Home » জ্ঞান বিজ্ঞান » স্পীড রিডিং – এক মিনিটে ১০০০ শব্দ পড়ার রহস্য

স্পীড রিডিং – এক মিনিটে ১০০০ শব্দ পড়ার রহস্য

অরুনেষ রায়

স্পিড রিডিং এমন একটি স্কিল যা প্রায় একটি সুপারপাওয়ার। বই, প্রবন্ধ এবং অন্যান্য লেখা দ্রুত পড়া এবং বোঝার ক্ষমতা আমাদের জীবনকে কম সময়ে বেশি ইনফরমেশন দিতে পারে। কিন্তু স্পীড রিডিং কি জন্মগত, নাকি কেউ শিখতে পারে? বেশ কিছু অ্যাপ দাবি করে যে এটি অভ্যাস, অর্থাৎ চেষ্টায় কি না হয়। আসুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক স্পীড রিডিং এবং যদি সত্যিই প্রতি মিনিটে ১,০০০ শব্দ পড়া সম্ভব হয়।

প্রসঙ্গত, আমাদের বেশীরভাগেরই প্রতি মিনিটে প্রায় ২০০-৪০০ শব্দ পড়ার ক্ষমতা থাকে। স্পীড রিডারদের দাবি যে তারা প্রতি মিনিটে প্রায় ১০০০-১৭০০ শব্দ কভার করে। এই অভ্যাসগুলো রপ্ত করার জন্য গবেষণা আছে কিনা সে সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা পেতে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, সান দিয়েগোর অধ্যাপক এবং চক্ষু ট্র্যাকিং বিশেষজ্ঞ কিথ রেইনারের কাজ নিয়ে আমরা পড়াশোনা করেছি।

চলুন শুরু করা যাক দ্রুত পড়ার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, এবং দেখে নিই এগুলোর মধ্যে ঠিক কোনগুলি কাজ করে বা করে না।

স্পীড রিডিং এর কিছু পদ্ধতিঃ-

আচ্ছা, স্পীড রিডিং আনাল্যিসিস করার আগে বরং দেখে নেওয়া যাক যে সাধারনত কিভাবে আমরা পড়াশোনা করে থাকি, এবং সেটা বোঝার চেষ্টা করি। যে কোন লেখাই পড়ে বোঝার বেশ কিছু ধাপ আছে, আর সে লেখা যদি জটিল কিছু হয়… সেটা পড়া যে খুব আরামদায়ক কিছু নয় তা মোটামুটি আমরা সকলেই জানি। ঠিক যেমন ধরুন বঙ্কিমচন্দ্র বা রবীন্দ্রনাথ আর শরৎচন্দ্র। প্রথম দুজনের লেখা হিসেবমত বেশি জটিল, অনেক গভীর তত্ব ও ফিলসফি, কিন্তু তৃতীয়জন আমার আপনার কথা বলার ভাষায় লেখেন, যথারীতি পড়তেও বেশ আরাম লাগে।

আচ্ছা এবার আবার লেখা বোঝার কথায় ফিরে আসি। যে কোন লেখা পড়াই বেশ অনেকটা মেকানিক্যাল কাজ। ধরুন আপনি প্রথমে এই লেখাটার দিকে তাকালেন, একটা বা কয়েকটা শব্দ দেখলেন। এটাকে বলে ফিক্সেশন। এর জন্য সময় লাগে মোটামুটি ১ সেকেন্ডের ৪ ভাগের এক ভাগ বা ০.২৫ সেকেন্ড। এরপর আপনি পরের শব্দটা বা আর কয়েকটা শব্দের দিকে তাকালেন। একে বলে স্যাকেড (saccade) , এবং এর জন্য সময় লাগে প্রায় ০.১ সেকেন্ড। একরম এক বা দুবার করার পর, আপনি পড়া অংশটা বোঝার চেষ্টা করেন বা কম্প্রিহেন্সন করেন, এর জন্য সময় লাগে গড়ে ০.৩ থেকে ০.৫ সেকেন্ড। এই লেখার দিকে তাকানো, সেটা পড়া এবং বোঝা সব কিছু মিলিয়ে একজন কলেজ-পড়ুয়া মোটামুটি মিনিটে ২০০ থেকে ৪০০ শব্দ পড়তে পারে।

স্পীড রিডারের আসল কাজ হল ফিক্সেশন এর সময়টাকে কমিয়ে, কম সময়ে বেশি শব্দ পড়ে ফেলা। এর জন্য বেশ কিছু উপায় আছে। যেমন ধরুন স্কিমিং, মেটা গাইডিং, র‍্যাপিড সিরিয়াল ভিসুয়াল প্রেজেন্টেশান যেগুলো একটা একটা করে নিচে আমরা আলোচনা করব।

স্কিমিং এর মূল উদ্দেশ্য হল, যে কোন লেখার শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকেই পড়ে ফেলা। যদিও এটা স্পীড রিডিংই ধরা হয়, এটা আসলে কিন্তু স্পীড রিডিং নয় বা আপনি নিজে স্পীড রিডিং শিখছেন সেটাও নয়। এখানে মূল উদ্দেশ্য হল, কি পড়ব না সেটা শেখা। এবং গবেষণায় দেখা গেছে যে এতে আপনার বেশি ডিটেইল মনে রাখা সম্ভব নয়। চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

মেটা গাইডিং হল অনেকটা রেললাইনের মত। আপনি একটা আঙ্গুল বা পেন কিছুদিয়ে নিজের চোখকে গাইড করে চলেছেন। এর কাজ হল আপনাকে আরও মনযোগী করে তোলা। মনে আছে আমরা অনেকেই ছোটবেলায় এইভাবে পড়েছি। আরও একটা এরকম প্রসেস হল একসঙ্গে অনেকগুলো লাইন পড়ে ফেলা। আবারও, এই প্রসেস মনোযোগ বাড়ানোর দিকেই বেশি জোর দেয়।

র‍্যাপিড সিরিয়াল ভিসুয়াল প্রেজেন্টেশান হল বর্তমান সময়ের সবথেকে বহুল প্রচলিত ডিজিটাল স্পীড রিডিং সিস্টেম। এই পদ্ধতিতে আপনার চোখের সামনে একটি করে শব্দ ফ্ল্যাশ করা হয়। আস্তে আস্তে এই ফ্ল্যাশিং এর গতি বাড়িয়ে আপনি কম সময়ে অনেক বেশি শব্দ পড়তে এবং বুঝতে পারবেন।

স্পীড রিডিং কি সত্যিই সম্ভব?

অবশ্যই, এর উত্তর হ্যাঁ এবং না দুটোই। মানে রিডিং বা পড়া সম্ভব কিন্তু সেটা পড়ে বোঝা বা আত্মস্থ করা বেশ কঠিন। রেইনার এর মতে স্পীড রিডিং বেশ বাজে কথা, কারণ আমাদের চোখের অ্যানাটমি সেটা সেটাকে খুব একটা সাপোর্ট করে না। তা ছাড়াও মস্তিষ্কের গতির একটা লিমিটেশন আছে। রেইনার নিজের গবেষনায় দেখিয়েছেন যে পড়ার গতি যত বাড়ে, বোঝার ক্ষমতা তত কমে।

তাহলে পুরো ব্যাপারটা দাঁড়ালো যে, যে আমরা যত তাড়াতাড়ি পড়ি, তত কম বুঝি আর তার থেকেও কম মনে রাখতে পারব। তাই মোটের উপর তাড়াতাড়ি পড়ার কোন শর্টকাট নেই। তবে যদি খুব ইম্পরট্যান্ট কিছু না পড়েন, তাহলে উপরের একটা দুটো পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখতেই পারেন।  

আপনার মতামত:-