সেই সব বিড়ালেরা

নিলয় বরণ সোম

সদ্য সদ্য, প্রদীপ রায়গুপ্তর পোষা বেড়ালের ওপর লেখা,’প্রিক্সির সঙ্গে নয় বছর’ বইটি পড়ার পর একটি আত্মোপলব্ধি হল।ব্যাপারটা হল, প্রচলিত অর্থে পশুপ্রেমী না হলেও বা সেভাবে কোন পশুপাখিকে না পুষলেও, কুকুরের তুলনায় বিড়াল আমার পছন্দের। নিজের হাতে করে দুধটা মাছটা না খাওয়ালেও, বিড়ালকে ঘিরে আমার কেমন একটা ‘আমি দূর হতে তোমাকে দেখেছি’ জাতীয় ফিলিং হয়।

বিড়ালের মধ্যে আসলে একটা আদুরে ভাব আছে। বাংলা ছড়ার সঙ্গে বাচ্চাদের যোগাযোগ হতেই এই একটা ছড়া সকলের মুখে মুখে ফেরে :”খোকা যাবে শ্বশুর বাড়ি/সঙ্গে যাবে কে/ঘরে আছে হুলো বেড়াল/ কোমর বেঁধেছে!” তবে এই ছড়াটির থেকেও আমার ছোটবেলায় পাঠ্য, অন্নদাশঙ্কর রায়ের লেখা,’ঘন্টা বাজে ঢং ঢং, বিড়াল যাবেন কালিম্পঙ’ ছড়াটিতে কোট প্যান্ট পরা বেড়ালের ছবিটি , ছড়াটির মতোই দুর্দান্ত লেগেছিল। ঢং ঢঙের সঙ্গে কালিম্পঙের মিল কী যে একটা মাধুর্য সৃষ্টি করেছিল, দার্জিলিং যাওয়ার অনেক আগে আমি কালিম্পঙ বেড়াতে গিয়েছিলাম।

এখন প্লে স্কুলে ভর্তির তাড়নায় , বাচ্চাদের ইংরেজি ছড়ার সঙ্গে পরিচয় হয় আগে। পাঁচিল ঘেরা এক চিলতে সেই প্লে স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরেও অল্পবয়সী মিসরা বাচ্চাদের নিশ্চয়ই দুলে দুলে এই ছড়াটি শেখান ,
“Pussy cat, pussy cat ,where have you been?
I’ve been to London to see the Queen.
Pussy cat, pussy cat, what did you do there?
I frightened a little mouse under her chair.”
একবার কী খেয়ালে এই ছড়াটির বাংলা অনুবাদ এরকম করেছিলাম,
ম্যাও পুষি , ম্যাও পুষি ,
গেছিলে কোথায় ?
লন্ডন গেসলাম ,
রানির সভায় !
ম্যাও পুষি , ম্যাও পুষি ,
করলে সেথা কী ?
ছোট্ট এক নেঙটিকে
ভয় পাইয়েছি !

কারো কারো অনুবাদটি পছন্দ হয়েছিল, তবে তারা কেউ শিশু নয়, বিড়াল তো নয়-ই!

গল্প কবিতায় বিড়ালকে শুধু আদুরে ভাবে দেখানো হয় নি, তাকে সবজান্তা প্রাণী বিশেষ হিসেবেও দেখানো আছে। হ-য-ব -র-ল তে, রুমাল থেকে হয়ে ওঠা বিড়াল কেমন সহজেই বলে দিল, “গরম লাগলে তিব্বত গেলেই পার!”তিব্বত যাওয়ার যে রুট বলেছিল,অর্থাৎ,“কলকেতা, ডায়মন্ডহারবার, রানাঘাট, তিব্বত” সেটি বোধহয় অতি সরলীকরণে দুষ্ট।এমনকী পাসপোর্ট ভিসার উল্লেখমাত্র করে নি সে।
তবে সবজান্তাগিরিতে তাকে টেক্কা দিয়েছে সুকুমার রায়ের পিতাশ্রী,অর্থাৎ উপেন্দ্রকিশোরের মজন্তালী সরকার।হাব ভাব আর আদব কায়দায় রাজার লোক বলে পরিচয় দিয়ে, খাজনার ভয় দেখিয়ে, বাঘ আর বাঘিনীকে ফ্যামিলি শুধু কী হেনস্থাই না করেছিল সে !গল্পের শেষে মারা গেলেও সে অন্তত এটা প্রমান করতে পেরেছে, কিছুদিনের জন্য কিছু লোককে অন্তত বোকা বানানো সম্ভব।

এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডে চেশ্যার বিড়ালটি (Cheshire Cat)রীতিমত দার্শনিক।এলিস কে সে বলেই দেয়, কোথায় সে যেতে চায় তা যদি নির্দিষ্ট না থাকে , তবে কোন পথ দিয়ে সে চলবে , সেটা কোনো ভাবার বিষয় নয়। তার আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল, সে বেমালুম হাওয়া হয়ে যেতে পারত, কিন্তু তার হাসিটি ঠিক দেখা যেত Iদাঁত বার করে হাসলে সাহেব সুবোরা নাকি একে ‘চেশ্যার হাসি’ বলে থাকেন।

বিড়ালকে নিয়ে উচ্চ দার্শনিকতার স্তরে পৌঁছে যাওয়ার নিদর্শন ইংরেজি সাহিত্যে আরো আছে। সাহিত্যের ছাত্র নই আমি, তবে এই মুহর্তে টি এস এলিয়টের ‘Old Possum’s Book of Practical Cats’ বইয়ের ছড়াগুলির কথা মনে পড়ছে। এর মধ্যে একটি মাত্র আমার জানা ছিল, বাকি ক’টা গুগল ঘেঁটে বের করলাম। সবথেকে ভাল লাগল ‘The Naming of Cats’I কবির মতে, প্রতিটি বিড়ালের নাকি তিনটি আলাদা আলাদা নাম থাকা আবশ্যক।প্রথমটি ডাক নাম,সেটা পিটার , অগাস্টাস,অজিলো বা জেমস হতে পারে,দ্বিতীয় নামটি ভদ্রসমাজে ব্যবহারের জন্য,ওই আমাদের কেউ কেউ ভুল ইংরেজিতে যাকে ‘গুড নেম’ বলে থাকেন,কিন্তু তার আরেকটি নাম দরকার, ভীষণ ভীষণ দরকার, সেটি তার নিজস্ব নাম।কবির বক্তব্য, কখনো বিড়ালকে গভীর ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দেখলে বুঝতে হবে, সে তার নামের চিন্তায় ব্যস্ত,তার একান্ত নিজস্ব নামের চিন্তায়।বিড়ালের মাধ্যমে হাজির করা হলেও এই নামের সন্ধান আসলে মানুষের আত্মানুসন্ধানেরও কবিতা।

একই সঙ্গে দার্শনিকতা আর মজার চরিত্র হিসেবে বিড়াল ছাড়া আর কোন প্রাণীকে আঁকা হয়েছে কিনা জানা নেই। মজার কথাই উঠলে পরে, টম আর জেরির নাম মনে আসবেই।সারাক্ষন খুনসুটি করতে থাকা দুই বন্ধুর জগতে সিনিয়ার পার্টনার তো টম-ই।তবে জেরির বুদ্ধির সঙ্গে টম কিন্তু প্রায় পেরে উঠত না।অন্তত তিনটি পর্যায়ের লেখকদের সৃষ্টি এই কার্টুন চরিত্রগুলো বাচ্চাদের কেন, বড়দের চোখও টিভি-কম্পুটারের ঘন্টার পর ঘন্টা পর্দায় আটকে রাখতে পারে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য জিনিস হল , বিড়াল ইঁদুরের সম্পর্ক তো একদমই সাপ-বেজির মত , সেখানে তাদের নিয়ে খুনসুটি মাখা প্রতিযোগিতা নিয়ে গল্প তৈরী করতে পারা কিন্তু সহজ কথা নয়।

বলতে গেলে ইঁদুর আর বিড়ালের ওই উপকথাটি আমরা অনেকেই জানি। এক মুদির দোকানে ইঁদুরের উৎপাত বন্ধ করার জন্য মুদি একটি বিড়াল পুষলেন। ইঁদুরদের মধ্যে ত্রাহি ত্রাহি রব, ক্যাজুয়ালিটি প্রচুর। পরিত্রানের জন্য ওদের মিটিং বসল। একটি ছোকরা ইঁদুর প্রস্তাব দিল, বিড়ালের ঘন্টা বেঁধে দিলে তারা আগাম সতর্ক হতে পারবে, বেঘোরে মারা পড়বে না। সবাই উৎসাহে প্রস্তাব সমর্থন করে প্রায় নাচ শুরু করে আর কি ! এসময় এক বিজ্ঞ , বুড়ো ইঁদুর মন্তব্য করল, কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে ? সব বেলুন চুপসে গেছিল I

যাই হোক ,যেদিন আমরা, সামাজিক মানুষ হোক,প্রতিবেশী দেশ হোক, নিজেদের টম জেরির পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবো , সেদিন পৃথিবীর অনেক সমস্যা এমনি দূর হয়ে যাবে।

দার্শনিকতা আর মজা ছাড়াও বিড়ালের প্রসঙ্গ একটি নাটকের শিরোনামে ব্যবহার ব্যবহৃত উঠে, -নাটকটির নাম, Cat on a Hot Tin Roof ।টেনিস উলিয়ামসনের এই নাটকের শিরোনামটি এমন করা হয়েছে মরিয়া ভাব বোঝানোর জন্য, তবে নাটকটিতে কিন্তু বিড়ালের কোনো চরিত্রে নেই!
পি জি উডহাউসের গল্পে বিড়ালেরা এসেছে, আসাটাই স্বাভাবিক। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে দুটি গল্পের কথা,’The Story of Webste’ আর ‘Cats will be cats.’।দু’টি গল্পেরই কেন্দ্রে চরিত্রদুটি , কথক মালিন্যারের হাজার সহস্র ভাইপোদের মধ্যে এক ভাইপো ল্যান্সলট, আর মার্জারপ্রবর ওয়েবস্টার।ল্যান্সলটের ধর্মপ্রাণ মামার আশ্রয়ে চরম ডিসিপ্লিনে ‘মানুষ’ ওয়েবস্টারকে যখন কিছুদিন রাখার ভার পড়ল জাত বোহেমিয়ান ল্যান্সালটের কাছে, তার ও তার বান্ধবীর তো মাথায় হাত। মদের নেশায আচ্ছন্ন করে বিড়ালটি কে ‘পথে আনার’ পর, তার দ্বারা কী করে আরো অসাধ্যসাধন হল, তার বর্ণনা আছে পরের গল্পটিতে।

বিড়ালের উপর আরেকটি বই সম্বন্ধে জানতে পারলাম,- Gerald’s Mistake: An Accidental Cat-astrophe। একটিমাত্র ভুল জেরাল্ড নামের বিড়ালটির জীবনে কী দুর্যোগ ডেকে এনেছিল , তার বিবরণ নাকি আছে বইটিতে। কথায় যে বলে, বিড়ালের নয়টি জীবন, এই বইয়ের ছত্রে ছত্রে নাকি এর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারা যায়।

সাদা, তুলতুলে তুলোর মত রোমের বেড়াল আল্হাদী হলেও কালো বিড়াল কিন্তু অশুভ ধরা হয়।দেঙ জিয়াও পিং যতই বলুন, কালো হোক বা সাদা , বিড়ালের গায়ের রঙে কিছু যায় আসে না, সে ইঁদুর মারতে পারলেই হলো, সাধারণ মানুষের ধারণা ভাঙা অত সহজ নয়।

তবে কালো বিড়াল তার মালিকের কাছে আদরের হতেই পারে। মনে পড়ছে সত্যজিৎ রায়ের ‘ব্রাউন সাহেবের বাড়ি’গল্পের কথা। ব্যাঙ্গালোরের এক পোড়ো বাড়িতে রাতের অন্ধকারে ঝুপ করে নেমে আসে একটি ইজিচেয়ার, চেয়ারে বসে থাকা টুপি পরা ব্রাউন সাহেবকে ঘিরে খেলা করতে থাকে কালো বিড়ালটি , আর তার খেলা দেখে অশরীরী বৃদ্ধ হাততালি দিয়ে আনন্দ করতে থাকেন, সাইমন, সাইমন!সাইমন,যে সাহেবের মৃত্যুর আগেই পরলোক প্রাপ্ত হয়েছিল। মৃত্যুর আগে ব্রাউন সাহেব তার ডায়রিতে লিখে গেছেন তাঁর উপলব্ধি,”যে আমাকে ভালবাসে, তার মৃত্যুর পরেও যে তার সে ভালবাসা অটুট থাকে, এই জ্ঞান লাভ করে আমি পরম শান্তি পেয়েছি।”

সত্যজিৎ রায়ের আরেক সৃষ্টি প্রফেসর শঙ্কুর পোষা বিড়াল নিউটন।তবে বিজ্ঞানের জগতে ডাকসাইটে বেড়াল হল ‘শ্রোরিনজারের বিড়াল’। কোয়ান্টাম ফিজিক্সে ‘ থট এক্সপেরিমেন্ট বলে একরকম ধারণা আছে।এরকম একটি থট এক্সপেরিমেন্ট,বিজ্ঞানী শ্রোরিনজার কল্পনা করলেন একটি মুখবন্ধ বাক্স আর তাতে বন্দী একটি বিড়াল, একটি বিষাক্ত গ্যাস ভর্তি ফ্লাস্ক আর একটি রেডিয়েক্টিভ উৎস। যদি রেডিয়েক্টিভ উৎসটি সক্রিয় হয়, অর্থাৎ এটম ভাঙা শুরু হয়, সেই বিকিরণে ফ্লাস্কটি ভেঙে বিষাক্ত গ্যাস বেরিয়ে আসবে, আর তাতে বিড়ালটির মৃত্যু হবে। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের এক দিকপাল কোপেনহেগেনের মতে, কোন একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে, বিড়ালটি একই সঙ্গে জীবিত ও মৃত হতে পারে। কিন্তু বাক্স খুলে যদি কেউ বাক্সের ভিতরটিতে দেখে , তাহলে সে পর্যবেক্ষক বিড়ালটিকে হয় জীবিত নয় মৃত দেখতে পাবে।কোয়ান্টাম তত্বের এই একটি গূঢ় জিজ্ঞাসা বিড়ালটির মাধ্যমে শ্রোরিনজার তুলে ধরলেন, ঠিক কোন সময়টিতে যৌথ সম্ভাবনাটি একটি মাত্র সম্ভাবনায় পাল্টে যা?।তত্ব হিসেবে এটি যথেষ্ট কঠিন, আমি কিছু বুঝি নি , আপনিও কিছু বুঝবেন না, না হলে আমার মান থাকে কোথায়!

বিজ্ঞান থেকে সাহিত্যে আবার। বিড়াল নিয়ে টি এস এলিয়টের দার্শনিক গভীরতার দেশজ প্রতিফলন যেন জীবানন্দ দাসের কবিতায়।

বিড়াল
সারাদিন একটি বিড়ালের সঙ্গে ঘুরে-ফিরে কেবলি আমার দ্যাখা হয়;
গাছের ছায়ায়, রোদের ভিতরে, বাদামি পাতার ভিড়ে
কোথায় কয়েক টুকরো মাছের কাঁটার সফলতার পর
তারপর শাদা মাটির কঙ্কালের ভিতর
নিজের হৃদয়কে নিয়ে মৌমাছির মতো নিমগ্ন হ’য়ে আছে দেখি;
কিন্তু তবুও তারপর কৃষ্ণচুড়ার গায়ে নখ আঁচড়াচ্ছে,
সারাদিন সূর্যের পিছনে-পিছনে চলছে সে।
একবার তাকে দেখা যায়,
একবার হারিয়ে যায় কোথায়।
হেমন্তের সন্ধ্যায় জাফরান-রঙের সূর্যের নরম শরীরে
শাদা থাবা বুলিয়ে বুলিয়ে খেলা করতে দেখলাম তারে
তারপর অন্ধকারকে ছোটো-ছোটো বলের মতো লুফিয়ে আনলো সে,
সমস্ত পৃথিবীর ভিতর ছড়িয়ে দিল।

ওপার বাংলার আজকের লেখিকা রশিদা সুলতানার ‘সাদা বিড়ালেরা’ বইটাতে গল্পের প্রোটাগনিস্টের এর ভয় আর সংকোচের শৈশবের আশ্রয় ছিল ব্যালকনি, যেখানে তার শরীর মন আত্মা মুক্তি পেত, আর কোন এক দুপুরে আকাশ থেকে নাকি নেমে আসে একদল সাদা বেড়াল। ভয়ে আর নিরাপত্তা বোধের অভাবে তার জীবন ছিল সাদা বিড়াল গুলির মত।

তবে সেই কোন কালে বেড়ালের মুখ দিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর কমলাকান্তের দপ্তরে যে মৌলিক প্রশ্নগুলো তুলেছিলেন, তার সমাধান আজও মেলে নি। প্রসন্ন গোয়ালিনীর দেওয়া দুধ বিড়াল চুরি করে খেয়ে ফেলায় কমলাকান্ত তাকে ঠেঙ্গা দিয়ে মারতে উদ্যত হয়েছিল।বিড়ালপাল্টা প্রশ্ন করেছিল , “দেখ, যদি অমুক শিরোমণি, কি অমুক ন্যায়ালঙ্কার, আসিয়া তোমার দুধটুকু খাইয়া যাইতেন, তবে তুমি কি তাহাকে ঠেঙ্গা লইয় মারিতে আসিতে ? বরং যোড় হাত করিয়া বলিতে, আর একটু কি আনিয়া দিব ? তবে আমার বেলা লাঠি কেন? তুমি বলিবে, তাঁহারা অতি পণ্ডিত, বড় মান্য লোক। পণ্ডিত বা মান্য বলিয়া কি আমার অপেক্ষা তাঁহাদের ক্ষুধা বেশী? তা ত নয়-তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না। যে খাইতে বলিলে বিরক্ত হয়, তাহার জন্য ভোজের আয়োজন কর-আর যে ক্ষুধার জ্বালায় বিনা আহ্বানেই তোমার অন্ন খাইয়া ফেলে, চোর বলিয়া তাহার দণ্ড কর-ছি! ছি!”

বিড়ালের নাতিদীর্ঘ ভাষণের পর কমলাকান্ত রুষ্ট হয়ে বলেন, “থাম! থাম মার্জ্জারপণ্ডিত! তোমার কথাগুলি ভারি সোশিয়ালিষ্টিক্! সমাজবিশৃঙ্খলার মূল! যদি যাহার যত ক্ষমতা, সে তত ধনসঞ্চয় করিতে না পায়, অথবা সঞ্চয় করিয়া চোরের জ্বালায় নির্ব্বিঘ্নে ভোগ করিতে না পায়, তবে কেহ আর ধনসঞ্চয়ে যত্ন করিবে না। তাহাতে সমাজের ধনবৃদ্ধি হইবে না।”

মার্জ্জার বলিল, “না হইলে ত আমার কি? সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ ধনীর ধনবৃদ্ধি। ধনীর ধনবৃদ্ধি না হইলে দরিদ্রের কি ক্ষতি?”

এই প্রশ্নের মীমাংসা আজও অধরা। বস্তুত , সভ্যতা এগিয়ে চলেছে , সঙ্গে আমরা। কিন্তু কতগুলো প্রশ্ন যে অমীমাংসীতই থেকে যাচ্ছে। কনফিকুয়াসের নামে একটি উদ্ধৃতি চালু আছে , “সবথেকে কঠিন কাজ হল অন্ধকার ঘরে কালো বিড়ালটিকে খুঁজে বার করা , বিশেষ করে ঘরটিতে যদি বিড়াল না থাকে!”
এই নিরন্তর সন্ধান,এই নিরন্তর অপ্রাপ্তির এই পৃথিবীতে একটু হাসি কি আনতে পারে কি, এইসব বিড়ালেরা?

পুনশ্চ:
১। এই লেখাটির সময় আমার কিছু কিছু সংশয় নিরসন করেছেন কজন বন্ধু, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।একই সঙ্গে গুগোলবাবাকেও ধন্যবাদ জানাই।
২। এক বন্ধু উল্লেখ করেছেন লীলা মজুমদার , শীর্ষেন্দু ও কুলদাশেখর রায়ের লেখায় বিড়াল চরিত্রগুলোর কথা – সেগুলো আমার পড়া নেই -ইন্টারনেটেও সূত্র পেলাম না। তাই বিস্তৃত লিখলাম না সেগুলো সম্পর্কে।
৩। সমসাময়িক লেখক লেখিকাদের মধ্যে প্রদীপ রায়গুপ্তর ‘প্রিক্সির সঙ্গে নয় বছর’ ও রশিদা সুলতানার ‘সাদা বিড়ালেরা’ বই দুটির উল্লেখ করেছি – যে দুটোতে যথাক্রমে প্রত্যক্ষভাবে ও প্রতীকী অর্থে বিড়ালদের উপস্থিতি আছে।এছাড়া , বুকফার্ম থেকে সদ্য প্রকাশিত, ত্রিদিবেন্দ্র নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের ‘কৌতূহল’ থ্রিলারটির মধ্যে ‘ বিড়াল শিকারের রোমাঞ্চকর কাহিন’ ও আছে।তিনটি বইই পড়ার মত।

আপনার মতামত আমাদের প্রেরনাঃ-

%d bloggers like this: