এক পোড়ো বাড়ির গল্প

গৌরব বিশ্বাস

“চারি দিকে কেহ নাই, একা ভাঙা বাড়ি,

  সন্ধ্যে বেলা ছাদে বসে ডাকিতেছে কাক।

নিবিড় আঁধার, মুখ বাড়ায়ে রয়েছে

  যেথা আছে ভাঙা ভাঙা প্রাচীরের ফাঁক।

পড়েছে সন্ধ্যার ছায়া অশথের গাছে,

  থেকে থেকে শাখা তার উঠিছে নড়িয়া।

ভগ্ন শুষ্ক দীর্ঘ এক দেবদারু তরু

  হেলিয়া ভিত্তির ‘পরে রয়েছে পড়িয়া।

আকাশেতে উঠিয়াছে আধখানি চাঁদ,

  তাকায় চাঁদের পানে গৃহের আঁধার।

প্রাঙ্গণে করিয়া মেলা উর্ধ্বমুখ হয়ে

  চন্দ্রালোকে শৃগালেরা করিছে চীৎকার”

                          -পোড়োবাড়ি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাংলা সাহিত্য বলুন বা বিলেতি সাহিত্য, ভূতের গল্পে পরিবেশ যে একটা বড় ভূমিকা পালন করে সেটা অস্বীকারের সুযোগ নেই। যে গল্পটা ধরুন উজ্জ্বল শহরের আলোয় বলা যায়, সে গল্পই যদি গড়ে ওঠে প্রত্যন্ত কোনো ভগ্নপ্রায় প্রাচীন রাজবাড়ি বা জমিদার বাড়ি ঘিরে সে ভূতের গল্পের আস্বাদই বেমালুম বদলে যায়। সাদামাটা ভূতের গল্পও একটা পোড়ো জমিদার বাড়ি বা রাজবাড়ীর কল্যাণে মুচমুচে স্পাইসি হয়ে ওঠে। বাংলা সাহিত্যের যে কোনো সাহিত্যিকের ভূতের গল্প একটু নেড়ে চেড়ে দেখুন, ওমুক বাড়ি তমুক কুঠি ওমুক বাংলোতে একরাত এমন গোটা কয়েক গল্প পাবেনই। সত্যি বলতে, ব্যক্তিগত ভাবে কোনো ভূতের গল্প সংকলনে এসব ধরনের গল্প গুলোই আগে পড়ি।

বিলেতি পোড়ো বাড়ি, ক্যাসেলের সাথে বাংলার পুরনো জমিদার বাড়ি বা রাজবাড়ি গুলোর স্থাপত্যরীতির পার্থক্য অবশ্যই আছে। ব্রাম স্টোকার বা এম আর জেমসের মতো ভিক্টোরিয়ান যুগের অলৌকিক গল্প শিল্পীরা তাঁদের দেশের পোড়ো বাড়ির বর্ননা দিয়েছেন, এ বাংলায় তেমন পোড়ো বাড়ি একেবারেই বেমানান। ভিক্টোরিয়ান যুগের  বেশীরভাগ লেখকের কলমে  বিলেতি পোড়ো বাড়ি যেন শুধুই অশুভ অশুচি কিছুর ইঙ্গিত। তার সাথে জড়িয়ে মধ্যযুগীয় সংস্কার শাপ। কিন্তু এ বাংলার পোড়োবাড়ি গুলোতে ইতিহাসের দুর্বার হাতছানি। পোড়োবাড়ী ঘিরে জমে ওঠা ইতিহাস, গল্প গাঁথাই এখানে হয়ে ওঠে গল্পের ভূত।

অতীতে সেই পোড়োবাড়িতে ঘটে যাওয়া করুণ কোনো কাহিনী, তাঁদের চরিত্ররাই ‘ভূত’ হয়ে দেখা দেয় বাংলার লেখকের কলমে। জমিদার বা রাজা মানেই প্রভুত ক্ষমতার অধিকারী। প্রভুত ক্ষমতার অধিকারী মানেই বিবেক বুদ্ধি টলে যাওয়া তাঁর অতি স্বাভাবিক ঘটনা। তাই পোড়ো বাড়ি ঘিরে করুণ ইতিহাসের খামতি নেই।  হয়ত, কোনো এক সুদূর অতীতে  জমিদার বাবু তাঁর নবোঢ়াকে পরিত্যাগ করে রাত কাটান অপর কোনো মেয়েমানুষের ঘরে। নবোঢ়া দিনের পর দিন এ মনোকষ্ট বুকে চেপে একদিন আফিম খেয়ে আত্মনাশ করলেন।

কিংবা ঘটনা হল এমন- নবোঢ়া দীর্ঘদিন স্বামী সঙ্গ  বঞ্চিত থেকে অবশেষে প্রেমে পড়লেন জমিদার বাবুর সামান্য এক গোমেস্তার। এমন পরকীয়া অবশ্য চাপা থাকল না। বাড়ির কোনো দাসী ঠিক একথা জমিদার বাবুর কানে তুলল। জমিদার বাবুর মানে লাগল। নিজের বিবি নাকি এক ছোটোলোকের সাথে প্রেম করে বেড়াচ্ছে! অতএব বন্দুকের গুলিতে দুজনকেই করলেন নিকেশ।

বড় বাড়ির এসব গুহ‍্য খবরে চিরকালই প্রজাদের বড় উৎসাহ। এ বাংলার জমিদার বংশ গুলোর ইতিহাস ঘাঁটলে বংশ গুলোর কোনো না কোনো জেনারেশনে এমন ঘটনা মোটেই অপ্রতুল নয়।  লোকমুখে অতিরঞ্জিত হয়ে এঘটনা হয়ে ওঠে লোকশ্রুতি। এই লোকশ্রুতি ভর করেই সাদা কাগজে পড়ল লেখকের কলমের আঁচড়। অভিশপ্ত সেই জমিদার বাড়িতে ভূত সত্যিই আছে কিনা যাচাই করতে গেল, কয়েকজন তরুণ। তারপর তাদের সামনে ঘটল সেই সুদূর অতীতের পুনরাভিনয়। এভাবেই জন্ম নেয় পোড়ো বাড়ি ঘিরে বাংলার ভূতের গল্পেরা।

পোড়ো বাড়িদের বর্ণনায় প্রত্যেক লেখকের নিজস্বতা থাকলেও, তাদের মধ্যে মিলও রয়েছে বিস্তর। যেহেতু অতীতে একটা বড় সময় ধরে বাংলার ধনী ব্যক্তিদের অট্টালিকা গুলোর গঠনরীতি ছিল মোটামুটি একই।

রবিবাবুর নিশীথে গল্পে জমিদার দক্ষিণাচরণের অট্টালিকা ছিল বরানগরে গঙ্গার ধারে। বাস্তবিকই একসময়ে বরানগর ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে বহু ধনী জমিদার তাঁদের অট্টালিকা তুলেছিলেন। সেসব এখন ভগ্নপ্রায়। পোড়োবাড়ি। প্রবোধকুমার সান্যাল ‘ডাক্তারের সাহস’ বলে একটা ভূতের গল্প লিখেছিলেন। সে গল্পে বরানগরের ধারেই এক পোড়ো জমিদার বাড়ির বর্ননা দিচ্ছেন শুনুন-‘ বাড়িটা এখানকার পূর্বকালের জমিদার বংশের। এখন সেই জমিদারও নেই তাদের সেই আগেকার ঐশ্বর্য্যও নেই। কেউ মরে গেছে। কেউ ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু এই অট্টালিকা এখনও তার ভগ্নশরীর নিয়ে অতীত কালের স্থবীর প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাড়িটা জনহীন। নানা আগাছায় পরিপূর্ণ, বাদুড় আর চামচিকের বাসা। শেয়াল আর সাপের অবাধ লীলাভূমি। শুধু তাই নয়, লোকের বিশ্বাস এ বাড়িতে নাকি কোনো কোনো গভীর রাতে মানুষের কান্না শোনা যায়। আগেকার সেই জমিদারের দুটি মেয়ে নাকি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল’।

বরানগর সংলগ্ন দক্ষিণেশ্বরে আমার মাসির বাড়ি। দক্ষিণেশ্বরের ভিতরের দিকেও ওমন একটি অতিকায় পোড়ো অট্টালিকা রয়েছে। দিনের আলোয় বার কয়েক দাঁড়িয়েও থেকেছি বাড়িটার সামনে। কিন্তু ঢোকবার সাহস হয়নি। অশরীরী অস্তিত্ব যাচাইয়ের সুযোগও তাই আসেনি। রবীন্দ্রনাথ মণিহারা গল্পে মাত্র কয়েকটি শব্দবন্ধে কী অসাধারণ বর্ননা করেছিলেন ফণিভূষণের পরিত্যক্ত অট্টালিকার-‘ জানালা-ভাঙা বারান্দা-ঝুলিয়া-পড়া জরাগ্রস্ত বৃহৎ অট্টালিকা’।

বাংলা সাহিত্যের ভূতের গল্প স্পেশালিষ্ট হেমেন রায়, হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এদের বহু গল্পে ঝুড়িঝুড়ি পোড়ো বাড়ির বর্ননা রয়েছে। প্রেমেন মিত্তিরের ভূত শিকারী মেজোকর্তা সিরিজে বাঘা বাঘা সব পোড়ো বাড়ির গল্প। ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় একটা ভূতের গল্প লিখেছিলেন-‘বোড়ালের সেই রাত’। সেই গল্প থেকে পোড়ো বাড়ির একটুকরো বর্ননা তুলে দিলাম-‘ …ওখানে গিয়ে বিকেলের দিকে গ্রামের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াবার সময় হঠাৎ গ্রামের প্রান্তে একটা ভাঙা বাড়ি দেখে অবাক হয়ে গেলাম। কি চমৎকার বাড়ি! কোনো রাজা মহারাজার ছিল বোধহয়। কিন্তু এখন তার এমনই হতশ্রী চেহারা, যে দেখলে দুঃখ হয়…সবচেয়ে রহস্যময় ব্যাপার এই যে, বাড়িটি পরিত্যক্ত এবং বসবাসের অযোগ্য হলেও এর কাঠামো এমন মজবুত যে, একে সারালে আবার এ তার পূর্বরূপ ফিরে পাবে। ছাদের আলসের কার্নিশ এখনও অক্ষত। অর্থাৎ ভাঙা বাড়ি কিন্তু ধ্বংসস্তূপ নয়”।

 রঘুনাথ পুরের  পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি আর উত্তর পশ্চিমের সেই কুখ্যাত ঘর, বাংলার ভৌতিক সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে সত্যজিতের এ গল্প অতি পরিচিত।

বাংলার ভৌতিক সাহিত্যে পরিত্যক্ত বা পোড়ো বাড়ির বর্ননা পড়তে পড়তে পোড়ো বাড়ির পরিত্যক্ত রূপের মোটামুটি একটা স্পষ্ট অবয়ব তৈরী হয়ে যায় পাঠক মনে।  মানস  কল্পনার সেই স্পষ্ট অবয়বটির যদি বাস্তব অস্তিত্ব থাকে এ দুনিয়ায়? পোড়ো বাড়ির রূপ নিয়ে আপনার আমার মনে লালিত দীর্ঘ ফ্যান্টাসি যদি হঠাৎই বাস্তবে হাজির হয়? আছে। তেমন একটি বাড়ি আছে খোদ এ বাংলাতেই। এ বাড়ি দেখলে মনে হবে, পোড়ো বাড়ির যদি কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা বা প্যারামিটার থাকত, এ বাড়িটি হতে পারত সেই প্যারামিটার বা সংজ্ঞা। যেন ঠিক বইয়ের পাতা থেকে হবহু উঠে আসা। নিপুণ এক লেখকের একেকটি কলমের আঁচড়ে একেকটি শব্দবন্ধের বর্ণনায় গড়ে উঠেছে এ বাড়িটা। ভূতের গল্পতে পড়া  একদম পারফেক্ট পোড়োবাড়ি। বীরভূমের রাইপুর গ্রামের এককালের জমিদার সিনহা পরিবারের অট্টালিকা।  এ বাড়ির গল্প করতেই এত গৌরচন্দ্রিকা করা।

 গিয়েছিলাম শান্তিনিকেতন বেড়াতে। দিন দুয়েকের শর্ট টুর। হাতে সময় কম, সঙ্গে নিজেদের গাড়ি তাই বাঁচোয়া। গাড়ি চড়েই লাট্টুর মতো সারাদিন দৌড়ে বেড়াচ্ছি। রবিবার মানে গতকাল ফিরলাম বাড়িতে। দুপুরে রওনা দিলে সন্ধ্যে নাগাদ বাড়ি ঢুকে যাব।  বিশ্বভারতী মিউজিয়াম খোয়াইয়ের হাট সব দেখে ফেলছি। রবিবারের সকালটা আশেপাশের আরও কয়েকটা জায়গা দেখতে পারলে মন্দ হয়না। আশে পাশে আর দেখার মতো আছে ওই সুরুলের রাজবাড়ি। পুরনো। কিন্তু বেশ ওয়েল মেইন্টেনড। পুজো পার্বণ নিয়মিত হয় এখনও। সুরুল রাজ পরিবারেরই বর্তমান এক প্রবীণ উত্তরাধিকারের সাথে গল্প করছিলাম। কথায় কথায় উনিই সন্ধান দিলেন, রাইপুরের এই ভগ্নপ্রায় জমিদার বাড়ির। গাড়িতে যেতে মিনিট দশেকও লাগল না।

ঝোপেঝাড়ে ঢাকা পেল্লায় অট্টালিকা। শান্তিনিকেতনের এককালীন জমিদার সিনহা পরিবারের প্রতিপত্তির চিহ্ন। ঘরদোর কিছুই আস্ত নেই। উপরের তলায় উঠবার সিঁড়ি মাঝখান থেকে ধসে পড়েছে। প্রশস্ত উঠোনের মাঝে সুবিশাল এক কুয়ো। নোংরায় মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় তিনশো বছরের পুরনো বাড়ি। এখন পুরো গঠনটাই  জঙ্গলাকীর্ন। দিনের বেলাতেও কেমন একটা গা ছম ছম করে। বাড়ির পরিবেশটার মধ্যে একটা ক্রিপি ফিলিংস রয়েছে। যদিও এ অনুভূতি একান্ত ব্যক্তিগত। তবে এমন জম্পেশ পোড়ো বাড়িকে বহু সিনেমার পরিচালকই কাজে লাগিয়েছেন। সন্দীপ রায়ের যেখানে ভূতের ভয় বা ইদানীং কালের ‘ভূত চতুর্দশী’। এমন জম্পেশ লোকেশন পেলে ক্যামেরাম্যানের খাটুনি এমনিতেই কমে যায়।  আলাদা করে সেট বানাবারও প্রয়োজন পড়ে না।

এ বাড়িতে অশরীরী অস্তিত্ব আছে না নেই সেসব তর্ক সাপেক্ষ। তবে এ বাড়ির একটা ভূত অর্থাৎ ইতিহাস বা অতীত অবশ্যই আছে। শোনা যায়,  সেসময় শান্তিনিকেতনের জমিদার ছিলেন ভুবন মোহন সিনহা। যার নামে শান্তিনিকেতনের ভুবনডাঙ্গা। সেসময় একবার রাইপুরে সিনহা জমিদার বাড়িতে অতিথি হয়ে এলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ।  মহর্ষির বড় পছন্দ হয়ে গেল শান্তিনিকেতন।  বন্ধু ভুবন মোহন সিনহার কাছ থেকে একটাকার বিনিময়ে জমি কিনে বানালেন আশ্রম।

সে বছরেই সিনহা পরিবারে এল নতুন বংশধর। নাম রাখা হল-সত্য প্রসন্ন। সে ছেলে বড় হয়ে বিলেত পড়তে গেল।  আইন পড়ে এদেশে এসে হলেন দুঁদে আইনজীবী। ব্রিটিশ ভাইসরয় কাউন্সিলের প্রথম ভারতীয় সদস্য। প্রথম ব্যারন।  সেদিন লন্ডন গেজেটেও বড় করে বেরোলো খবর-‘ The king has been pleased…..  dignity of a Baron of the said  United Kingdom upon the right honourable Sir Satyendra Prasanna Sinha, Knight…Baron Sinha of Raipur in the presidency of Bengal'( The London Gazette, 21 february, 1919) পেলেন নাইট উপাধি। বিহার প্রভিন্সের প্রথম ভারতীয় গভর্নর। রাইপুরের জমিদারের সন্তান হলেন-লর্ড সিনহা’। যাঁর নামে এ শহরে রাস্তাও রয়েছে। এসব বহুকালের পুরনো ইতিহাস। সিনহা পরিবারের এ অট্টালিকা প্রায় একশ বছরের বেশি সময় ধরেও পরিত্যক্ত। তবে সিনহা পরিবারের বর্তমান সদস্যরা এখনও বাস করেন রাইপুরে।

 যে কবিতার অংশ বিশেষ উদ্ধৃতি করে শুরু করেছিলাম এ লেখা, সে কবিতা যখন লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ , তখন তিনি নিতান্তই যুবক। রাইপুরের সিনহা জমিদার বাড়িতেও তখন প্রাণের হুল্লোড়। অথচ, রবীন্দ্রনাথের এই কবিতার  শেষ অংশের সাথে কী আশ্চর্য ভাবে মিলে যায় এ বাড়ির বর্তমান দৃশ‍্য-

‘ শুধাই রে, ওই তোর ঘোর স্তব্ধ ঘরে

  কখনো কি হয়েছিল বিবাহ-উৎসব?

কোনো রজনীতে কি রে ফুল্ল দীপালোকে

  উঠেছিল প্রমোদের নৃত্যগীত রব?

হোথায় কি প্রতি দিন সন্ধ্যা হয়ে এলে

  তরুণীরা সন্ধ্যাদীপ জ্বালাইয়া দিত?….

কত নিমেষের কত ক্ষুদ্র সুখ দুখ?

মনে পড়ে সেই সব হাসি আর গান–

  মনে পড়ে–কোথা তারা, সব অবসান!’

এখন শুধু এ অট্টালিকায় সেলফি শিকারীদের ভীড়। প্ৰি ওয়েডিং ফটো শ‍্যুট। জ্যান্ত মানুষেরা ভূতের চেয়েও অদ্ভুত!

ছবিঃ লেখক

আপনার মতামত:-

%d bloggers like this: