মৃতজীবী : জীবনের ছক মানা ও ভাঙার টানাপোড়েন

সময় ডেস্ক

আন্তর্জাতিক এক সংস্থার গবেষনায় জানা যায় যে ভারতবর্ষে ডিপ্রেশনের প্রকোপ সর্বাধিক। প্রতিদিনের ছুটে চলা জীবনে গতি আছে, কিন্তু শান্তির আশ্রয় নেই। আমরা সবাই সেই আশ্রয় খুঁজছি। ভালোবাসার, মমতার, একান্ত নিজস্ব এক আশ্রয়। আর এই পাল্লা দিয়ে ছুটে চলার দিনে নিজস্বতার আশ্রয় খুঁজে চলার গল্পই বলে এই সিনেমা। পাওয়া আর চাওয়ার মাঝে যে আদিকালের সংঘাত, তাই উঠে এসেছে এই সিনেমায়। কি খুঁজে চলেছির থেকেও বড় প্রশ্ন জাগায় কেন খুঁজে চলেছি?

মৃত্যু কি কেবলই শারীরিক নাকি তা অন্তলোকেও সমান বিরাজমান! মৃত্যু কি আসলেই এক সীমানার পরের অজানা নাকি জীবিতর মাঝে থেকেও তা বয়ে নিয়ে চলা! নানা মৃত্যু বিষয়ক প্রবন্ধ বা গবেষণার বিষয় “মৃতজীবী” নয়। জীবিতের মাঝে তার নিজের অস্তিত্বের মৃত্যুর কথাই বলে এই ছবি। মৃত্যু প্রসঙ্গে অরুচি! তবে অরুচির প্রসঙ্গ থাক, রুচির পথে ফিরি। যদিও ফিরতে চাইলেই কি ফেরা যায়! রেখে আসা কথায় নিজেকে রাখা যায়! ফিরলেও কি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা যায়! এই অনুমান আর বাস্তব মিলিয়েই সিনেমাটি। এখানে চশমা সেই আবরণ যা বারবার মনে করায় – তুমি বন্দী। বাস্তবে, সমাজে, নিয়মে তুমি একান্তই বন্দী। যা তোমার জন্য মানা,তার দিকে ফিরে যাওয়ার অনুমতি তোমার নেই। আর অনুমতির চোখ আড়াল করে যদিও বা চশমা ফেলো খুলে- তখন কি তোমার এই ফিরে আসা মেনে নেবে তোমায়!

আসা আর যাওয়া মাঝের আবর্তেরই গল্প বলে মৃতজীবী।

নিয়মের ছকবাঁধা জীবনে আমরা কতটা স্ব-অধীনতায় নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারি! আদেও কি পারছি! সত্যিই কি ছক ভাঙা সহজ? আর ছক ভেঙে বেড়োলে? ছকের ভিতর ও ছকের বাইরের জীবনের টানাপোড়েনের গল্পই বলে এই সিনেমা।

আপনাকে ফলো করছে সে। আপনার অজান্তেই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকছে সে। আপনার আবেগ অনুভূতিকে সেন্সর করছে সে। আপনার চোখে রাখছে তার ক্ষমতার রক্তচক্ষু। ধীরে ধীরে সে গিলে খেতে চাইছে আপনার অস্তিত্ব।

কে এই “সে”! কি তার লিঙ্গ! কি তার বর্ণ! কি তার পরিচয়!

তা জানতে হলে দেখতেই হবে শুভজিৎ চক্রবর্তী ও সুমন চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত “মৃতজীবী” ছবিটি। প্রেসিডেন্সির এই দুই প্রাক্তন নিজেদের হাতখরচের টাকা জমিয়ে সিনেমাটি বানায়।

সিনেমাটি তিনটি গল্পের কোলাজ – পুরোটাই নির্বাক, সম্পূর্ণ জিরো বাজেট। তিনটি গল্পেরই মূল সত্রধর একটি চশমা। চশমাই কি “সে”!? সে উত্তর জানতে হলে দেখতেই হবে স্বল্প দৈর্ঘ্যের এই ছবি। বাস্তব আর সারিয়্যালের এক অনবদ্য খেলা গোটা ছবি জুড়ে। ছবির গল্প পরিচালকদ্বয়ের নিজের। থিমের ভাবনা দীপ শেখর চক্রবর্তীর।

ছবিটি ইতিমধ্যেই দেশের বিবিধ চলচ্চিত্র উৎসবে ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। ছবিটি পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। অতি সম্প্রতী ছবিটি রুশেস চলচ্চিত্র উৎসবে (Rushes National Film Festival 2020, RNFF) অফিসিয়ালি মনোনীত হয়েছে। পরিচালকদ্বয় আপাতত তাদের দ্বিতীয় ছবি নিয়ে ব্যাস্ত।

চলচ্চিত্র উৎসবের গন্ডি পেরিয়ে ছবিটি খুব শিগগিরই ইউটিউবে আসছে – সমস্ত দর্শকের জন্য। দর্শকের মনে মৃতজীবী কতটা জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে এখন সেটাই দেখার।

The following two tabs change content below.

আপনার মতামত:-

%d bloggers like this: