গ্রুপ দিয়ে যায় চেনা

সুনেত্রা সাধু 

“কোন দিকে যাব?”
-“ সিঁড়ি দিয়ে উঠে বাঁ দিকে যান, ওখানেই রিসেপশন।” হাঁপাতে হাঁপাতে সিঁড়িতে উঠতে থাকেন এক নামকারা মাল্টিন্যাশনল কোম্পানির কেউকেটা ধ্রুবজ্যোতি বসুরায়। একটা লিফট পর্যন্ত নেই, ডিসগাস্টিং। রিসেপশনে এক মহিলা, ম্যাগাজিন পড়ছেন। মধ্যরাতে ব্লাড ব্যাঙ্ক মোটামুটি ফাঁকা। নিজের দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে ধ্রুবজ্যোতি, হন্তদন্ত করে সে এগিয়ে গেল রিসেপশনের দিকে।

–  O নেগেটিভ রক্ত দিন প্লিজ, তাড়াতাড়ি। আমার হাতে সময় খুব কম। 
– স্যার ওই গ্রুপের রক্ত এখন নেই, সরি। গ্রুপটা রেয়ার, স্টক এমনিতেই কম থাকে। আজ মনে হয় কিছু কালেকশন হয়েছে তবে এখানে আসেনি এখনো।
-নেই মানে, নেই বললেই হল!  আমার ছেলেটা কি তাহলে মরে যাবে? আপনি কি বুঝতে পারছেন না, রক্তটা কত দরকার আমার! কাছাকাছি সব কটা ব্লাড ব্যাঙ্ক ঘুরেছি, কোত্থাও নেই। সব রক্ত লাল,তাহলে রক্তের গ্রুপ কেন থাকবে বলতে পারেন!  কেন?  কেন? আপনি যা আছে তাই দিন, আমার ছেলেটা নইলে বাঁচবে না, বলে হাউ হাউ করে কাঁদতে  থাকেন ধ্রুবজ্যোতি।
– আপনি একটু শান্ত হোন স্যার, যে কোন রক্ত দেওয়া কি যায়? দয়া করে  বসুন। আমি ফোন করে দেখি, কোন ভাবে জোগাড় করা যায় কিনা।  

ধ্রুবজ্যোতি বসে পড়ে সারবাঁধা লোহার চেয়ারের একটায়, একদম একলা।  স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটে তার বন্ধু সংখ্যা ২৩৪২। চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ছে, তার বিশ বছরের ছেলে নার্সিং হোমের বেডে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে শরীর, উফ কেন যে বাইকটা কিনে দিতে গেলাম, মনে মনে ভাবে ধ্রুবজ্যোতি, নিজের গালে নিজেই চড় কষাতে ইচ্ছে করছে এখন। মাত্র দুটো  বোতল রক্ত নার্সিং হোমের স্টকে আছে বাকীটা তাকেই জোগাড় করে দিতে হবে। মধ্যরাতে কাছাকাছি সবকটা ব্লাড ব্যাঙ্ক চষে বেড়িয়েছে সে। নেই। রক্তটাও পেল সেই মায়ের। একটা রুগী আধমরা মহিলা, ছেলেটার জন্য দু ফোঁটা রক্ত বাঁচিয়ে রাখেনি শরীরে! কিসের অভাব রেখেছে ধ্রুবজ্যোতি! ফ্রিজ ভর্তি খাবার, ঠাকুর চাকর, কি নেই!  খেতে পারেনি! সারাদিন গুম মেরে থাকবে, ঈর্ষা ঈর্ষা ওই মহিলা ধ্রুবজ্যোতি বসুরায়ের ভালো দেখতে পারেনা।  শুধুমাত্র ছেলে তাকে ভালোবাসে, জানে ধ্রুবজ্যোতি। দামী ফোন, নামী প্রাইভেট কলেজ, ফরেন ট্রিপ ছেলের কোন শখ বাকী রাখে নি সে, শেষে ওই বাইকটা পর্যন্ত কিনে দিল। আচ্ছা, ছেলেটা বাঁচবে তো! নিজেকেই প্রশ্ন করে ধ্রুবজ্যোতি।

– স্যার,  রক্ত পাবেন, কিন্তু একটু অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো আধ ঘন্টা পয়তাল্লিশ মিনিট। 
-এখন বসে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। গলার টাইটা আলগা করতে থাকে ধ্রুবজ্যোতি। এ সি নেই, একটা পাখা ঘুরছে ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ করে, অসহ্য লাগছে। সেই ফ্যানের দিকে তাকিয়ে বসে রইল সে, এটা ফ্যান নাকি তার একমাত্র ছেলের জীবনের চাকা?  হে ঈশ্বর  ঘুরতে থাকুক। লোডশেডিং হবে না তো? 
– আমি কি আপনার পাশে একটু বসতে পারি স্যার? আপনার মনটা তো ভালো নেই, একটু কথা বলি? আর সময়টাও কাটবে আপনার। 
– বসুন। যদিও অনুমতি পাবার আগেই মেয়েটি বসে পড়েছে ধ্রুবজ্যোতির পাশের চেয়ারে। অন্যসময় হলে ধ্রুবজ্যোতি বসুরায় এই মেয়েকে পাশে বসতে দিত! 

-আপনি তখন বললেন না স্যার, যা হোক একটা গ্রুপের রক্ত দিয়ে দিন, সব রক্তই লাল। শুধু রক্ত কেন, অন্য ক্ষেত্রেও একটা গ্রুপ যে আর একটা গ্রুপের সাথে মেলে না সেটা আপনার থেকে ভালো আর কেউ জানে স্যার? গ্রুপের মাহাত্ম্য নেই? জীবনটাই তো গ্রুপময়।  সেই শিউশরণ যাদবকে মনে আছে আপনার? 
– না নেই, প্লিজ। 
– আহ্ ভুলে গেলেন? আপনার সেই পুরনো অফিসের পিওন, মেয়ের বিয়েতে আপনাদের নেমন্তন্ন করলো, যাবো বলে ঠিক করলেন কিন্তু মিষ্টার রক্ষিত গেল না বলে আপনার যাওয়া হল না। অল্প কজন গেল। তবে আপনাকেও ঠিক দোষ দেওয়া যায় না জানেন, তখন কোম্পানিতে নতুন, প্রমোশন হব হব, সেই সময় কেউ মিঃ রক্ষিতকে চটায়? আপনি কিন্তু জানতেন রক্ষিত কেন যাবে না। মিস রুবির সাথে যে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টটা রক্ষিত করেছিল সেটার সাক্ষী দিয়েছিল যাদব,  ভুলে গেলেন? জানেন আপনারা যাবেন বলে কটা ভালো চেয়ার এক্সট্রা ভাড়া করেছিল শিউশরণ। অত ব্যস্ততার মধ্যেও ওর বউ গাজরের হালুয়াটা নিজের হাতেই তৈরী করেছিল। বেশ অনেকটা, রক্ষিতের গ্রুপ তো গেল না, নষ্ট হল খাবার। শিউশরণ অফিস থেকে লোন চেয়েছিল, অ্যাপ্রুভ হয়নি। জমানো টাকায় আয়োজন করেছিল। আচ্ছা ছাড়ুন তো ওসব ফালতু সেন্টিমেন্ট, শিউশরনের জন্য আসন্ন পদন্নোতি তো হাতছাড়া করা যায় না।

– আমি সেদিন অসুস্থ ছিলাম। তাই যাওয়া হয় নি।
– হা হা হা৷ তাই! কেন মিথ্যা বলছেন বলুন তো! আধো আলো, মদের ফোয়ারা, বার ডান্সার, মনে করুন…  রাতটা জমে গেছিল না?
– আপনি থামবেন, আমার ভালো লাগছে না। 
– ভালো লাগছে না? আচ্ছা চলুন আমরা ছোটবেলার কথা বলি। কি মজার ছিল না দিন গুলো। আপনাদের গ্রামটাও তো কি সুন্দর ছিল তাই না স্যার? 
– হ্যাঁ খুব সুন্দর,  সবুজ ধানক্ষেতে মিশতো নীল আকাশ, কত গাছ! ভরা পুকুর, মেঠো পথ। নির্ভার একটা জীবন।  জানেন রায় দীঘির পাশে একটা বড় একটা মাঠ ছিল। সেই  মাঠে আমরা খুব ক্রিকেট খেলতাম। 
– জানি তো স্যার।  আপনার প্রিয় বন্ধু বুধন, কি ভালো বল করতো বলুন তো! কত ম্যাচ আপনারা বুধনের জন্য জিতেছেন মনে আছে? আচ্ছা যেবার আপনারা কলকাতায় খেলতে গেলেন সেই দলে বুধন কেন ছিল না বলুন তো! 
– ওর পায়ে চোট ছিল। তাই। 

– ছিল তো, কি করে চোট পেল মনে পড়ছে? হত দরিদ্র বুধনের একটা ছেঁড়া খোঁড়া হাওয়াই চটি ছিল, সেটা পড়ে খেলা যায় বলুন? খালি পায়েই তো খেলতো, সেটা আপনি জানতেন, তাই না?  মাঠে পেরেকটা কেন পুঁতলেন স্যার?  একটা ফালতু বোলার অংশুকে চান্স পাওয়াতে? ওই নিষ্ঠুর ছেলেটার গ্রুপবাজির শিকার হলেন? কলকাতায় ম্যাচটাতে কিন্তু আপনারা গো হারান হেরেছিলেন। বুধন থাকলে জিতে যেতেন, সেই কটা টাকা পেত হাতে। বুধন তো সুযোগই পেল না, তবে আপনি বেশ লাভবান হয়েছিলেন।অংশু আপনাকে একটা ঘড়ি দিয়েছিল মনে পড়ে? সবুজ আলো জ্বলা ডিজিটাল ঘড়ি, ওর বাপের অনেক পয়সা ছিল তো। বুধনের সেই চোট সারেনি,  পা টা বাদ গিয়েছে, আজকাল স্টেশনে বসে ভিক্ষা করে।
-আপনাকে কে বলেছে এসব আজেবাজে বকতে, ছেলেটার রক্তটা খুব দরকার নইলে আমি আপনাকে দেখে নিতাম। জানেন আমি কে? চিৎকার করে ধ্রুবজ্যোতি।

– জানি তো, এক ঝাঁ চকচকে বিদেশি কোম্পানির বড় অফিসার আপনি, দামী গাড়ি, বড় বাড়ি আর  সুন্দরী একটি সেক্রেটারি আছে আপনার।যাকে কোলে বসিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনি ডিসকাশন করেন। কিন্তু জানেন, এখানে না আপনি একজন সাধারণ বাবা, এখান থেকে পাওয়া O নেগেটিভ রক্তের উপর যার ছেলের বাঁচা মরা নির্ভর করছে। তাই চুপ করে বসুন স্যার, একদম চিৎকার করবেন না। ঠিক আপনার মতো মানসিক অবস্থা নিয়েই কিন্তু কমলেশ কাকা আপনার সাথে দেখা করতে এসেছিল। মনে করতে পারছেন? 
চেষ্টা করুন ঠিক পারবেন, আপনার বাবার বন্ধুর ভাই , ওই যে, যার কলকাতার ভাড়াবাড়ীতে  আপনি বেশ কিছুদিন ছিলেন। চাকরি পেয়ে বাসা জোগাড় করতে সময় লাগে তো নাকি। কমলেশ কাকার বৌ কত যত্ন করে আপনাকে খাওয়াতো বলুন। কলকারখানায় সামান্য চাকরি, কটা টাকাই বা মাইনে ছিল কমলেশ কাকার? কিন্তু আতিথ্যে কোন ত্রুটি পেয়েছিলেন?ওর মেয়েটাকে মনে আছে? সেই টলমল পায়ে হাঁটতো, আপনি কোলে নিয়ে ঘুরতে বেরোতেন বিকেলে? সেই মেয়েটার হার্টে ফুটো ছিল জানেন, বারো বছর বয়সে ধরা পড়ল।  অপারেশন এর জন্য কটা টাকার খুব দরকার ছিল কমলেশ কাকার, কারখানা তখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আপনি কিন্তু পারতেন সাহায্য করতে, কিন্তু করলেন না। 

– কমলেশ কাকাকে ওই গরিব শ্রমিকদের জন্য কে লড়তে বলেছিল? শালা, কারখানাটাই তো বন্ধ করিয়ে দিল। কর্মের ফল ভোগ তো করতেই হবে। আর কমলেশ কাকা আমাকে বলেনি মেয়ের অপারেশন এর কথা। আমি তো আর অন্তর্যামী নই। 
– আপনি ঢুকতে দিয়েছিলেন ঘরে? শুনতে চেয়েছিলেন কেন এসেছে? ওহ আচ্ছা দেবেনই বা কি করে, আর শুনবেনই বা কেন! তখন আপনার ঘরে সোফা আলো করে বসেছিল অন্য রাজনৈতিক গ্রুপের প্রাইম মেম্বার। আপনার নতুন কেনা জমির মিউটেশনটা বাকী ছিল, আজকাল পার্টি না ধরলে কিছু হয় বলুন? সবে বোতল খুলে গুছিয়ে বসেছিলেন, আপনার পুরো মেজাজটাই খিঁচড়ে দিয়েছিল কাঁধে ঝোলা আর ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরা লোকটা। কমলেশ কাকার মেয়েটা বাঁচেনি জানেন। এখন আপনার ছেলেটা মারা গেলে আপনি আর কমলেশ কাকা এক গ্রুপের হবেন, তাই না? 

– চুপ করুন প্লিজ।  এসব বলবেন না, আমার একটাই ছেলে।
– কমলেশ কাকারও একটাই মেয়ে ছিল। এই যে একটু আগে কর্মফল বিচার করছিলেন। আপনি কি ভাবেন নিজেকে? ঈশ্বর?  আপনার কর্মফলের হিসেব কে করবে বলুন তো! 
– আমি আর শুনতে পারছি না।  দয়া করে থামুন। 
– কিন্তু আমার যে বলতে ইচ্ছে করছে স্যার। প্রিয়দর্শিনী মৈত্র, কলেজে একসাথে, পাশাপাশি বসা, ক্যান্টিনে  আড্ডা,আপনাদের প্রেম কিন্তু বেশ চর্চার বিষয় ছিল মফস্বলের কলেজে। আপনার মতো সুদর্শন, ব্রিলিয়ান্ট ছেলের কি করে ওই রোগা কালো মেয়েটার সাথে প্রেম হল কে জানে। তবে নাটকটা কিন্তু অসাধারণ করতো প্রিয়দর্শিনী, আপনাদের নাটকের গ্রুপেই তো ছিল, তারপর সেই নাট্যমেলায় ওর অভিনয় দেখে কলকাতার দল ডেকে নিল, আপনি অবশ্য যেতে দিতে চাননি,  গ্রুপের দোহাই দিয়েছিলেন। আসলে ছিল ঈর্ষা, আপনি জানতেন এ মেয়ে অনেকদূর যাবে।সম্পর্কটা টেঁকেনি।  ভাগ্যিস! এখন প্রিয়দর্শিনী মৈত্র‍্যের সাথে দেখা করতে আপনাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে সেটা বোধহয় জানেন। আজকের কাগজেই তো বড় করে একটা সাক্ষাৎকার বেরিয়েছে।  পড়েছেন? সেদিন একটা কথা প্রিয়দর্শিনী আপনাকে বলতে গিয়েও বলেনি, সে অন্তঃসত্ত্বা ছিল, অ্যাবরশানটা করাতেই হয়েছিল। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে কিন্তু  আপনার একটা সন্তানের মৃত্যু কিন্তু আগেই হয়েছে। আপনার তো শক্ত হওয়া উচিত, এতো ভেঙে পড়লে চলে! 

– আপনি কি চান বলুন তো,  কে আপনি?  আমার মানসিক অবস্থার ফায়দা নিচ্ছেন না?  আপনি রক্তটা দিয়ে দিন তো আমি চলে যাই, যত্তসব ফালতু কথা।আমি পিছন ফিরে তাকাতে পছন্দ করিনা।
– যাবেন তো, আগে রক্ত আসুক। অত তাড়া কিসের? ছেলের তো রক্ত চলছে, শেষ হলে এগুলো লাগবে৷” মানসিক অবস্থার ফায়দা,” কথাটা দারুণ বলেছেন কিন্তু। আপনি তোলেন নি অবস্থার ফায়দা? আপনার ভাই তো গ্রামেই থাকেন, জমির আয়টুকুই তো তার ভরসা। যাই বলুন ওনার ছেলেটি কিন্তু জুয়েল, নইলে বিদেশ থেকে যেচে চাকরি আসে? প্রথমবার বিদেশ যে যাবে হাতে তো কিছু টাকা লাগে, সে টাকা অবশ্য দিয়েছিলেন আপনি, কিন্তু বদলে জমিটাও তো লিখিয়ে নিয়েছিলেন। আর এই পরামর্শ আপনাকে কে দিয়েছিল? আপনার খুড়তুতো পিসতুতো ভাই বোনেদের গ্রুপ! 

স্যার, আপনি ভালো করেই জানেন মানুষ আদতে গোষ্ঠীবদ্ধ জীব, পৃথক পৃথক দল বেঁধে দিব্যি থাকে। বেঁধে বেঁধে থাকাই তো ভালো। কিন্তু ঈশ্বর যে  বিচার বুদ্ধি দিয়েছেন সেটিরও সম্মান করতে শিখুন।  মনে রাখবে আপনি মানুষ, শেয়াল নন,যে একজন হুক্কাহুয়া রব তুললে আপনাকেও চেঁচাতে হবে। দেখুন না, আমাদের ব্লাড ব্যাঙ্কে পৃথক গ্রুপের জন্য পৃথক স্টোরেজ।যাতে আমরা গুলিয়ে না ফেলি তাই এই ব্যবস্থা। আশা করি ভবিষ্যতে আপনিও গুলিয়ে ফেলবেন না।
– ফেলবো না ফেলবো না। গোঙাতে থাকে ধ্রুবজ্যোতি।

– স্যার, স্যার উঠুন, রক্ত এসে গেছে। চোখটা লেগে গিয়েছিল ধ্রুবজ্যোতির। ধড়মড় করে সোজা হয়ে বসে। তাহলে এতক্ষণ স্বপ্ন দেখলো সে!  না না স্বপ্ন কেন? টাইম মেশিন ছাড়াও অতীতে ফেরা যায়। কোনদিন পিছন ফিরে তাকিয়েও দেখা হয়নি…
রক্তের বোতল গুলো নিয়ে গাড়িতে ওঠে ধ্রুবজ্যোতি। ড্রাইভারকে নির্দেশ দেয় “জলদি চলো।” নার্সিং হোমে ফোন করে  একবার, অবস্থা স্থিতিশীল শুনে অল্প স্বস্তি পায়, তবে রক্তটা জরুরি। ধ্রুবজ্যোতি জানে সে ঠিক পৌঁছে যেতে পারবে। ছেলেকে সে কিছুতেই মরতে দেবে না।মধ্যরাতে  কলকাতার রাস্তায় গতি নিয়েছে গাড়ি , কোলের ওপর রাখা রক্তের পাউচ গুলো হালকা নড়ছে, প্রাণের অস্তিত্ব টের পাচ্ছে ধ্রুবজ্যোতি।  স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটে একবার লগ ইন করা জরুরি। ষোলটা গ্রুপের ৬৬৭ টা মেসেজ পেন্ডিং। সে গুলোর দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে না তার। গ্রুপের এক্সিট বাটন কোথায় যেন থাকে?  খুঁজতে থাকে ধ্রুবজ্যোতি।

আপনার মতামত:-

%d bloggers like this: