চাঁদের পাহাড়ের দেশে চারদিন

অম্বর রায়

আফ্রিকা, বাঙালির কাছে এই নামটার মধ্যেই কেমন একটা রোমাঞ্চ লুকিয়ে আছে। বিভূতিভূষণ এর আরণ্যক থেকে শুরু করে চাঁদের পাহাড়, জঙ্গল মানেই একটা অন্য জগৎ, যেন একটা অজানা রহস্যময় পরিবেশ।

শীতের বেলায় অনেক কাকুতি মিনতি করে ৪ দিনের ছুটি জোগাড় করেছিলাম অফিস থেকে, যেহেতু চটজলদি প্ল্যান তাই ভিসা অন্‌ অ্যারাইভাল কান্ট্রি খুঁজতে লাগলাম।

পরিশেষে সহধর্মিনীর সহমতে আর আমার সাড়ে ৩ বছরের ছেলের কথা মাথায় রেখে স্থির হলো কেনিয়া,আফ্রিকা। কাতার এয়ারলাইন্স্‌-এ চাকরি করার সুবাদে বেশ কিছু কেনিয়ান সহৃদয় বন্ধু ছিল, তাই বাকি অ্যারেঞ্জমেন্ট করতে খুব একটা অসুবিধা হলো না। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো যে, কয়েকটা হাতে গোনা জায়গা ছাড়া আফ্রিকা কিন্তু খুব একটা সেফ না, স্পেশালি আউটস্কার্টস । সুতরাং গাইডেড ট্যুর নেওয়াই সুস্থতা।

দোহা থেকে সরাসরি ফ্লাইট এ নাইরোবি, খুব সহজ ইমিগ্রেশন প্রসেস্‌ , ৫০$/হেড করে ৩০ মিনিটে এয়ারপোর্ট এর বাইরে। অপেক্ষারত ট্যুর ম্যানেজারের সাথে দেখা করে সোজা চলে গেলাম হোটেল।

প্রথম দিন

রাতটুকু কাটিয়েই সক্কাল বেলা চলে গেলাম নাইরোবি জিরাফ সেন্টারে। জিরাফের সাথে একসাথে প্রাতরাশ সেরে, বেরিয়ে পড়লাম নাকুরুর উদ্দেশ্যে।

নাইরোবি জিরাফ সেন্টারে

নাকুরু হলো কেনিয়ার অন্যতম বড়ো শহরের মধ্যে একটা। নাইরোবি শহরের মধ্যে একটু ট্রাফিক জ্যাম অনুভূত হলো, কিন্তু শহরের বাইরে বেরোতেই লাল মাটির ঢালু পথ, কেমন একটা বাঁকুড়া পুরুলিয়া ফিলিংস্‌ দিচ্ছিল। ভুল ভাঙলো সারিবদ্ধ ভাবে পথের ধারে বসে থাকা বেবুন- এর দল দেখে, আমাদের দেশে হলে হনুমান বা বাঁদর দেখা যেত বেবুন না।

ঘণ্টা দুয়েক চলার পর ড্রাইভার কে অনুরোধ করলাম একটা ছোট বিরতি দেবার জন্য। উত্তরে উনি জানালেন কিছু টা দূরেই নাকি একটা ফটো শ্যুট পয়েন্ট আছে। যথাযত মিনিট ২০ পরে গাড়ি এসে দাঁড়ালো এক পাহাড়ি উপত্যকার পাশে।

নাকুরু যাওয়ার পথে

যতদূর চোখ যায় ততদূর বিস্তৃত সবুজ গালিচায় মোড়া সেই উপত্যকার সৌন্দর্য আস্বাদনের ফাঁকে কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করলাম। এটাই হলো ” দ্য গ্রেট রিফট্‌ ভ্যালি ” যার বিস্তার ৯৬০০ কিমি। মোজাম্বিক থেকে শুরু করে ৩ টি দেশ ছাড়িয়ে জাম্বিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

দ্য গ্রেট রিফট্‌ ভ্যালি

নাকুরুর পথে আরো কিছুটা এগোতেই রাস্তার ধারে হরিণ বা জিব্রার আনাগোনা খুব একটা অস্বাভাবিক ছিল না। বর্তমান আরবান লাইফের ঘেরাটোপে চোখ থেকে সবুজ রংটা সত্যি হারিয়ে গেছে, কিন্তু পাঁচ ঘন্টার এই সুদীর্ঘ যাত্রায় সেটা যেন ধীরে ধীরে ফেরত পাচ্ছিলাম, যেদিকে তাকাই শুধু সবুজের মেলা, তারই মাঝে তৃণভোজী দের অবাধ বিচরণ, মুহূর্ত গুলোকে আরো জীবন্ত করে তুলেছিল। এসব দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম নাকুরু নেশানাল রিজার্ভ ফরেস্ট লজ। ঘড়িতে তখন প্রায় আড়াইটা।

নাকুরু রিজার্ভ ফরেস্ট, জেব্রা

রাস্তা থেকেই হোটেল-এ ফোন করে লাঞ্চ এর জন্য বলে দেওয়া হয়েছিল, তাই আতিথেয়তা থেকে খাবার-দাবার সব কিছুতেই একটা পরিপাটির ছোঁয়া ছিল। খেতে যাবার সময় ড্রাইভার বলেদিয়েছিলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রেডি হতে। তাহলে সন্ধ্যে নামার আগেই আমরা জঙ্গল এর সাথে প্রাথমিক পরিচয় টা করে নেওয়া যাবে।

সেইমতো একদম বেলা ৪ টে নাগাদ রওনা দিলাম জঙ্গলের দিকে, উত্তেজনা আর ভয় সব নিয়ে প্রথম দেখা পেলাম বাইসন, সুবিশাল চেহারা, র ইয়াব্বর পাকানো সিং জোড়া নিয়ে কেমন পাত্তা না দেবার ভঙ্গিতে আমাদের দিকে একবার তাকিয়ে পুনরায় ভোজনে মন দিলো। কিছুটা এগোতেই আস্তে আস্তে দেখা পেলাম ইজিপসিয়ান গিস্‌ (Egyptian Geese), ডবল হর্ন রাইনো (Double horn Rhino), জেব্রা (Zebra), ডিয়ার (Deer) সবকিছুর ই। একবার তো গাড়ি দাঁড় করাতে হলো জিরাফের পালকে রাস্তা দিতে গিয়ে।

ডবল হর্ন রাইনো (Double horn Rhino)

এরপর পৌঁছালাম বহু অপেক্ষিত নাকুরু লেক,আশা করে এসেছিলাম ফ্লেমিঙ্গো (flamingo) দেখবো। একসময় এখানে এত ঝাঁকে ঝাঁকে ফ্লেমিঙ্গো থাকতো যে স্যাটেলাইট পিকচার- এ নাকুরু লেক গোলাপি দেখাতো। কিন্তু আমাদের আশায় জল ঢেলে ঝাঁক তো দূরের কথা , হাতে গোনা কয়েকটা ফ্লেমিঙ্গো দেখা গেল, তবে পেলিকান (pelican) দের একটা বড়সর কমিউনিটি ওখানে এখন রাজ করছে সেটা বোঝা গেল। স্থানীয় সিকিউরিটি পারসন্‌- এর থেকে জানলাম নাকুরু লেকের জলস্তর বেড়ে যাওয়ার জন্য ফ্লেমিঙ্গোরা আর এখানে আসে না। কারণ ফ্লেমিঙ্গোর ঠোঁট এর গঠন গভীর জল থেকে খাবার সংগ্রহের জন্য প্রতিকূল।

ফেরার পথে রাস্তার ধারে এক পাইথন কে দেখলাম পড়ে থাকতে। মনে হলো বড়সড় কিছু একটা গর্ভস্থ করে আর নড়তে পারছে না। ন্যাশনাল পার্ক থেকে যখন বেরোলাম, আঁধার ঘনিয়ে ঘড়িতে তখন প্রায় ১৯ঃ১৫।পরের দিন সক্কাল বেলা রওনা দেব মাসাইমারা। মনের মধ্যে সেই উত্তেজনা বজায় রেখেই শুতে গেলাম।

গোধূলি নাকুরু
দ্বিতীয় দিন

ঘুম ভাঙল বারান্দার কাঁচে কারো নকিং-এর আওয়াজে, ভাবলাম হয়তো ওয়েটার চা দিতে ডাকছে। পর্দা সরাতেই দেখি আস্ত কয়েকটা বেবুন আমাদের বারান্দায় কুমির ডাঙা খেলতে ব্যস্ত। আমার ছোটা ভীম তো বেজায় খুশি ওদের দেখে। কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে পুরো ৮ টায় বেরোলাম, গন্তব্য “মাসাই মারা” (Maasai mara)।

প্রায় ৫ ঘন্টার জার্নি। যেদিকে তাকাই কেবলই সবুজ, পাহাড়ের গায়ে যত্ন করে লাগান বিভিন্ন শাক সবজি, ফুল এবং ফলের চাষ। আর তার উপর সকাল বেলা রোদের বিচ্ছুরণ আমাদের যাত্ৰাপথ কে সত্যি নয়নাভিরাম করে তুলেছিল। ঠিক বেলা দুটো , পৌছালাম জাম্বো মারা লজ। মাসাই মারা।

মাসাইমারা যাওয়ার পথে, প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি

এক্সসাইট্মেন্টটাকে অনেক্ষন ধরে আটকে রেখেছিলাম। তবে আর না, ৬ ঘন্টার ড্রাইভের ক্লান্তি, পেটে খিদে সব কিছুকেই কেমন গৌণ মনে হচ্ছিল।

চটজলদি লাঞ্চ সেরেই বেরিয়ে পড়লাম জঙ্গল সাফারি। জঙ্গলে ঢোকার মুখেই দুটো ইম্পালা (Impala) শিংয়ের লড়াই দেখিয়ে অভ্যর্থনা জানালো। কিছুদূর যেতেই দেখা পেলাম একজোড়া চিতার। গাছের তলায় বসে রোদ সেঁকছে।

টোপী, সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা

খোলা আকাশের নিচে এমন প্রাণী গুলোর এমন স্বাধীনচেতা ভঙ্গি দেখে , “বন্যরা বনে সুন্দর’ কথাটা সত্যিই যথার্থ বলে মনে হলো। আগামী আরো দু ঘন্টায় কতিপয় জন্তু জানোয়ারের সাথে পরিচিত হলাম। ড্রাইভার কাম গাইড এর কাছ থেকে জানতে পারলাম তাদের বৈশিষ্ট্য সম্মন্ধে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে আমরাও ফিরি হোটেলের পথে। ০৬ঃ৩০ pm এর পরে জঙ্গলে থাকা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কড়া সিকিউরিটি থাকা সত্তেও এখানে চোরাশিকারি বা পাচারকারী দের আনাগোনা আছে। তাড়াতাড়ি ডিনার সেরে শুয়ে পড়লাম, পরের দিনটা পুরোটাই জঙ্গলে কাটবে।

তৃতীয় দিন

ড্রাইভারের নির্দেশ মতো সক্কাল ব্রেকফাস্ট সেরে সকাল ৭ টায় রওনা দিলাম , বিশ্ববিদিত আফ্রিকান পশুরাজ এর সাথে পরিচয় তো বাকিই রয়ে গিয়েছিল। তবে সেই পরিচয় যে এত ক্লাইম্যাক্সপূর্ণ হয়ে যাবে সেটা বোধহয় আমাদের কেউই আশা করতে পারিনি। বেশ ইম্পালা আর টোপী (Topi) দের দেখতে দেখতে এগোচ্ছিলাম।

টোপী, মাসাইমারা

একটা পাথুরে টিলাকে পাস কাটাতেই দেখি পশুরাজ বিশ্রামরত, শীতের মিষ্টি রোদের আনন্দ নিচ্ছে।

বিশ্রামরত পশুরাজ…মাসাইমারা

আর একটু এগোতেই বুঝলাম রাজা একা না রানীরাও আছেন। অদূরেই একটা গাছের ডালে দুটি সিংহী একসাথে চোখে পড়ল। আমরা একটু কাছে যেতেই একটা কেমন বেপরোয়া ভঙ্গিতে নেমে চলে গেল। আমাদের উপস্থিতিটা পছন্দ হলো না নাকি অন্য কোনো অভিপ্রায় ছিল সেটা তক্ষুনি বোঝা গেল না।

শিকারি ভঙ্গিতে রানী, মাসাইমারা

গুটি গুটি পায়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়ে ঝোপের মধ্যে মিলিয়ে গেল। অন্যটি কিন্তু খুব তীক্ষ্ণ নজরে বেশ দূরে কিছু একটা লক্ষ করছিল। আমাদের ড্রাইভারের অভিজ্ঞ চোখ বললো ওরা শিকারের দিকে নজর রাখছে।

বাঁক ঘুরতেই দেখলাম প্রথমটি ঝোপের মধ্যে থেকে বেরিয়ে নিমেষের মধ্যে ধাওয়া করেছে একটা টোপীর বাচ্ছাকে। বাচ্ছা বলে একটু দলছুট হয়েছিল, তার খেসারত দিতে হলো প্রাণ দিয়ে। চোখের পলক ফেলার আগেই ঝাঁপিয়ে পড়লো বাচ্ছা টোপীটার ওপর। চোখের সামনে এমন একটা নৃশংস দৃশ্য দেখতে মনে মনে একটু খারাপ লাগলো। কিন্তু জঙ্গলের এটাই নিয়ম। এমন দৃশ্য ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিক ছাড়া সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করতে পারবো কখনো ভাবিনি।

প্রাতরাশের সময়, মাসাইমারা

তারপর চললাম আফ্রিকান হাতি দেখতে। একটা দাঁতালের তাড়াও খেলাম।

তারপর একে একে মাসাই জিরাফ, বাইসন, রাইনো, হিপ্পো সবই দেখা হল। শেষে একটা গাছ দেখে ছাওয়ায় বসে একটু পেটপুজো করব ঠিক করছি, আবার সেই অভিজ্ঞ চোখ সাবধান করলো। ড্রাইভার এর নির্দেশে গাছটা থেকে একটু দূরে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম। কিছু একটা নড়ছে। হঠাৎ এক বিশাল চিতার আত্মপ্রকাশ। এত কাছ থেকে দেখে একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরক্ষণেই দেখি চিতা একা না, সাথে ছ-ছটা চিতা শাবক। কি অসম্ভব মিষ্টি দেখতে। পাড়ার কুকুরের হলে নির্ঘাত একটু চটকে দিয়ে আসতাম। কিন্তু এ তো বাঘের বাচ্ছা তাও আবার খোলা জঙ্গলে। শখটাকে মনের মধ্যেই সমাধিস্থ করে ওদের লক্ষ্য করতে লাগলাম।

মায়ের সঙ্গে শাবকদের দল…মাসাইমারা

ওরা একটু দূরে যেতেই ড্রাইভার বললো, গাছের তলায় বসে পিকনিক লাঞ্চটা সেরে ফেলি। আমিতো হতবাক , বেটা বলে কি, যেখানে কয়েক মুহুর্ত আগে সাত সাতটা জলজ্যান্ত বাঘ ঘোরাফেরা করছিল সেখানে বসে লাঞ্চ। কখনোই না। আমি বাধ সাধলাম। কিন্তু কে কার কথা শোনে। ততক্ষনে ড্রাইভার ভায়া অলরেডি লাঞ্চ পরিবেশনে ব্যাস্ত। উপায়ান্তর না থাকায় শিরদাঁড়ায় শিরশিরানী নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লাঞ্চ করলাম। বসবার মতো র সাহস করে উঠতে পারলাম না।

ঐতিহাসিক পিকনিক লাঞ্চ

লাঞ্চ পরবর্তী আরো ঘন্টা দুয়েক ঘুরে যখন মাসাইদের গ্রামে গিয়ে পৌঁছলাম , ঘড়ির কাঁটা তখন বিকাল ৫ তা ছুঁয়েছে।

নিস্পাপ মাসাই শিশুর হাসি

মাসাইদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে অবগত হলাম। সেখানে ছেলেদের নিজেকে প্রাপ্তবয়স্ক প্রমান করতে এখনও খালি হাতে সিংহ মেরে দেখাতে হয়। ওষুধ বলতে এখনো ওরা ১০০% ভেষজ গাছের ওপরে নির্ভরশীল।

মাসাইদের হস্তশিল্প

শরীরে অতিরিক্ত শক্তির জন্য গৃহপালিত পশুর কাঁচা রক্ত চুসে পান করে। ওদের সাহায্যার্থে কিছু মেমেন্টো কালেক্ট করে এবার ফেরার পালা। ঠিক ৭ টায় হোটেলে ঢুকলাম।

গোধূলির মাসাইমারা
চতুর্থ দিন

পরের দিন সকাল সকাল তৈরি হয়ে নিলাম, উদ্দেশ্য ণাইভাসা লেক (Naivasa Lake)। প্রায় ৫ ঘন্টার রাস্তা অতিক্রম করে ণাইভাসা পৌঁছোলাম প্রায় বেলা ১.৩০। রোদ, বৃষ্টির আর মেঘের লুকোচুরির সাথে জলে থৈ থৈ করা ণাইভাসা লেকে ঘন্টা ২ এর বোটিং ছিল নিতান্তই উপভোগ্য। সন্ধ্যায় নাইরোবি ফিরে এলাম। শহরে ঢোকার রাস্তায় পুনরায় বেশ ভালো ট্রাফিক জ্যামে পড়তে হলো। আজকের ডিনারটা প্যাকেজে ছিল না। তাই আগেই ঠিক করেছিলাম ফোগো গাউছো (‘Fogo Gaucho’) অথবা কারনিভর (‘Carnivor’) এ করবো। দুটি বিখ্যাত মাংসের রেস্তোরা (Meat specialist shop)। এদের খাবারের স্বাদ এবং পরিবেশনা দুটোই উল্লেখের দাবি রাখে। ২৫$ জনপ্রতি বুফে। নৈশভোজ শেষে হোটেলে একটু ফ্রেশ হয়ে নিয়ে সোজা এয়ারপোর্ট।

সর্বসাকুল্যে অভিজ্ঞতা বলতে খুবই উপভোগ্য বলবো, প্রকৃতি কে এত কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা সব ট্রিপে হয়ে ওঠেনা। ছোট্ট ৩ বছরের ছেলেকে সিংহ দেখাতে গিয়ে আমরাও সত্যি কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রইলাম।

রুট – কলকাতা থেকে দুবাই বা দোহা হয়ে নাইরোবি, অথবা বোম্বে – নাইরোবি এয়ার ইন্ডিয়ার ডিরেক্ট ফ্লাইট আছে। নাইরোবি থেকে লং রোড জার্নি আর নিরাপত্তার জন্য প্যাকেজ নেওয়াই সবথেকে ভালো।

আবহাওয়া খুব ই ভালো, সর্বোচ্চ ৩০, সর্বনিম্ন ১৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস (শীতকালে)।
জনপ্রতি খরচ মোটামুটি ৬০০-৮০০ $ এবং অবশ্যই থাকার হোটেল অনুসারে ওঠানামা করবে। এই খরচ অবশ্যই ফ্লাইট ফেয়ার ছাড়া।

জলের অভাবটাও বেশ অনুভব করেছি, তাই প্যাকেজ নেওয়ার আগে অবশ্যই পর্যাপ্ত জল তাঁর মধ্যে ধরা আছে কি না, সেটা অবশ্যই দেখে নেবেন।

আগেই বলে দি, একেবারে নিজস্ব অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম, কারো ভালো লাগলে বা উপকৃত হলে আমারও ভালো লাগবে। লেখায় কিঞ্চিত ভুল ত্রুটি থাকলে মার্জনা করবেন।

আপনার মতামত আমাদের প্রেরনাঃ-

%d bloggers like this: