কাব্যে চলচ্চিত্র:পোড়া নাবিকের আখ্যান

শতরুপা বোস রায়

কবিতার কোন ছায়া হয়না। শব্দেরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে ছন্দ সৃষ্টি করলেও, আলোয় ফিরলেও কবিতারা কিন্তু থেকে যায় সেই অন্ধকারে। অন্ধকারে সৃষ্টির আলো জ্বালাবার জন্যেই যে কবিতার জন্ম। “পোড়া নাবিকের আখ্যান” সেই অন্ধকারেই ছুঁয়ে গেছে মনটাকে। রেশ রেখে গেছে এক নিস্তব্ধ জীবনের ফুরিয়ে যাওয়ার ছন্দে। শেষেরও কি অন্তমিল হয়? কিছু কিছু ছবি ছায়া স্পর্শে অন্ধকারকে দূরে ঠেলে ভাবতে শেখায়। এই ছায়া মাখা আলো আঁধারির খেলায় জীবনের কিছু টুকরো অনুভূতিরা স্পর্শ করে।

এই কবিতার অসাধারণ সাহিত্যিক মূল্য না থাকলেও তার ছবির রূপান্তকরণে শব্দেরা মূর্ত হয়ে উঠেছে এই আখ্যানে। Mango and Magenta-এর প্র​য়াসে প্রকাশিত কুণাল বিশ্বাসের লেখনী ও আবহ, যশ চক্রবর্তীর আবৃত্তি আর অগ্নিভ সেনগুপ্তর ভিসুয়ালসে জন্ম নিয়েছে কবিতার এক অভিনব আখ্যান। তাদের ভাষায়, তাদের লেখনীতে, তাদের এই সাদা কালো ছবিতে সৃষ্টি হয়েছে ধূসর জীবনের মলিন এক সমাপ্তি।

এঁরা কেউ দীর্ঘ দিন ধরে সিনেমা তৈরী করে আসছেন না, প্রতি নিয়ত কলম হাতে কবিতাও লেখেন না হয়তোবা।
পৃথিবীর এক এক প্রান্তে বসে শুধু মাত্র কবিতাকে ভালোবেসে এঁরা একসঙ্গে কাজটি করেছেন। এই ছবি সত্যি যেন ছায়া ছবি. আলোর ব্যবহার, ক্যামেরার ফোকাস, সবটা নিয়ে কবিতার এই অসমাপ্ত আখ্যান কখন যে সমাপ্তির পথে ঢলে পড়েছে তা টের পাওয়া দায়. বাস্তবিক কিছু বস্তু ব্যবহার করা হয়েছে এই শর্টে। কাব্য তো নয়, জীবন তো এই ভাবেই লুকিয়ে থাকে কবিতার ভাঁজে ভাঁজে। তাই তো কাব্য রসের মধ্যেও ওই পোড়া নাবিক তার বাস্তবকে মেলে ধরতে পারে, ভালোবাসতে পারে আবার ফুরিয়ে যেতেও পারে যে ভাবে সময় সবটা নিয়ে চলে যায় মহা শূণ্যে।  

কবিতাকে জীবন্ত করবার এটি একটি প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা। এমেচার আর্টিস্ট সকলে কিন্তু বিষয়টাকে এমন বুদ্ধি এবং এমন ক্রিয়েটিভলি হ্যান্ডল করা হয়েছে সে শেষটা একটা রেশ রেখে দিয়ে যায়। বিশেষ করে আলো এবং অন্ধকারকে যে ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে তা দেখে এক মুহূর্তের জন্য বোঝার উপায় ছিলোনা যে এটি বাড়িতে বসে লক ডাউনে তৈরী করা হয়েছে। এর জন্য সাধুবাদ প্রাপ্য ছবির স্রষ্টাদের।

আপনার মতামত:-

%d bloggers like this: