Home » জ্ঞান জগত » ঈশ্বর, ধর্ম এবং রবীন্দ্রনাথ

ঈশ্বর, ধর্ম এবং রবীন্দ্রনাথ

নয়ন বসু

ঋষি বিশাখদত্ত বছরের ছয় মাস মাধুকরী করেন। বাকি ছয় মাস সরস্বতী নদীতীরে নিজ আশ্রমে কাটান। এই বয়সে ওনার মাধুকরি না করলেও চলে। কিন্তু দশজন শিষ্যের জন্যেই তাঁর পথে বেরোনো। তারা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয় পরমার্থ পথে চলার জন্য। তাদের অভিজ্ঞতা কম, পথে নানা বাধাবিঘ্নের সম্মুখীন হতে হয়। তিনি না থাকলে ওদের অসুবিধে হবে।

তিনি চাইলে শিষ্য বাড়াতেই পারেন। সংসারত্যাগী বহু ভক্তই ওনার নামডাক শুনে আসে। কিন্তু একথা তিনি স্পষ্ট বুঝেছেন, যত জড়াবেন পথ তত দুর্গম হবে। এই দশজন বালকসম শিষ্যকেই যথাযথ ধর্মের মূল বোঝাতে তিনি গলদঘর্ম হয়ে যান। অধিকাংশেই এখনো ভাবে ঈশ্বর সোনার রথে চড়ে আকাশ থেকে নেমে আসবেন। রৌপ্যনির্মিত থালায় জাদুবটিকা বিতরণ করবেন, যা আত্মস্থ করে ভক্তগণ পরম সন্তোষ লাভ করবে। এদের ঈশ্বরকল্পনা এবং সমাজধর্মের নীতিতে নির্বাচিত রাজার মধ্যে বিশেষ কোনো ফারাক প্রবীণ ঋষি ধরতে পারেননা।

এইবছর ঋষি মাধুকরীতে বেড়িয়েছেন শৈলকূট পর্বতে। পর্বতের গায়ে গায়ে ছবির মত ছোট ছোট গ্রাম। সেখান থেকেই ওনাদের মাধুকরী চলে। কোনোদিন চলতে চলতে কোনো গ্রাম না পেলে জঙ্গলের ফলমূল খেয়ে আর ঝর্ণার জলে দিব্য চলে যায় ওনার
কিন্তু সবদিন সমান চলেনা। একদিন ওনারা সারাদিন চলে গ্রাম দূরে থাক, একটি ঝর্ণাও দেখতে পেলেননা। ক্ষুধার ফলমূলও কিছু মেলেনি আজ। যাই ফল হাত দেয় ভক্তেরা, প্রবীণ ঋষি মানা করেন। ওনার অভিজ্ঞ চোখ চেনে কোন ফল মানবশরীরের জন্যে ঠিক আর কোন ফল বিষময়। ক্লান্ত হয়ে একটি কিয়ৎ সমতল স্থানে ঋষি এক প্রস্তরখণ্ডের উপর উপবেশন করলেন।

এক ভক্ত এসে উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করলে, গুরুদেব, সন্ধ্যা হব হব করছে, এই স্থান শ্বাপদসঙ্কুল। সাথে আহারও কিছুই নাই। কি উপায় হবে?
ঋষি স্মিত হেসে বললেন, কেশে মৃত্যু ধারণ করে আছে জেনে ধর্মাচরণ করবে।
এইকথা বলে ঋষি খানিকক্ষণ নিশ্চুপ রইলেন। দশজন ভক্তের উৎকণ্ঠিত মুখের দিকে তাকিয়ে একটু মায়া অনুভব করলেন। তোমরা এক দন্ডকাল** আর হাঁটতে পারবে?
ভক্তগণের মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। কেউই আগ্রহ দেখালেনা। আমি মানুষের গলার আওয়াজ পাচ্ছি পর্বতের উপরিভাগ থেকে। কিন্তু সেই স্থানে পৌঁছতে এক দন্ডকাল হাঁটতে হবে।

এবার ভক্তগনের মুখে আলো ফুটে উঠলো। এক দন্ডকাল চলার দূরত্ব থেকে মানুষের গলার আওয়াজ আসার কথা নয়। কেউ কিছুই শোনেনি। কিন্তু শিষ্যেরা জানে ঋষির যোগবলের কথা। তাই স্থির প্রত্যয়ে এগিয়ে চলে তারা।
একদণ্ডকালের সামান্য আগেই একটি ঘর দেখা যায়। কুঁড়েঘর নয়। বেশ বৃহদআকারের ঘর। পর্বতের এতো উপরে এরকম ঘর দেখার আশা কেউই করেনি। গৃহস্বামী অতিথিবৎসল এবং দেবদ্বিজে অগাধ ভক্তি।

ঋষি এবং তাঁর দশ শিষ্যের জন্যে অচিরেই খাবারের আয়োজন হলো। উৎকৃষ্ট পায়সান্ন এবং ঈষদুষ্ণ দুধ। ভক্তগণ অবাক। পর্বতের এতো উপরে এই আয়োজন অভাবনীয়। ঋষির মুখে কোনো কথা নেই, কোনো বিস্ময়ও নেই, পরিতৃপ্তিও নেই, ক্ষোভও নেই।
এক ভক্ত থাকতে না পেরে জিজ্ঞাসা করে ফেলে, ভদন্ত, পর্বতের এত উচ্চে এই রাজকীয় আয়োজন কিকরে সম্ভব? এই স্থানে কর্ষণযোগ্য জমি থাকা সম্ভবপর নয়, গোমাতার থাকার পক্ষেও এই স্থান অনুকূল নয়। তাহলে এর রহস্য কি?

করজোড়ে গৃহস্বামী যা জানালেন তা সত্যিই চমকপ্রদ। এনারা জনাকুড়ি আদিবাসী একদিন কাঠ কাটতে এই স্থানে এসেছিলেন। তখন এক ঋষি এখানে কঠোর তপস্যা করছিলেন। ওনারা শ্রদ্ধাপূর্বক নমস্কার করেন এবং সঙ্গে নিয়ে আসা সামান্য কিছু ফলমূল নিবেদন করেন। ঋষি তুষ্ট হয়ে ওনাদের এক কামধেনু গাই উপহার দেন। আদেশ করেন নীচে গ্রামে না ফিরে গিয়ে এখানেই বসতি স্থাপন করতে। ঋষি তপস্যা অন্তে অন্তর্হিত হন। ওনারা সেই থেকে কয়েকঘর আদিবাসী এখানেই গ্রাম পত্তন করেন। কামধেনু গাইয়ের কল্যাণে ওনাদের কোনোকিছুরই আর অভাব নেই।

শুনে শিষ্যদল চমৎকৃত হয়। গৃহস্বামী ঋষি বিশাখদত্ত এবং ওনার দশজন শিষ্যকে নিজগৃহে থাকার সুব্যবস্থা করে দিলেন। সারাদিন কঠোর পথশ্রমের পর ভক্তির অপার মহিমার কথা আলোচনা করতে করতে তারা নিদ্রামগ্ন হয়ে পড়ে।
রাত্রির তৃতীয় যামে অনমিত্রের নিদ্রাভগ্ন হয়। বাইরে এসে দেখে পূর্ণচন্দ্রের আলোয় গোটা চরাচর ভেসে যাচ্ছে। বাড়ির সম্মুখে একটি সুবিশাল গাছ। তার তলায় প্রবীণ ঋষি দাঁড়িয়ে আছেন। কৌতূহলবশত অনমিত্র এগিয়ে যায়।

গুরুদেব, কোনো কারণে কি আপনার নিদ্রার ব্যাঘাত ঘটেছে?
না শিষ্য, এই অপরূপ শোভা আশ্রমে কোথায় পাবো? তাই প্রাণভরে ঈশ্বরের এই অপরূপ সৃষ্টি দেখছি। তিনি এক ছিলেন। বহু হলেন। তাতে সুন্দর অসুন্দর ঠিক ভুল সত্য অসত্য সবই আছে। সবকিছুর মধ্যেই তাঁরই আভাস!
কিন্তু গুরুদেব, তাহলে আমরা সুন্দরের প্রতি কেন আকৃষ্ট হই? কেন সত্যের উপাসনা করি? সবই যদি তিনি হয়ে থাকেন তাহলে অসুন্দরকে ভজনা কেন করিনা?

প্রবীণ ঋষি স্মিত হেসে বলেন, অসুন্দর তোমার চোখে। আমার চোখে সুন্দর অসুন্দর সবই সমান। তিনিই সুন্দর অসুন্দর হয়েছেন, কিন্তু তিনি এই উভয়েরই অতীত। তিনি সত্যের অতীত, মিথ্যারও। আমরা সুন্দরের উপাসনা করি কারণ সেটা সোজা রাস্তা। চাইলে অসুন্দরকে উপাসনা করো। তার অতীত হতে পারলেও তাঁকেই প্রাপ্ত হবে। কিন্তু গৃহে সদরদরজা দিয়ে ঢুকবে না পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকবে?
গুরুদেব, এই গৃহস্থ আমাদের কতো সেবা করলো। আমরা তার বিনিময়ে তাঁকে কিছু দিতে পারিনা?

ঋষি তাঁর শিষ্যের দিকে স্থির চেয়ে বলেন, তুমি নিশ্চিত তুমি এর উপকার করতে চাও? তাহলে যা বলবো তাই করতে হবে। বিনা প্রশ্নে।
অনমিত্র নির্দ্বিধায় বলে, আপনি আজ্ঞা করুন গুরুদেব। সাধুসেবা করে এই গৃহস্থ যে পুণ্য অর্জন করেছেন, আপনার নির্দেশে আমি তাঁকে তাঁর সমুচিত ফল প্রদান করবো।
ঋষি স্মিত হেসে বললেন, যে কামধেনুর কথা গৃহস্থ বললেন, সেটি কোথায় তুমি জানো?
হ্যাঁ গুরুদেব, কথায় কথায় উনি জানিয়েছেন আমরা যে গৃহে অবস্থান করছি তার পিছনেই সেটি বাঁধা আছে।

যাও তবে। এই মুহূর্তে সেটিকে এই খাদে নিক্ষেপ করো।
অনমিত্র চমকে ওঠে। একি কথা বলছেন গুরুদেব! যে ব্যক্তি তাদের এতো উপকার করলো, তার সর্বনাশ করতে বলছেন গুরুদেব! কিন্তু প্রভু…
তুমি বলেছিলে বিনা বাক্যব্যায়ে আদেশ পালন করবে।
অনমিত্র চুপ করে যায়। তার পা যেন সেই পাথুরে জমিতে ঢুকে গেছে। চলতশক্তিহীন হয়ে সে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রবীণ ঋষি অবিবেচল!

খানিক পরে অনমিত্র গুরুর আদেশ পালন করে। কেউ জানতেও পারেনা।
পরেরদিন সকালে হুলুস্থুল পড়ে যায়। গৃহস্বামী এসে ঋষির পায়ে লুটিয়ে পড়ে। প্রভু আমাদের সর্বস্ব চলে গেল! কি অপরাধ করেছিলাম আমরা জানিনা। কিন্তু কামধেনু আর নেই। আপনি জানেন কিছু?
ঋষি নিশ্চুপ। অনমিত্রের চোখ ফেটে জল আসে। কিন্তু কিছুই বলতে পারেনা। গৃহস্বামী পুনরায় বলে, আপনার পুণ্য আগমনে আমরা ধন্য। যথাসাধ্য সেবার প্রচেষ্টা করেছি। যদি কৃপাপরবশ হয়ে আমাদের কামধেনুটি কোথায় আছে যোগবলে জানতে পারেন, আমরা আজীবন আপনার সেবাদাস হয়ে থাকবো।
ঋষি নিশ্চুপ।

সেই সকালেই ঋষি সমভিব্যহারে সেই স্থান ত্যাগ করেন। মাধুকরির ছয় মাস অতিক্রান্ত হতে চলেছে। আশ্রমে ফিরে যাওয়ার সময় উপস্থিত।
ঋষি সশিষ্য আশ্রমে ফিরে যান। অনমিত্র কাউকে কিছু বলতেও পারেনা সেই রাতের কথা। গুরুদেবের কাছে কয়েকদিন প্রসঙ্গ উত্থাপনের চেষ্টা করে বিফল হতে হয়। গুরুদেব কিছু বলতেই চাননা সেই ব্যাপারে।
তরুণ অনমিত্রের মধ্যে অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হতে থাকে। যিনি আশ্রয় দিলেন, খাদ্য দিলেন তাঁরই সর্বনাশ করা কোন শাস্ত্রের নির্দেশ! এতো অধর্ম! বয়সের ভারে প্রবীণ ঋষির মতিভ্রম হয়েছে। উপরন্তু নিজের পাপ স্বীকার করার সুযোগও সে পায়নি। মহাপাতকের কাজ করেছে সে। নরকেও স্থান হবেনা তার।

কিন্তু আশ্রমে কাউকে কিছু জানাতেও পারেনা। ঋষি পক্ষীমাতার মতোই আগলে রাখেন সবাইকে। সবাই ওনাকে সাক্ষাৎ ঈশ্বরের মতোই শ্রদ্ধা করে। প্রাণ দিয়ে ভালোওবাসে। অনমিত্রও নিজের জীবন দিয়ে ওনাকে ভালোবাসে। কিন্তু পাপ স্বীকার না করা অবধি তার জীবনে শান্তি আসবেনা।
এই দ্বিধায় জর্জরিত হতে হতে একরাতে অনমিত্র আশ্রম ত্যাগ করে। গুরুদেব কি বান্ধবদের বিদায় জানানোরও সুযোগ হয়না। কিজানি, গুরুদেব যদি আটকে দেন! সে যাত্রা করে শৈলকূট পর্বতের দিকে।

একা পথ চলার অভ্যেস নেই তার। প্রথম দিকে খুবই দুর্দশার মধ্যে পড়ে। রোদ বৃষ্টি জল ঝড় মাথায় করে অনমিত্র পাপ স্খালনের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। কোনোদিন খাবার জোটেনা। কোনোদিন জল জোটেনা। মাঝে একসময় শরীর খারাপ করে। সেবার কেউ নেই। উন্মুক্ত প্রান্তরে শুয়ে আকাশের দিকে একা একা চেয়ে থাকে সে। কোথায় তাঁর করুণা! কোথায় তাঁর স্নেহসিঞ্চিত পরশ! এতো কঠিন মৃত্তিকা! দশহাত খুঁড়লেও এককণা জলের সন্ধান মেলেনা।

পথে পড়ে গভীর জঙ্গল। দিনের বেলায় সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারেনা সেই জঙ্গলে। কত অজানা পশুপাখির আওয়াজ। অজানা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে সে। কাঁটাঝোপে তার চীবর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। শ্বাপদের ডাকে অন্তরাত্মা শিউরে ওঠে বারবার।
মাঝে মাঝে মনে হয় আশ্রমে ফিরে যায়। গিয়ে গুরুদেবের পা জড়িয়ে ক্ষমা চেয়ে নেয়। তারপরেই মনে পড়ে সেই আত্মগ্লানি। সেই নিজের ধর্মের প্রতি দ্বিধা। অনমিত্র মন শক্ত করে।

এই করতে করতে তার শরীর ভেঙে পড়ে। কঠিন পথশ্রমে নিজেকে উন্মাদপ্রায় লাগে। আশ্রম থেকে যে বেরিয়েছিল আর আজকের শীর্ণকায় মানুষটি একেবারেই আলাদা।
কিন্তু অনমিত্রের মাথায় একটিই চিন্তা ঘুরতে থাকে। পাপ স্খালন করতে হবে। যে অন্যায় গুরুবাক্যের জন্য করতে বাধ্য হয়েছে সে, তার থেকে মুক্তি পেতে হবে। দুহাত জোড় করে সে দাঁড়াবে সেই গৃহস্বামীর সামনে। যদি তার ক্ষমা পাওয়া যায় তো ভালো, নইলে যা শাস্তি তিনি দেবেন, অনমিত্র মাথা পেতে নেবে। মনে পড়ে গুরুদেব বলেছিলেন, কেশে মৃত্যু ধারণ করে আছে জেনে ধর্মাচরণ করতে হয়।

এভাবেই একদিন সে পৌঁছে যায় সেই গ্রামে। কিন্তু গিয়ে যা দেখে তাতে মনে হয় সে স্বপ্ন দেখছে। তারা যে গৃহে উঠেছিলো, সেটি আরো বড় হয়েছে। অপূর্ব তার গায়ের কাজ। প্রাসাদের মতো দেখতে লাগছে সেটি। অনমিত্রের মনে হলো একোনো ইন্দ্রজাল। নয় তার মৃত্যু হয়েছে, সে স্বপ্নলোকে আছে। সে বুঝতে পারে সে জ্ঞান হারাচ্ছে।
চোখ খুলে অনমিত্র দেখে পরম সুখকর এক শয্যায় শুয়ে আছে। তার মাথার পাশে সেদিনের সেই গৃহস্বামী দাঁড়িয়ে। তার পরণে অভিজাত বেশ। আশেপাশে আরো কয়েকজন নরনারী। প্রত্যেককেই দেখে সম্ভ্রান্ত লাগে।

সে ওঠার চেষ্টা করতেই গৃহস্বামী বলেন, প্রভু আপনি দুর্বল। দয়া করে উঠবেননা। এই সামান্য ফল আর দুধটুকু খেয়ে নিন। সুস্থ বোধ করবেন।
অনমিত্র আর ওঠার চেষ্টা করেনা। বলে, আমরা প্রায় একবৎসর আগে এই গ্রামে এসেছিলাম।
জানি প্রভু। সেইদিন আমাদের মহা সর্বনাশের দিন ছিলো। আমাদের কামধেনু গাই হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায়। আমরা এর কোনো অর্থই বুঝে উঠতে পারিনি। ভেবেছিলাম দেবতা রুষ্ট হয়েছেন। তারপর আমরা কালে কালে বুঝতে পারি যে মহামানব আপনার সাথে এই গৃহে পদধূলি দিয়েছিলেন এ তাঁরই আশীর্বাদ নিশ্চিত।

এই গ্রামের অতি নিকটেই এক সুবৃহদ চন্দনবন ছিলো। আমরা তা লক্ষই করিনি কোনোদিন। কোনো প্রয়োজন পড়েনি। প্রয়োজন পড়াতে আমরা সেই চন্দনবন অতি সহজেই শনাক্ত করি। অতীতে আমরা ফসল ফলানোর কোনো প্রচেষ্টাই করিনি। কিন্তু কামধেনু গাই অদৃশ্য হওয়ার সাথে সাথে আমরা খেয়াল করি এক বিরল দর্শন ফল ফলে এখানে। যা আর অন্য কোথাও পাওয়া যায়না। তার স্বাদ স্বর্গীয়। শারীরিক এবং মানসিক বল বাড়াতে এই ফল অদ্ভুত সুফল প্রদান করে। একদিন আমরা লক্ষ্য করি পর্বতের আর সামান্য উপরেই এক সুবিশাল হ্রদ রয়েছে মিষ্ট জলের। যার জল সারাবছরের কখনোই ফুরায়না। সুতরাং প্রাথমিকভাবে কামধেনু বিহনে আমরা যে অবস্থায় পড়েছিলাম, এখন আমরা পূর্বের চেয়ে বহুগুণ ভালো আছি। পূর্বে আমরা কামধেনু উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিলাম। এখন আমরা স্বনির্ভর জীবনযাপন করতে পারি। আমরা সকলেই নিশ্চিত এসকলই সেই ঈশ্বরতুল্য মহামানবের কৃপা!

অনমিত্রের মুখ দিয়ে কথা সরেনা। সে ওঠার চেষ্টাও করেনা।
সেরাতে সে গ্রামের সকলের সামনে পুরো ঘটনা বলে। গ্রামের সকলেই বলে তাদের আজ যা সমৃদ্ধি তা কেবল তার জন্যেই। তারা প্রত্যেকেই সনির্বন্ধ অনুরোধ করে গ্রামের মাথা হয়ে সেখানে থেকে যাওয়ার জন্যে। তার জন্যে চন্দনকাঠের আশ্রমও তারা বানিয়ে দিতে চায়।
অনমিত্র করজোড়ে জানায় তার পক্ষে থাকা সম্ভব নয়। মহাঋষিকে সন্দেহ করে যে পাপের বোঝা সে বাড়িয়েছে তার প্রায়শ্চিত্ত না করা অবধি সে শান্তি পাবেনা।
পরের দিন ভোর রাতে মুন্ডিত মস্তক অনমিত্র এক হাতে লাঠি আরেক হাতে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ছিন্ন চীবরে রওনা হলো আশ্রমের দিকে।।

** একদন্ড ২৪মিনিট
(এই গল্প আমার নয়। কোথাও পড়েছিলাম অনেককাল আগে। কার লেখা তাও মনে নেই। হিতপোদেশ, কথাসরিৎসাগর, ইশপ, এমনকি হালের কোনো লেখকেরও হতে পারে। কোথায় পড়েছিলাম সেটাও মনে নেই। তবে মূল ভাবটা সঙ্গে রয়ে গেছে। সেটাই গল্পের মতো লেখার চেষ্টা করলাম। কোনো সাধু ছিলেন, কামধেনু আর তাঁর শিষ্য এটুকুই মনে আছে। বাকি পুরোটাই কাল্পনিক। যেহেতু স্থান কাল পাত্র কিছুই মনে নেই, তাই কিছু শৈল্পিক স্বাধীনতা স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছি।
আর যাঁর জন্যে এতকিছুর অবতারণা, আমার ধারণা এই গল্পে রবীন্দ্রনাথ সেই কামধেনু।)

আপনার মতামত:-