানে কিছুই নয়, অনেকদিন ধরেই আমাদের ব্যবসাটা একটা বড় বিজনেস হাউস কিনবে কিনবে করছিল। আমি থাকায় সেটা হতে পারছিলনা। নিজের হাতে তৈরি করা ব্যবসা, কেন অন্যের হাতে তুলে দেবো বলুন তো! আর তখন তো আমি নার্সিং হোম। আমি নেই, কোনো সমস্যা নেই। ওরাও বেচে দিলো।
  • মামার বাড়ি নাকি? আপনার সিগনেচার লাগবে তো! আপনি তো ডিরেক্টর ছিলেন নাকি!
  • ওসব হয়ে যায় নয়নবাবু। অনেক ফাঁকফোকর আছে। আমার অবর্তমানে মিটিং ডেকে নতুন বোর্ড অফ ডিরেক্টরস হয়েছে। সেখান থেকে আমার নাম কাটা গেছে আরো অনেক কিছু। বললাম না পয়সা, ওটা থাকলে সব হয়, সব।
    আমি কি বলবো বুঝে উঠতে পারছিলামনা। চাও শেষ ততক্ষণে। উনিই বললেন, এতো কিছুই নয় দাদা…
    বলে তিনি কিছুক্ষণ থামলেন। তারপর একটা সময় কেটে কেটে বললেন, একটা সময় ভেবেছিলাম সুইসাইড করবো।
    আমি বলতে গেলাম, কি যে বলেন!
    উনি একটু হাসলেন, তারপর বললেন, দুমাসে নার্সিং হোমের যা বিল হয়েছিল সেটা দিতেই জমানো টাকা সব শেষ! ডাক্তার একটা সময় পর বলেছিলেন, বাঁচবেন কিনা ফিফটি ফিফটি চান্স! একটা সময় ইনফেকশন থেকে সেরে উঠলাম। তারপর ডাক্তার কি বললেন জানেন? বললেন সারাজীবন বিছানায় শুয়ে কাটাতে হবে! আপনিই বলুন, মরতে ইচ্ছে হবেনা!
    আমি উত্তরে একটু দুঃখী দুঃখী হাসলাম। কিছুই বলার নেই আমার।
    সন্দীপ বাগচী বলছেন, তখন ইনফেকশন সেরে গেছে। স্টিলের প্লেট লাগানো হয়েছে পায়ে। কিন্তু ফরেন এলেমেন্ট শরীর নাও নিতে পারে। বুঝলেন নয়নবাবু, নার্সিং হোমে আমার কেবিনের একদিকে ডাক্তার দাঁড়িয়ে। আমার বউ আমায় ধরে আছে বেডে। ডাক্তার আমার থেকে হার্ডলি পাঁচপা দূরে। বলছেন সন্দীপবাবু আপনি এই পাঁচপা চলে এলেই আবার হাঁটতে পারবেন। পাঁচপা কোন ছার, আমি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছিনা! মনে হচ্ছে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবো!
    আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছি শুধু। জিজ্ঞেস করলাম, পারলেন?
  • নাঃ। পারিনি। যন্ত্রনায় হার্ট ফেল হয়ে যেত হয়তো।
  • তাহলে কিকরে পারলেন পরে?
    ঠিক এই জায়গাটায় এসে সন্দীপ বাগচী হাসলেন। বড় অদ্ভুত হাসি।
  • কথায় বলে ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জের দ্যান ফিকশন! আমার কেবিনটায় একটা টিভি ছিল। তাতে খেলার চ্যানেল আসতো। তখন ইন্ডিয়ার সাউথ আফ্রিকা ট্যুর চলছে। মনে পড়ে?
    আমার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। আমার এখনো মনে আছে তখন ২০০৬ কি ২০০৭ হবে। আমি সেভেন কি এইট তখন। সৌরভ গাঙ্গুলীর খেলা দেখার জন্য কোচিং পর্যন্ত কামাই করেছি। আর সাউথ আফ্রিকা তো কাম ব্যাক ট্যুর ছিল দাদার।
    চোখ বড় বড় করে বললাম, সৌরভ গাঙ্গুলী!
    সন্দীপ বাগচীর মুখটা অমলিন হাসিতে ভরে গেল। বললেন, টিভিতে দেখছি একটা মানুষ, যাকে সারা দেশের লোক বলছে তোমার দ্বারা হবেনা, অনেক হয়েছে এবার থামো! অথচ সেই লোকটা দাঁতে দাঁত চেপে পোলককে স্টেপ আউট করে ছয় মারছে! আর আমি, বাগবাজারের সন্দীপ বাগচী, শুধু দুটো ডাক্তার বলেছে আমি হাঁটতে পারবোনা আর আমি মেনে নিয়ে সুইসাইড করবো!
    হয়তো উনি আরো কিছু বলতে পারতেন। কিন্তু ওখানেই থামলেন। একবার দাঁতে দাঁত চিপলেন। দেখতে পেলাম ওনার চোয়ালের হাড়দুটো একবার শক্ত হয়ে উঠলো। তারপর প্রায় ফিসফিস করে বললেন, সেইদিন ঘুরে দাঁড়ালাম নয়নবাবু! ঠিক ঠিক সেইদিন থেকে!

  • আমি খানিকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকলাম। উনিও চুপ করে রইলেন। আমিই নীরবতা ভঙ্গ করে বললাম, তারপর পারলেন?
  • না পারার যখন কোনো অপশন থাকেনা তখন মানুষ সবকিছু করতে পারে। ওই বাঙালি ছেলেটা পারলে আমি কেন পারবোনা? হাঁটলাম, পুরোনো কোম্পানির মুখে জুতো মেরে নতুন কোম্পানি খুললাম। তখন মেয়ে পেটে। তার নামে নতুন কোম্পানির নাম দিলাম। এখন দেখুন! সব করছি! মেয়েকে স্কুলেও দিতে যাই সকালে। অফিসও দেখি। কিন্তু হ্যাঁ, সব কাজ নিজে দেখি। কারুর ওপর আর নির্ভর করিনা।
    এরপর আর বেশি কথা হয়নি ওনার সঙ্গে। অন্য লোকজনও আসছিল। একজনকে নিয়ে অফিস টাইমে এরকম করে বসে থাকা যায়না।
    একথা সেকথা বলার পর উনি উঠলেন। আমি একবার ভাবলাম উঠে গিয়ে দরজাটা খুলে দেই। কিন্তু দিলামনা। সিটেই বসে রইলাম। দেখতে পেলাম উনি কষ্ট করে ব্যালেন্স করে একটা হাত দিয়ে দরজাটা খুলছেন। একটা পা দিয়ে সেটাকে আটকাচ্ছেন। তারপর একটা সময় কাঁচের দরজাটার ওপারে মিলিয়ে গেলেন।
    আমিও কাজে মন দিলাম। সেসময় ভাবছি ব্যাংকের চাকরি আর ভালো লাগছেনা। তখন সিক্সথ পে কমিশন এসেছে সবে সবে। সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের মাইনে একলাফে অনেকটা বেড়েছে। আর তখনও আমাদের মাইনে তার চারভাগের একভাগ। একবার ভাবছি পরীক্ষায় বসবো, আবার ভাবছি অনেকদিন পড়াশোনা থেকে ডিট্যাচড, সব আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।
    এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ দেখলাম আবার সামনে সন্দীপ বাগচী দাঁড়িয়ে আছেন। আমি চমকে উঠে জিজ্ঞেস করলাম, হ্যাঁ বলুন, কিছু ফেলে গেছেন?
    সন্দীপ বাগচী একহাতের ক্রাচের ওপর ভর দিয়ে বললেন, ছেলে হলে নাম রাখতাম সৌরভ।।

(সত্যি ঘটনা অবলম্বনে)

16 thoughts on “ছোটগল্প : দাদা এবং সন্দীপ বাগচী”

  1. সৌরভ গাঙ্গুলির (আমি ‘দাদা’ বলি না, কারণ উনি আমার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট) লড়াই বাঙালি তো বটেই, অনেক অবাঙালিকেও উৎসাহ যোগায় । প্রকৃত যোদ্ধা !

    গল্পের সাথে এই লড়াই মিলিয়ে মিশিয়ে একাকার ক’রে দিতেও যথেষ্ট এলেম লাগে । সেই কাজটা বেশ ভালো হয়েছে । খুব ভালো লাগলো ।

  2. Sourav r comeback dekhini……aj Sandeep Bagchi r comeback sunlam. Mone thakbe sobsomoy. Khub valo likhechhis Nayan.

  3. নয়ন বসু

    এরকম কমেন্টের জন্যই তো লেখা স্যার! ☺️?

  4. ভালো লাগলো কিন্তু আপনার অন্য লেখা গুলোর মতো নয় । গভীরতা কম।

    1. ঠিকই বলেছেন। আমিও সহমত। তবে এটা সত্যি ঘটনা। সেটাকেও আরো ভালো করে প্রেসেন্ট করা যেত। আমারই কলমের জোরের অভাব। সত্যি বলছি, আপনি আমার মনের কথা বলেছেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মতামত:-