করোনা : সতর্কতা, গুজব-আতঙ্ক নয়

  গৌরব বিশ্বাস

মাস কয়েক ধরেই করোনা নিয়ে সমস্ত দুনিয়া উদ্বিগ্ন। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে করোনা আক্রান্ত এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। করোনায় যত না ভয়, তার চেয়েও বেশি আতঙ্কিত করোনা সংক্রান্ত খবরে। ফেসবুকে করোনা নিয়ে কত বিচিত্র জ্ঞান উড়ে বেড়াচ্ছে। কোনটা গুজব কোনটা সত্যি সে নিয়ে খুবই বিভ্রান্ত।

প্রথমেই ফেসবুকের একটা ভাইরাল পোস্ট দিয়ে শুরু করি- ১৯৮১ তে প্রকাশিত কোনো এক ফিকশন কাহিনীতে নাকি লেখক উল্লেখ করেছেন-ভবিষ্যতে চীন এই করোনা ভাইরাসকে বায়োলজিক্যাল ওয়েপন হিসেবে কাজে লাগবে। যদিও লেখক তাঁর রচনায় ভাইরাসের নাম ছিল ভিন্ন। কিন্তু উর্বর মস্তিষ্কের ফেসবুক ব্যবহারকারী গণ পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে ধরে নিলেন, এটা নিশ্চই করোনা ভাইরাসের কথাই বলা হয়েছে। লেখক ওত বছর আগে এমন নিদারুণ এক সত্যিকে ভবিষ্যত বাণী করেছেন।

যদিও রয়টার্স এর মতো সংবাদ সংস্থা ইতিমধ্যেই ওই খবরকে বোগাস বলেছেন। তর্কের খাতিরে যদিও বা ধরে নেই ওই লেখক তার উপন্যাসে করোনা ভাইরাসেরই উল্লেখ করতে চেয়েছেন, তবুও বলি- লেখক ভবিষ্যত বাণী করেছেন এ ধারণা অমূলক। কারণ- করোনা  ভাইরাস নতুন কোনো ভাইরাস নয়। এর আবিষ্কার কিন্তু ১৯৬০ সাল নাগাদ। ব্যাপারটা একটু গুছিয়ে বলি।

একটা কথা বলুন তো? ভাইরাসটার নাম ‘করোনা’ই কেন হল? করিনা বা করুণা কেন নয়? তারজন্য বুঝতে হবে ভাইরাসটার গঠন। করোনা ভাইরাস কেমন দেখতে। সোজা কথায় বলতে গেলে- আপনি একটা আটা বা ময়দার দলা দিয়ে গোলক বানিয়ে তার চারিপাশে সুচালো কয়েকটা কাঠি পুঁতে দিন। তাহলে যেমন দেখতে লাগবে, করোনাও তেমন দেখতে। এই যে টোটাল স্ট্রাকচার, এটাকেই বলে করোনা। ল্যাটিন শব্দ। অর্থ-‘a crown like structure’। মুকুটের মতো গঠন। লক্ষ্যনীয়, সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের চারপাশে যে আলোর ছটা দেখা যায়, তাকেও কিন্তু বলে করোনা। করোনা আসলে একধরনের ভাইরাস ফ্যামিলি।

এবার আমাদের যেমন বিভিন্ন জাতিভেদ আছে, করোনার মধ্যেও আমরা কিছু জাতের ভেদ করেছি। যে করোনা ভাইরাসের জাতটা মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে, সেটার আবিষ্কার হয়েছে বহু আগে। ১৯৬০ সাল নাগাদ। এর মূলত চারটি ধরন- আলফা, বিটা, গামা, ডেল্টা।  এখানে একটা কথা বলে রাখি, করোনা ভাইরাসের এই সাধারণ প্রজাতি গুলো কিন্তু খুব একটা ক্ষতিকর নয়। সাধারণ যে কমন কোল্ড, সেটাও কিন্তু অনেক সময় এই ভাইরাসের জন্য হতে পারে।

কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল এই যে বিটা  প্রজাতির ভাইরাস, তাদের আরও কিছু নতুন প্রজাতি তৈরি হয়েছে, যে গুলো প্রাণী দেহ থেকে মানুষকেও ইনফেক্ট করতে পারে এবং তারপর মানুষের দেহ থেকে মানুষে।

MERS(Middle East Respiratory Syndrome)-CoV

SARS-CoV(Severe Acute Respiratory Syndrome)

 কিন্তু যে প্রজাতির করোনা ভাইরাসে সারা বিশ্ব থরহরি কম্প, সেটা একেবারেই নতুন জাত। তবে পূর্বের পরিচিত SARS-CoV এর সাথে জেনিটিক্যাল কিছু মিল থাকায়, আক্রান্তদের সিম্পটমে কিছু মিল থাকায় নতুন এই প্রজাতির নামও দেওয়া হয়েছে SARS এরই দ্বিতীয় টাইপ-SARS-CoV-2 অথবা 2019-nCoV। ‘n’ অর্থাৎ Novel , মানে- একদম নতুন ধরনের। একদম অপরিচিত।

◆COVID 19 কী?

CO-Corona, VI-Virus, D-Disease । অর্থাৎ করোনা ভাইরাস দ্বারা রোগ। ছোটবেলায় যেমন পড়েছিলেন HIV হচ্ছে ভাইরাসের নাম আর AIDS হচ্ছে রোগ, এও তেমনি। COVID 19 হচ্ছে রোগ।

◆মহামারী?

অবশ্যই। গত ১১ ই মার্চই WHO একে Pandemic ঘোষণা করেছে। Epidemic আর Pandemic কী পার্থক্য? যদিও এদের সংজ্ঞা অনেক প্যারামিটার অনেক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। তবুও ব্যাপারটা সহজ করে বলি

 ধরুন, আমি A দেশে থাকি। সেখানে কোনো একটা রোগ ছড়াল। রোগটা ওই দেশের বহু লোকেকে আক্রান্ত হল। কিন্তু রোগটা ওই দেশেই সীমাবন্ধ থাকল। বাইরে ছড়াল না সেটা হল Epidemic । এবার ধরি, রোগটা A দেশ থেকে B দেশ সেখান থেকে অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ল। এটা হল Pandemic । দেখতে গেলে  Epidemic এরই মারাত্মক এক্সটেন্ডেড ফর্ম হল Pandemic ।

সমস্যা হল, এদের বাংলা টার্ম নিয়ে। চলতি কথায় একে আমরা বলি, মহামারী। আর মহামারী মানেই চোখে ভাসে প্লেগ কলেরা আর বহু মানুষের মৃত‍্যু। মানুষ রোগে পড়ছে আর মরছে। একসময় এদেশের অবস্থাটা কিন্তু এমনই ছিল সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কারণ সেসময়  উন্নত চিকিৎসা, সচেতনতার অভাব।এমনকি ব্রিটিশরা যে এপিডেমিক অ্যাক্ট চালু করেছিল ১৮৯৭ সালে, সেটা কিন্তু প্লেগের ভয়াবহ মহামারীর জন্যেই।

কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের আলোয়, Epidemic আর pandemic নিছক দুটো টার্ম। যে কোনো রোগই কতটা জিওগ্রাফিক্যাল এরিয়া জুড়ে ছড়াচ্ছে, কতটা দ্রুত ছড়াচ্ছে, মানুষকে ইনফেক্ট করছে কত দ্রুত এইসব নানান প্যারামিটারের উপর ভিত্তি করেই এই টার্ম দুটো এপ্লাই করা হয়। একটা রোগকে এপিডেমিক থেকে প্যানডেমিক ঘোষণা করেছে মানেই সেই রোগে প্রচুর লোক মারা পড়েছে এমন ভাবনা অহেতুক। সত্যি বলতে এই টার্ম দুটোর সাথে মৃত‍্যুর সংখ্যার কোনো যোগই নেই। অনেক রোগ আছে যে গুলো এপিডেমিক, কিন্তু সেগুলোতে আক্রান্ত মানুষ আর মৃত‍্যুর হার প্যানডেমিক করোনার থেকে অনেক বেশি।

একটা বেসরকারি সংস্থার স্ট্যাসিস্টিক্স দেখছিলাম। এরা প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিয়ে একটা লাইভ স্ট্যাটিসটিক্সের পেজ খুলেছে। ওটাতে আজ সন্ধ্যের আপডেট শুনুন-

এই মুহুর্তে  সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে – 246,581 জনের। মারা গিয়েছেন- 10,050 জন। এক্টিভ কেস- 148,045 গুলো। এদের মধ্যে 95% কেসে সংক্রমন খুব মাইল্ড। বাকি মাত্র 5% কেস সিভিয়ার।

98,536 কেস ক্লোজড কেস। অর্থাৎ পেশেন্ট মারা গিয়েছেন বা সম্পুর্ন সুস্থ হয়ে গেছেন। এদের মধ্যে 90% সম্পূর্ন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। বাকি 10% ক্ষেত্রে পেশেন্ট মারা গেছেন।

এদেশে করোনা আক্রান্তের খবর মিলেছে 206 জনের। এক্টিভ কেস 181 টা। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন 12 জন। মারা গিয়েছেন 5 জন। এর মধ্যে নতুন করে মৃত‍্যু হয়েছে 1 জনের। মোট এক্টিভ কেসের 14 জন সম্পুর্ন সুস্থ।    অর্থাৎ একটা কথা স্পষ্ট, এই নতুন করোনা ভাইরাসের মানুষকে আক্রান্ত করার ক্ষমতা যতটা, মানুষকে মেরে ফেলবার ক্ষমতা কিন্তু তত নয়। বরং এই ভাইরাসের আগের যে প্রাজাতির সাথে এর মিল রয়েছে অর্থাৎ SARS-CoV , এটা কিন্তু নতুন অজানা এই প্রজাতির থেকেও মারাত্মক প্রাণঘাতী ছিল।  সুতরাং করোনা হলেই লোকে মরছে এমন গুজবে কান দেবেন না। এমন গুজব ছড়াবেন না। (https://www.worldometers.info/coronavirus/)

তাহলে সমস্যা কোথায়? সম্পূর্ন নতুন ধরনের ভাইরাসের প্রজাতি হওয়ায়, আমাদের শরীরে এর বিরুদ্ধে কোনো ইমিউনিটি এখনও গড়ে ওঠেনি। ডাক্তাররাও এর মতি গতি বুঝতে সমস্যায় পড়েছেন। আর সেই সুযোগেই রোগ ছড়াচ্ছে হু হু করে।

◆কিভাবে ছড়ায়?

করোনা আমাদের রেসপিরেটরি সিস্টেমকে আক্রমন করে। ছড়ায়ও এর মাধ্যমেই। অর্থাৎ হাঁচি কাশি। ধরুন কেউ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত। রোগের সিম্পটম অনুযায়ী তার হাঁচি কাশি হচ্ছে। এবার এই লোকটিই আরেকজন সুস্থ ব্যক্তিকে দু ভাবে আক্রান্ত করতে পারে।

প্রথমত, অসুস্থ ব্যক্তি যখন প্রচন্ড জোরে হাঁচলেন বা কাশলেন, মিউকাস এবং স্যালিভার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ড্রপলেট ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে। এই ড্রপলেট গুলোই ভাইরাস ক্যারি করে। এক জন সুস্থ ব্যক্তি যদি ওই ব্যক্তির কাছাকছি দাঁড়িয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ওই সমস্ত ড্রপলেট বাহিত ভাইরাস তাঁর শরীরে  যাওয়ার সমূহ সম্ভবনা।

দ্বিতীয়ত,

হাঁচি বা কাশির ওই সব ড্রপলেট ওজনে ভারী হওয়ায় খুব বেশিদূর কিন্তু যেতে পারে না। কাছাকাছিই কোনো সারফেসের উপর ল্যান্ড করে। একজন সুস্থ ব্যক্তি যখন ওই সারফেসের উপর তাঁর শরীরের কোনো অংশ স্পর্শ করেন, তখন সেই ভাইরাস তাঁর শরীরের সেই অংশে লেগে গেল। ধরা যাক, অটোর সিটে বসে কেউ হাঁচলেন। ভাইরাস বাহিত  একটা ড্রপলেট সিটের উপর এসে ল্যান্ড করল। একজন সুস্থ ব্যক্তি যখন অটোতে বসবেন, সিট থেকে সেই ভাইরাস তাঁর হাতে এসে লাগবে। তিনি যখন সেই হাত চোখে লাগাবেন বা সেই হাতে কিছু খাবেন, সহজেই সেই ভাইরাস তাঁর শরীরেও ঢুকে যাবে। কারণ, আমাদের চোখ নাক মুখের মিউকাস মেমব্রেন ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ঢোকার পারফেক্ট এন্ট্রি পয়েন্ট।

তৃতীয়ত,

একজন রোগাক্রান্ত ব্যক্তি মুখের সামনে দু হাতের তালু চেপে ধরে কাশলেন বা হাঁচলেন। রোগবাহিত ড্রপলেট তাঁর হাতের তালুতে লেগে গেল। সেই হাতে উনি উনার আশে পাশের বিভিন্ন জিনিস ছুঁলেন। রোগবাহিত ড্রপলেট সেসব জিনিসেও লেগে থাকল। এবার একজন সুস্থ ব্যক্তি যখন  সেসব জিনিসে হাত লাগবেন, ভাইরাস তাঁর হাতেও লেগে যাবে। তারপর মুখ নাকের মাধ্যমে ঢুকে পড়বে শরীরে।

◆হাঁচব বা কাশব কিভাবে?

আমরা সাধারণত মুখের সামনে দু হাত জড়ো করে করে থাকি। এটা বদলাতে হবে। কনুই ভাঁজ করে হাতের মাঝের অংশে মুখ চেপে করুন। কারণ, আপনি হাতের মাঝের অংশ দিয়ে আপনার হাতের মাঝের অংশ দিয়ে আপনার চারিপাশের বস্তু স্পর্শ করেন না। করেন হাতের তালু দিয়ে। তাই এভাবে হাচলে বা কাশলে ভাইরাস স্প্রেড হওয়ার সম্ভবনা অনেক কম।

ন্যাপকিনে মুখ ঢেকে কাশুন। তারপর সেই ন্যাপকিন ডাস্টবিনে ফেলে দিন। রুমাল ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ রুমালের মধ্যে হেঁচে কেশে সেই রুমাল পকেটে রাখবেন , তারপর পকেটে হাত ঢোকাবেন। রুমাল থেকে সেই ভাইরাস হাতেই লাগবে আপনার। তারপর আপনার ছোঁয়ায় ছড়িয়ে পড়বে আশেপাশের বস্তুতে।

◆’Mask’ ডিয়ার হওয়ার প্রয়োজন নেই

করোনার চক্করে বাজারে মাস্ক কেনার হিড়িক পড়ে গেছে। সবাই বাসে ট্রামে রাস্তায় মাস্ক পরে ঘুরছে। WHO তার করোনা নিয়ে গাইডলাইনসে পরিষ্কার বলেছে- সুস্থ ব্যক্তিদের মাস্ক পরার কোনো প্রয়োজন নেই। 

মাস্ক পরা কখনোই করোনার প্রিভেনসন হতে পারে না। কোনো ধরনের মাস্কই করোনার আক্রমণ থেকে আপনাকে বাঁচাতে পারে না। সার্জিক্যাল মাস্ক ও না, N95 মাস্কও নয়।

N95 আর সার্জিক্যাল মাস্ক দুটোর কার্য পদ্ধতি সম্পুর্ন ভিন্ন এবং বিপরীত।

N95 মাস্ক তৈরি হয়েছে, বাতাসে ভাসমান কোনো পলিউট্যান্ট ভাইরাসকে ফিল্টার করে। কিন্তু করোনার ভাইরাসকে নয়। কারণ, করোনার ভাইরাস বাতাসে ভেসে বেড়ায় না। এছাড়াও N95  মাস্ক যে আকারের ভাইরাস কনাকে ছাঁকতে পারে, করোনা ভাইরাসের আকার তার চেয়েও ক্ষুদ্র। তাই N95 মাস্ক পরে করোনা আটকাবেন সে চিন্তা ভুলে যান।

আর সার্জিক্যাল মাস্ক কাজ করে ঠিক উল্টো। অর্থাৎ আক্রান্তের দেহ থেকে কোনো প্যাথ্যেজেনকে বাইরে বেরোতে দেয় না। তাই আপনি যদি সুস্থ ব্যক্তি হন, আপনার কোনো ধরনের মাস্ক পরেই বিশেষ কিছু লাভ নেই।

◆তাহলে কারা মাস্ক পরবেন?

যারা করোনায় আক্রান্ত।

আপনার সর্দি কাশি ফ্লু কিন্তু করোনা তখনও ডায়াগনসিস হয়নি।

যারা করোনা আক্রান্ত পেশেন্টের পাশাপাশি রয়েছেন। যারা তাঁদের চিকিৎসা করছেন।

অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে মাস্ক নিয়ে লাফালাফি করবেন না। এতে  বাজারে মাস্কের সংকট তৈরী হচ্ছে। যাঁদের সত্যিই মাস্কের প্রয়োজন তাঁরা বরং মাস্ক পাচ্ছেন না। যারা মাস্ক পরবেন, WHO তাঁদের জন্য একটা গাইডলাইন ভিডিও দিয়েছে। তার লিংক রইল-

★★★★ করোনার হাত থেকে বাঁচার প্রধানতম উপায়, বার বার হাত ধোয়া। হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে , সেটা না মিললে সাবান আর জল দিয়ে।

খাবার খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে ফেলুন। রাস্তা ঘাটে বেরোলে হাত না ধুয়ে যাতে চোখে মুখে হাত না স্পর্শ করেন সে বিষয়ে একটু সতর্ক থাকুন। বাসে ট্রেনের মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করলে বাড়ি ফিরে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলুন।

 ★★★ করোনা ভাইরাসের কোনো বিজ্ঞান সম্মত প্রতিষেধক বেরোয়নি। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াকে মারতে পারে। ভাইরাস নয়। তাই এক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে কোনো লাভ নেই।

★★★ গরুর মূত্র , গোবর, গুলঞ্চ বটিকা, রসুন বা বাজার চলতি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কখনোই করোনার প্রতিষেধক নয়।

★★★ একটা পোস্ট খুব ভাইরাল হয়েছে। করোনা ভাইরাস নাকি চারদিন আমাদের গলায় অবস্থান করে। ওই সময়ে গরম জল খেলে নাকি ভাইরাস মরে যায়। WHO স্পষ্ট বলছে, গরম জল বা ঠান্ডা জল বা আইসক্রিম করোনা ভাইরাসের উপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। তাই এমন চিন্তা অবৈজ্ঞানিক। ঠিক একই ভাবে, ঠান্ডার দেশের লোকেরা বা গরমের দেশের লোকেরা করোনায় আক্রান্ত হয় না এমন ভাবনাও অবৈজ্ঞানিক।

★★★ জল খেলে নাকি ভাইরাস শরীর থেকে ফ্লাশ আউট হয়ে যায়। এমন ভাবনারও কোনো ভিত্তি নেই। তবে আপনি হাইড্রেট থাকলে আপনার ইমিউনিউ সিস্টেম হেলদি থাকে। সেক্ষেত্রে তার ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করতে সুবিধে হয়। তা বলে, জলকে করোনার প্রতিষেধক ভাববেন না।

★★★মশার কামড়ে করোনা ভাইরাস ছড়ায় না।

★★★অ্যালকোহল খেলে করোনা আটকানো যাবে এমন ভাবনা অবৈজ্ঞানিক।

★★★নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন করোনা ভাইরাসের কিস্যু করতে পারে না।

★★★

★★★ এই কটা দিন পারলে সোশ্যাল গ্যাদারিং এড়িয়ে চলুন। হ্যান্ডসেক, কোলাকুলি কোনোটাই এ সময়ে না করলেই ভালো।

★★★শরীর অসুস্থ লাগলে, ফ্লু এর কোনো সিম্পটম থাকলে অবশ্যই অবশ্যই ডাক্তার দেখান। যদি আপনার করোনা পজিটিভ হয়, তাহলেও প্যানিক হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। করোনায় আক্রান্ত বেশিরভাগ ব্যক্তিই কিন্তু সুস্থ হয়ে উঠছেন। ডাক্তার যে কদিন আইসোলেটেড থাকতে বলেন সেটা মেনে চলুন। মনে রাখবেন, কেউ আপনাকে এক ঘরে করে দিচ্ছেন না। কেউ আপনাকে ঘৃণা করছে না। শুধু ভাইরাসকে দূর করার চেষ্টা করছে। আপনাকে সারিয়ে তোলাবর চেষ্টা করছে। তাই এমন হীনমন্যতায় ভুগবেন না বা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করবেন না।

তেমনি একই ভাবে, অমুক স্থানের বাসিন্দা মানেই করোনা বয়ে নিয়ে এসেছে এমন ভাববার কোনো কারণ নেই। এসব করে এসময় বিভেদ বাড়াবেন না।

★★★যদিও নির্দেশ দিয়েছে, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন, কিন্তু এদেশে সেটা আদৌ সম্ভব? যে দেশের এখনও বহু শহরে মানুষ থাকে বস্তিতে একটা ঘরে দশ বারোজন গাদাগাদি করে সেখানে এমন নির্দেশ মেনে চলা আদৌ সম্ভব? উপায় একটাই বারবার ঠিক মতন হাত ধোয়া। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবজ্ঞা নয়। তাঁর থেকে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখা।

একজন লোক রাস্তা ঘাটে হাঁচি দিলেন মানেই তিনি করোনায় আক্রান্ত এমন ভাববেন না। লোকটার নাকে ধুলো ঢুকে নাক সুরসুরও করতে পারে। লোকটা কোনো কারণে বিষম খেয়েও কাশতে পারেন।

একজনের সর্দি হয়েছে মানেই তিনি করোনায় আক্রান্ত এমন নয়। তাঁর নর্মাল ফ্লুও হতে পারে। তবে ফ্লু আর করোনার সিম্পটম কিন্তু খুব সিমিলার। তাই সতর্ক থাকুন। কিন্তু অহেতুক আতঙ্কিত হবেন না। গুজবে কান দেবেন না। গুজব ছড়াবেন না।

পুনশ্চ: আমি ডাক্তার নই। তবে বায়োসায়েন্স নিয়ে একটা ডিগ্রি আছে। তাই ভাইরাসের ধরন নিয়ে এক আধটু জানি। সেই জ্ঞানের সাথে এখনকার কিছু মেডিকেল ওয়েবসাইট, WHO এর বিভিন্ন বুলেটিন ঘেঁটে লিখলাম।

ছবি: ইন্টারনেট

আপনার মতামত আমাদের প্রেরনাঃ-

%d bloggers like this: