জল কন্যেদের গল্প

গৌরব বিশ্বাস

মিথিলার রাজা জনক সীতার জন্মবৃত্তান্ত শোনাতে গিয়ে বললেন- “ অথ মে কৃষতঃ ক্ষেত্রং লাঙ্গলাদুত্থিতা ততঃ।। / ক্ষেত্রং শোধয়তা লব্ধা নাম্না সীতেতি বিশ্রুতা”। অর্থাৎ- একদিন ক্ষেত্রকর্ষণ করতে করতে লাঙলের রেখা থেকে এক কন্যাকে পেলেন রাজা জনক। ক্ষেত্রশোধনকালে হলরেখা থেকে উত্থিত সে কন্যা। তাই লোকে তার নাম রাখল- সীতা। আক্ষরিক অর্থেই সীতা ‘মাটির কন্যা’ই বটে।

সেই যে রবি বাবুও লিখলেন-‘ আমি তোমারই মাটির কন্যা জননী বসুন্ধরা’।
প্রকৃতি ও নারী এই শব্দদুটি বুৎপত্তি গত ভাবে সমার্থক। তবে, শধুমাত্র ‘সমার্থক’ বললে হয়ত নারী ও প্রকৃতির অভিন্ন সত্তাটিকে সঠিকভাবে নিরূপণ করা যায় না। বরং বলা যাক, নারীই প্ৰকৃতির এক সত্তা। একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, আমাদের দেশের নারীরা প্রতিদিনই পরিবেশকে সুরক্ষা প্রদান করছেন সেই আদি যুগ থেকেই। পরিবেশ সম্পর্কিত এসমস্ত জ্ঞান পুরুষদের শিখিয়ে-পড়িয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা অনেকটাই সহজাত।

রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’র নন্দিনী সেদিন গর্জে উঠেছিল যক্ষ রাজের অপরিসীম ভোগ লালসার বিরুদ্ধে। ‘নিত্যকালের বিত্তরাশি’ লুণ্ঠন করে যারা ধরিত্রীকে করেছে আপন ভোগের দাসী , তাদের বিরুদ্ধে নন্দিনীর আপসহীন সংগ্রাম। তেমনি এ দুনিয়ায় পরিবেশ আন্দোলন পরিবেশ নিয়ে সংগ্রাম বা প্রকল্প গুলোর বেশির ভাগেরই পথিকৃৎ কিন্তু নারীরা। চিপকো আন্দোলনের গৌরী দেবী, বা বিস্মৃত যুগের বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের অমৃতা দেবীর আত্মত্যাগ, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন, কেনিয়ার সবুজ বন্ধনী আন্দোলন, জার্মানীর পারমাণবিক প্ল্যান্টের বিরুদ্ধে কৃষক নারীর উত্থান বা এ যুগের ‘জল সহেলী’ সব কটিই কিন্তু নারী ও প্ৰকৃতির অভিন্ন সত্তাটিকে নতুন করে প্রতিভাত করে।

এ দেশের বড় বড় শহর গুলো যখন জলের অভাবে ধুঁকছে, বুন্দেলখণ্ডের বেশ কয়েকটি গ্রাম কিন্তু দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কাজকর্ম। জলের অভাব বিশেষ বোধ করছেন না তাঁরা। অথচ বুন্দেলখণ্ডের প্ৰকৃতিও তো রুখা শুখা। কি ভাবে এমনটা সম্ভব হল!

অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন সে অঞ্চলের গ্রামের মেয়েরা। বছর সাতেক আগে তাঁরা তৈরী করেছিলেন ছোট্ট একটা গোষ্ঠী। বড় সাধ করে নাম রেখেছিলেন ‘জল সহেলী’। এই সাত বছরে বেড়েছে সে গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা। তেমনই বেড়েছে সে অঞ্চলের ভৌম জলের পরিমাণ। দূর হয়েছে জলের অভাব। অনাবৃষ্টির কালে তাঁদের এখন আর হা হুতাশ করতে হয়না। কিন্তু এ সবই তারা করেছে পরিবেশ বান্ধব উপায়ে। ট্রাডিশনাল পদ্ধতিতে। ‘জল সহেলীর’ মেয়েরা আশেপাশের প্রায় দুশো গ্রামের মানুষের জীবনটাই বদলে দিয়েছে। স্থিতিশীল উন্নয়ন, সম্পদের সুষম বন্টনের ধারণাটি আমরা শহুরে মানুষরা বুঝতেই চাইনি কোনোদিন। ‘জল সহেলী’ তাকে দিব্যি রপ্ত করেছে তার কাজকর্মে।

জুটেছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পুরস্কার। তার চেয়েও বড় কথা, ‘জল সহেলী’ বুন্দেলখণ্ডের গ্রামের মেয়েদের আত্মনির্ভরতা দিয়েছে। ইকো ফেমিনিজমের ধারণা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যেখানে রয়ে যায় বইয়ের পাতায়। জল সহেলী তাকে বাস্তব রূপ দিয়েছে। এক্ষেত্রে ইকো ফেমিনিজম সম্পর্কে দু এক কথা বলে নিই। তাহলে ‘ জল সহেলী’র গুরুত্ব অনুভব করা যাবে।

ফরাসি নারীবাদী Françoise d’Eaubonne তাঁর ‘ feminism of death’ গ্রন্থে প্রথম ব্যবহার করলেন ‘ইকোফেমিনিজম’ শব্দটি। ব্যাপারটা সহজ করে বলি, যুগ যত এগিয়েছে আমাদের জীবন যাত্রার মানও যে অনেক উন্নতি হয়েছে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এসব উন্নয়নের কালে পরিবেশের কথা আমরা ভাবিনি। অপরিনামদর্শী অগ্রগতির ফল কী হল? মাত্রাছাড়া দূষণ, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, বিলুপ্ত প্রাণী আর বিপন্ন খাদ্যশৃঙ্খল।

ইকো ফেমিনিজম বলে এগুলো হচ্ছে পুরুষালি বিজ্ঞান ভাবনার ফসল যার মূল কথাই হচ্ছে আধিপত্য ও মুনাফা। পুরুষ যেভাবে নারীর উপর নিজের আধিপত্য বিস্তার করে, তেমনভাবেই ব্যবহার করেছে প্রকৃতিকে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রকেও ব্যবহার করতে ছাড়েনি। এরই বিপরীতে দাঁড়িয়ে ইকোফেমিনিজম বিশ্বশান্তি, পরিবেশরক্ষা ও নারী আন্দোলনের কথা বলে। তা হলে কি উন্নয়ন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়াই পরিবেশ রক্ষার একমাত্র পন্থা? সম্পদের শূন্য ব্যবহারই পরিবেশ রক্ষার একমাত্র দাওয়াই? তা তো নয় মোটেই। ইকো ফেমিনিজম এই পরিবেশ বান্ধব উন্নয়নেরই পথ দেখায়।

ইকোফেমিনিজমের পাশ্চাত্যের ধারাটি থেকে প্রাচ্যের ধারাটির কিছু মূলগত পার্থক্য আছে। পাশ্চাত্যের ধারাটি মূলত নারী ও পরিবেশ আন্দোলন, পরিবেশের হাত ধরে নারীর মুক্তি ও স্বনির্ভরতার কথা বলে। আর প্রাচ্যের ধারাটি বলে, প্রকৃতি-বান্ধব, বিকল্প প্রযুক্তির কথা ।

আমরা দেখব, ‘জল সহেলী’ তে আশ্চর্যজনক ভাবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য এসে মিলেছে।
প্ৰথম প্রশ্ন যেটা আসে মনে, বুন্দেলখন্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নারীদের ‘জল সহেলী’এর মতো সংগঠনের প্রয়োজন কেন পড়ল?
কারণ দুটো।

প্ৰথম কারণ, ওই অঞ্চলের প্রকৃতি। বুন্দেলখন্ড অর্থাৎ উত্তর ও মধ্য প্রদেশের প্রায় তেরোটি জেলা কম বেশী খরা প্রবণ। বৃষ্টি অনিয়মিত। প্ৰকৃতিগত ভাবে যেখানে জল সম্পদের পরিমাণটাই সীমিত, এমন অঞ্চলের বাসিন্দাদের সেই সীমিত সম্পদ রক্ষা করার দায়টাও বেশি।

দ্বিতীয় কারণ, সামাজিক। পরিবেশের যে কোনো চরম অবস্থায় মূল ভুক্তোভোগী হন সেই অঞ্চলের নারীরা। সেটা প্ৰকৃতিগত কারণ হতে পারে বা সামাজিক বা অর্থনৈতিকও হতে পারে। মনে রাখতে হবে, পরিবেশ বলতে কিন্তু শুধুমাত্র চারপাশের গাছ পালা পশু পাখি বোঝায় না। বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজ ও অর্থনীতিও আমাদের গতানুগতিক পরিবেশের ধারণার সাথে অঙ্গাঙ্গিক ভাবে জড়িত। এ ক্ষেত্রে কারণটা ছিল সামাজিক। যে অঞ্চলের কথা বলছি, সে অঞ্চলের সমাজ এখনও মূলত পুরুষতান্ত্রিক। রক্ষণশীল মনোভাব পোষণ করে তাঁরা। অনেক ক্ষেত্রে পর্দা প্রথা এখনও চালু সে অঞ্চলে।

এমন অঞ্চলে নারীদের অন্যতম প্রধান কাজ, জলের সংগ্রহ করা। এমনিতেই জলের অভাব সেখানে। প্রখর রোদের মধ্যে কলসি নিয়ে পাত্র নিয়ে বহুদূর পায়ে হেঁটে জল আনতে যান সেখানকার মহিলারা। যদিও জল যে মিলবেই এমন নিশ্চয়তাও নেই। কিন্তু এ ব্যাপারে বাড়ির পুরুষেরা মোটেই সহানুভূতিশীল নন। স্থানীয় প্রশাসন বা পঞ্চায়েত গুলোও যে খুব একটা সুরাহা করতে পেরেছে এমনটাও নয়। এমন পরিস্থিতে ‘জল সহেলী’ যে শুধুমাত্র জল সম্পদের যোগান দিয়েছে তা নয়, এক অর্থে ‘জল সহেলী’ নারীর মর্যাদা রক্ষারও লড়াই।

ঝাঁসি থেকে ঘন্টাখানেকের দূরত্বে চন্দ্রপুর গ্রাম। ‘জল সহেলী’সাফল্যের রূপকথার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এ গাঁয়ের জল সহেলীর অন্যতম প্রধান উদ‍্যোক্তা বছর চল্লিশের পুষ্পা দেবী যখন যখন এ গাঁয়ে প্ৰথম শুরু করেছিলেন ‘জল সহেলী’ শুরুর পথটা মসৃণ ছিল না মোটেই। বাড়ির বউ সংসারের কাজ ফেলে সমাজ প্ৰকৃতির সেবা করতে বেরোবে! প্ৰথম বাধা এসেছিল বাড়ির থেকেই। ওসব অঞ্চলে তো আবার খাপ বসে। তাও বসল। কিন্তু পুষ্পা দেবী সে সবের থোড়াই কেয়ার করলেন!

‘জল সহেলী’তে যেসব মহিলারা যোগ দিয়েছেন বা দিচ্ছেন, তাঁদের জীবনের গল্পটা মোটামুটি এক। কারা আছেন জল সহেলীতে? জাতি ধর্ম সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল মহিলারা। কেউ হয়ত উচ্চ শিক্ষিত, কেউ স্বল্প শিক্ষিত কেউ বা নিরক্ষর। শুধুমাত্র পরিবেশ বোধ থাকাটাই যথেষ্ট। যেমন, বুন্দেলখন্ড অঞ্চলের ছোট এক গ্রামের সিরকু দেবী। অনেক ছোট বয়সেই বিয়ে হয়ে এসেছিলেন এখানে। তখন থেকেই প্রায় আট কিলোমিটার হেঁটে প্রতিদিন জল আনতে যেতেন। বহুবার তিনি তাঁর গ্রামে জলের বিকল্প কোনো ব্যবস্থার কথা অনুভব করেছেন। কিন্তু কাকে বলবেন বা বলেই কি লাভ! তাই, তাঁর গ্রামে যখন গড়ে উঠল ‘জল সহেলী’ তিনি সানন্দে যোগ দিলেন তাতে।

জল সহেলীর জয়যাত্রা শুরু বছর সাতেক আগে। কিন্তু জন্মটা ২০০৫ সাল নাগাদ। উত্তর প্রদেশের মাধোগড়ে। সেই গ্রামেরই কিছু মহিলা সিরকু দেবীর মতোই অনুভব করেছিলেন গ্রামে জলের বিকল্প ব্যবস্থার কথা। তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় পরমার্থ সমাজ সেবী সংগঠনের প্রধান সঞ্জয় সিং। গড়ে তোলা হল ছোট্ট একটি সংস্থা ‘পানি পঞ্চায়েত’। পরমার্থ সমাজ সেবী সংগঠন , সঞ্জয় সিং বা পানী পঞ্চায়েত থাকল জল সংরক্ষণ নিয়ে মহিলাদের চিন্তা ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য, ফান্ড সংগ্রহ করার জন্য।

কিন্তু মূল চিন্তা ভাবনা পদক্ষেপের কান্ডারী হলেন মহিলারা। যেহেতু, জলকে কেন্দ্র করেই তাঁদের এই সখীত্ব, তাই নাম রাখা হল ‘জল সহেলী’। জল নিয়ে এই চিন্তা ভাবনার কথা ছড়াল পাশের গ্রামেও। উৎসাহিত হলেন সেই গ্রামের মহিলারাও। তাঁরাও নিজেদের গ্রামে তৈরী করলেন জল সহেলী। এভাবেই গড়ে উঠল জল সহেলীর নেট ওয়ার্ক। যে সংগঠন শুরু হয়েছিল জনা কয়েক মহিলাকে নিয়ে, বর্তমানে ওই অঞ্চলে দুশো গ্রামে প্রায় সাতশোরও বেশি মহিলা জল সহেলীর হয়ে কাজ করছেন।

কিভাবে কাজ করেন এনারা?

জল সহেলীর কাজকে দুটো ভাগে ভাগ করা যায়।
গ্রামে যে সমস্ত জলাশয় গুলো এখনও বেঁচে বর্তে আছে সেগুলোকে রক্ষা করা। যে সমস্ত জলাশয় মৃতপ্রায় সেগুলোকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা। ভৌম জলের পরিমাণ বৃদ্ধি। বৃষ্টির জল সংরক্ষণ।

এরা, বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে চেক ড্যাম(check dam) তৈরি করে। এক ধরনের অস্থায়ী বাঁধ। বর্ষার আগে এগুলো খনন করা হয়। গ্রামের লোকেরাই খনন করেন। এতে কিন্তু গাঁয়ের লোকের কিছু দিনের কর্ম সংস্থানও হয়। পরমার্থ সমাজ সেবী সংগঠনের রঞ্জিত বাবু অর্থ সাহায্য জোগাড় করেন। বৃষ্টির জলের অভিমুখ অনুযায়ী কাটা হয় চেক ড্যাম। এতে যেটুকু বৃষ্টির জল মাটিতে পড়ে প্রায় পুরোটাই জমা হয় ড্যামে। এতে কিন্তু গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জ হয়। ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণ বাড়ে। তারপর, প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রামে কুয়ো খনন বা নলকূপ বসানো। এই নলকূপ বসানো বা সারানো পুরো কাজটাই করেন জল সহেলীর মহিলারা। সেই সাথে ওয়াটার কোয়ালিটি পরীক্ষা।

কর্মকান্ডের দ্বিতীয় পর্যায়টি সংগঠন মূলক। গ্রামের আরও বেশি মহিলাকে জল সহেলীর সাথে যুক্ত করা। জল সম্পদের গুরুত্ব বোঝানো। জল সম্পদ রক্ষায় তাঁদের উৎসাহিত করা। এক সার্বিক সচেতনতা গড়ে তোলা। সেই সাথে স্থানীয় প্রশাসনকে তাঁদের সংগঠনের গুরুত্ব বোঝানো এবং সেই সংক্রান্ত দাবী দাওয়া।

জল সহেলী কতটা সফল?

কেন্দ্রীয় জল সম্পদ দপ্তরের রিপোর্ট বলছে, ওই অঞ্চলে বছর দশেক আগে জলের অভাবে কৃষক আত্মহত্যা , ওই অঞ্চল থেকে মাস মাইগ্রেশনের যে একটা প্রবণতা ছিল, এখন তা কমেছে অনেক অংশে।

কারণ, আগে ওখানকার জমিতে বছরে একবারের বেশি ফসল ফলত না। এখন বেশির ভাগ জমিতেই তিন বার বছরে ফসল ফলানো যায়। কারণ, জল সহেলী। চেক ড্যামের জল ব্যবহার করা হয় কৃষিকাজে। কিন্তু জমির বর্জ‍্য জল, সেটাও কিন্তু ফেলে দেওয়া হয়না। প্রাকৃতিক উপায়ে তাকে রিসাইকেল করার ব্যবস্থাও রাখে জল সহেলী।

গ্রামের যে সমস্ত মোড়ল একসময়ে জল কন্যাদের প্রতি নাক সিটকোতেন তাঁরাও আজ জল সহেলীর গুরুত্ব মেনেছেন। কারণ জল সহেলীর জল গ্রামের বহু মানুষদের কর্মসংস্থানের যোগান দিয়েছে।

এছাড়াও জল সহেলীর মহিলারা গ্রামের মহিলাদের সাথে মিলে নিজেদের মতো করে তৈরী করেছে ওয়াটার পলিসি। যাতে জলের যোগানও বজায় থাকে আবার জলের অপচয়ও রোধ করা যায়। গ্রামের জল সম্পদের উপর অধিকার বজায় রেখেছে গ্রামের মেয়েরা। ড্যামের জল ব্যবহার করে বহু মহিলাই ছোট খাট শাক সব্জী ফলের চাষ করে আজ স্বনির্ভর হচ্ছেন। গাঁয়ে জলের সুষম বন্টন এখন তাঁদের হাতে। মনে রাখতে হবে সম্পদের সুষম বন্টন স্থিতিশীল উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত। এখানেই ইকো ফেমিনিজমের প্রাচ্যের ধারাটির সাথে পাশ্চাত্যকে মিলিয়েছে জল সহেলী। পরিবেশ বান্ধব উন্নয়ন, সাথে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা।

জল সহেলীর পথ চলা হয়ত অনেক এখনও বাকি। এই জল কন্যাদের জন্য রইল অনেক শুভ কামনা।

আপনার মতামত আমাদের প্রেরনাঃ-

%d bloggers like this: