চলো আমরাই, চলো নিজেরাই বদলাই

অগ্নিভ সেনগুপ্ত

এই বছরে সম​য়ের সাথে এইটাই আমার শেষ লেখা। পরবর্তী লেখা আবার নতুন বছরে প্রকাশিত হবে। ‘সম​য়’​-এর​ পাঠকদের জানাই আসন্ন ব​ড়দিন ও নতুন বছরের আগাম শুভেচ্ছা। আপনারা নিজেদের অমূল্য সম​য়ের  যে কিছুটা ‘সম​য়’-কে দিয়েছেন​, ভালোবেসেছেন​, প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন – শুধু ধন্যবাদ জানিয়ে আপনাদের ছোট করব না। প্রতিবারের মতো এই লেখাতেও একটু আলাদা চিন্তার খোরাক দিলাম​, আশা রাখি ব্যস্ত ছুটির দিনের মাঝেও আপনাদের মূল্যবান মতামতে সমৃদ্ধ হব​।

নতুন বছরে আমাদের অনেকেই কিছু সংকল্প গ্রহণ করি, নিউ ইয়ার রেজোলিউশন​। যদিও বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সেই রেজোলিউশন ক্ষণস্থায়ী হ​য়​। হ​য়তো জীবনের আমূল পরিবর্তনের শপথ থেকে আমরা বিচ্যুত হয়েই যাই, কিন্তু নিজের জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনতে ছোট-ছোট পদক্ষেপ নিতে অনেকেই সফল হন​। আর​, আমূল পরিবর্তন যে সবসম​য় মহ​ৎ হ​য়না, তা আমরা, বাঙালীরা বেশ হাড়ে-হাড়েই টের পেয়েছি।

আসুন না, আমরা সবাই মিলে এই বছরে আমরা একটা ছোট অথচ দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করি। মনে হ​য়​, খুব​-একটা কষ্ট করতে হবে না, কিন্তু সম্মিলীত চেষ্টায় সাম্প্রতিক বিশ্বের এক বিশাল সমস্যার সমাধান হবে। কথায় আছে না, “ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র বালুকণা, বিন্দু-বিন্দু জল​, গ​ড়িয়াছে মহাদেশ​, সাগর অতল​”।

মানুষের জীবনে অনেকক্ষেত্রে সমস্যা ট্রোজান হর্সের মতো, শত্রুকে সনাক্ত করাটাই শক্ত হ​য়ে যায়​। তাই, যেকোন সমস্যা সমাধানের প্রথম এবং প্রধান পদক্ষেপ হচ্ছে, সমস্যাটাকে সমস্যা হিসাবে স্বীকৃত করা। সেই চেষ্টাই করা যাক​। যথারীতি, আমার আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু – নেদারল্যান্ডস এবং ভারতবর্ষ​। বিষ​য়​: বিদ্বেষ​।

সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এবং বিভিন্ন মানুষের সাথে কথাবার্তা বলে যা বুঝেছি – বিদ্বেষ ব্যাপারটা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই, বিজ্ঞাপনের ভাষায়, “ও জানেই না যে ও মার্জারিন খাচ্ছে”। অনেকক্ষেত্রেই আমরা বুঝতেই পারিনা যে আমরা অজান্তেই বিদ্বেষ প্রচার করছি। এখন উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা আরো স্পষ্ট​।

বিদ্বেষের প্রধান কারণ​, অন্ততঃ আমার যা মনে হ​য়​, অন্যকে নিজের থেকে হেয়জ্ঞান করা। আমাদের ছোটবেলায় ইংরাজী পার্টস অফ স্পিচের উদাহরণ হিসাবে একটা বাক্য প্রায়ই ব্যবহার হত​, “হি ইজ পুয়োর বাট অনেস্ট​”। অর্থাৎ, পরোক্ষভাবে আমাদের ছোট থেকেই শিক্ষা দেওয়া হত​, মানুষ গরীব হলে তার অস​ৎ হওয়াটাই সাধারণ​। যদি কেউ গরীব হ​য়েও স​ৎ হ​য়​, সেটা ব্যতিক্রমী এবং উদাহরণযোগ্য​। বর্তমানের সময়প্রবাহে বিজ​য় মালিয়া, নীরব মোদি ইত্যাদির কল্যাণে অবশ্য আমরা অন্যরকম উদাহরণই বেশী পাই। কিন্তু, আমাদের বিদ্বেষ​-শিক্ষার শুরুটা সেই সামান্য পার্টস অফ স্পিচের উদাহরণের মতোই অবচেতনে ঢুকে গেছে। গবেষকরা এইধরণের স্টিরিওটিপিক্যাল ছদ্ম​-বিদ্বেষকে অভিহিত করেছেন ‘মাইক্রো-অ্যাগ্রেশন’ নামে। এইরকম উদাহরণ আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনে অহরহ দেখতে পাবেন। আমার-আপনার মতো সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই মাইক্রো-অ্যাগ্রেশনের প্র​য়োগ করে চলেছি অবিরত​।

আমার অভিজ্ঞতায় প্রধানতঃ বিদ্বেষের উদাহরণ পেয়েছি চারটি বিভাগে:

১. বর্ণ বা জাতি বিদ্বেষ​

২. ধর্ম বিদ্বেষ​

৩. লিঙ্গ বিদ্বেষ​

৪. খাদ্য বিদ্বেষ​

রাজনৈতিক বিদ্বেষকে এই তালিকায় রাখলাম না, কারণ বিদ্বেষই রাজনীতির প্রধান অস্ত্র​। এবং, শুধু আজকের যুগেই ন​য়​, যুগযুগান্ত ধরে নেতারা এই চার​-পাঁচ ধরণের বিদ্বেষকে হাতিয়ার করে গ​ড়ে তুলেছে তাদের সমর্থন ও রাজনৈতিক অগ্রগতি।

আপনি যদি একটু গভীরে চিন্তা করেন​, উপলব্ধি করবেন যে ঔপনিবেশিক ইতিহাসের প্রাবল্যের সাথে ধর্ম ও জাতিবিদ্বেষের সরাসরি যোগাযোগ আছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন মেক্সিকানদের উৎখাত করে এবং সব মুসলমানদের উগ্রপন্থী আখ্যা দিয়ে আমেরিকাকে গ্রেট বানাচ্ছেন​। অথবা, বরিস জনসন ব্রেক্সিটের বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন​। অথচ​, ইতিহাস ঘাঁটলেই জানা যায় আমেরিকার ভূমিপুত্র রেড ইন্ডিয়ানদের উপরে ইয়োরোপিয়ানদের অকথ্য অত্যাচার এবং ফলস্বরূপ আমেরিকায় তাদের ক্ষমতা-প্রতিষ্ঠার কাহিনী। ব্রিটিশ উপনিবেশের ইতিহাস তো কোন ভারতবাসীরই অজানা ন​য়​। কিন্তু, সেই অত্যাচারের ইতিহাস দুর্ভাগ্যক্রমে আমেরিকা বা ইংল্যান্ডে মেনস্ট্রীম ন​য়​। যে চার্চিলের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে মন্বন্তর হ​য়​, সেই চার্চিল ইংল্যান্ডের নায়ক​।

অ্যাডল্ফ হিটলারের নাম শুনলেই আপনাদের নিশ্চ​য়ই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক স্বৈরাচারী একনায়কের ছবি। হাজার​-হাজার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যার খলনায়ক। কিন্তু, বেলজিয়ামের রাজা লিওপোল্ডের নাম কখনো শুনেছেন​, যিনি লক্ষ​-লক্ষ কঙ্গোবাসীকে হত্যা করেছিলেন নির্মমভাবে? হিটলার বা নাৎসি পার্টির নাম জার্মানী আজও লজ্জা ও ঘৃণার সাথে উচ্চারণ করে। বার্লিনে গেলে দেখতে পাবেন​, হিটলারের সৌধ তো দূরস্থান​, হিটলারের বাঙ্কারের উপরে পার্কিং গ্যারাজ বানিয়ে তাকে ভুলিয়ে দিতে চেয়েছে জার্মানী।

কিন্তু, লিওপোল্ড​? বেলজিয়ামে রাস্তার নাম​, মূর্তি, সৌধ – অনেক কিছুই আজও তার উদ্দেশ্যে সম্মানের ইতিহাস বহন করে। হিটলার আর লিওপোল্ডের মধ্যে একটাই পার্থক্য – হিটলার যাদের হত্যা করেছিলেন তারা ইয়োরোপীয়ান ছিলেন, এবং লিওপোল্ড হত্যা করেছিলেন​ ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের ‘অকিঞ্চিৎকর’ মানুষদের​।

ইয়োরোপের ঔপনিবেশিক অত্যাচারের ইতিহাস এই মহাদেশে খুব​-একটা চর্চিত ন​য়​। আর​, সেই কারণেই হ​য়তো, উদারমনস্কতার মুখোশের আড়ালে এই মহাদেশে বৈষম্যের উদাহরণ খুব​-একটা বিরল ন​য়​।

নেদারল্যান্ডসে উত্রেখ্ত ইউনিভার্সিটি ও ভ্রাই ইউনিভার্সিটির সম্মিলীত প্রচেষ্টায় একটি পরীক্ষা করা হয়​, যেখানে ৫০০ চাকরীর আবেদন বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানো হ​য়​। তার মধ্যে স্থানীয় ডাচ আবেদনপ্রার্থী যাদের অপরাধমূলক ইতিহাস আছে, এবং অ-ইয়োরোপীয় যাদের কোন অপরাধের ইতিহাস নেই, তেমন কিছু আবেদন যোগ করা হ​য়​। দেখা যায়​, যেখানে ২৮ শতাংশ অপরাধী ইতিহাস​-সম্পন্ন ডাচ আবেদনপ্রার্থীদের পরবর্তী সাক্ষাৎকারের জন্যে ডাকা হ​য়েছে, সেখানে মাত্র ৯ শতাংশ অপরাধী ইতিহাসবিহীন প্রবাসী পদপ্রার্থীরা ডাক পেয়েছেন​।

২০১৬ ও ২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডস পুলিশের কাছে বৈষম্যের যতো অভিযোগ এসেছে, তার মধ্যে জাতিবৈষম্য-মূলক অভিযোগই গরিষ্ঠ​। সাম্প্রতিক​, দেন বস-এক্সেলশিয়রের ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন এক্সেলশিয়রের ফুটবলার আহমেদ মেন্ডিস মোরেইরাকে বৈষম্যের সম্মুখীন হতে হ​য়​, সেই খবর হয়তো অনেকেই প​ড়েছেন​। দুর্ভাগ্যবশতঃ, নেদারল্যান্ডসের মতো প্রগতিশীল দেশেও এমন ঘটনা বিরল ন​য়​।

২০১৬-২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডসে পুলিশের খাতায় বৈষম্যের অভিযোগ
(সূত্র​: https://discriminatie.nl/files/2018-04/discriminatiecijfers-in-2017.pdf)

জাতিবিদ্বেষীদের প্রধান অভিযোগ​, বহিরাগতরা এসে তাদের কর্মসংস্থান​, বাসস্থান​, সভ্যতা, সংস্কৃতি ইত্যাদি নষ্ট করছে। যেমন​, আমস্টেলভীনবাসী এরিক গ্রুটার্স​। বিভিন্ন প্রবন্ধে, বক্তব্যে উনি বারবার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন যে ভারতীয় অনাবাসীরা এসে আমস্টেলভীনের ভারসাম্য নষ্ট করছে। বাড়িভাড়া বাড়ছে, স্থানীয়দের কর্মসংস্থান কমছে। তা ছাড়া, বিজাতীয় খাদ্য​, বিজাতীয় উৎসব​-পার্ব্বণ ইত্যাদি অসুবিধার সৃষ্টি করছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

উদাহরণ​-স্বরূপ একটা প্রবন্ধের লিঙ্ক দিলাম​: https://rtva.nl/2018/06/we-wonen-in-amstelveen-en-niet-in-india-aan-de-amstel/

কর্মসংস্থানের অভিযোগটা অবশ্য এখন অনেক দেশেই উঠছে। কিন্তু, একজন বহিরাগত নতুন দেশে এসে নতুন ভাষার সম্মুখীন হ​য়ে বিনা অর্থবল ও সামাজিক বলে যদি আপনার চাকরী নিয়ে নেয়​, তবে আপনার উচিৎ বহিরাগতদের নিয়ে চিন্তা না করে নিজের ক্ষমতা নিয়ে চিন্তা করা।

গ্রুটার্স​-মশায় যদি নেদারল্যান্ডসের ঔপনিবেশিক ইতিহাস নিয়ে একটু প​ড়াশুনা করতেন​, তাহলে হ​য়তো আমস্টেলভীনের প্রবাসী ভারতীয়দের দ্বারা অসুবিধা সৃষ্টির বক্তব্য রাখার আগে ক​য়েকবার ভাবতেন​। প্রত্যেক ঔপনিবেশিক দেশের মতোই নেদারল্যান্ডসের ইতিহাস দাসপ্রথা ও অত্যাচারে কালিমালিপ্ত​, এবং সেই অত্যাচারের ইতিহাসে ভারতবর্ষ অন্যতম সংযোজন​। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে মানুষদের ক্রীতদাস বানিয়ে সুরিনামের ডাচ কলোনীতে পাঠানোর ইতিহাস, বা ইন্দোনেশিয়া-মালেশিয়ায় অত্যাচারের ইতিহাস, এবং লুন্ঠিত সম্পদ আজকের নেদারল্যান্ডসের আর্থিক প্রতিপত্তির এক মুখ্য অংশ​।

অবশ্যই, আমরা এখন মধ্যযুগীয় বর্বরতার সম​য়ে বাস করিনা, এবং তাই “তুই আমার ঘর নোংরা করেছিস​, তাই আমিও তোর ঘর নোংরা করব​”-জাতীয় প্রতিহিংসার স্থান আজকের সভ্য সমাজে থাকা উচিৎ ন​য়​। বিদেশের নিয়মকানুন​, শিষ্টাচার ও সৌজন্য অবশ্যই প্রবাসীদের মেনে চলা উচিৎ। আমার অভিজ্ঞতায় নেদারল্যান্ডসে কি করা উচিৎ এবং কি উচিৎ ন​য়​, ‘ওলন্দাজ দেশে কিংকর্তব্য’​-নামক প্রবন্ধে লিখেছিলাম​, প​ড়ে দেখতে পারেন​।

কিন্তু, অবশ্যই, নিজের সত্ত্বাকে বিসর্জন দিয়ে ন​য়​। ইন্টিগ্রেশন কখনো একপক্ষের প্রচেষ্টায় হ​য়না। তাই, আপনার সংস্কৃতি, আপনার অভ্যাস নিয়ে কেউ কটুক্তি করলে প্রতিবাদ করুন​, বিব্রত হবেন না।

এইবার আয়নাটা ঘুরিয়ে নিন নিজের দিকে। বৈষম্যের উদাহরণ আমাদের​, অর্থাৎ বাঙালীদেরও খুব​-একটা অপ্রতুল ন​য়​। এখন, ফ্রি ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে, যেখানে আমরা সবাই রাজা, তা আরো প্রকট হ​য়ে উঠছে। সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই ভুরি-ভুরি উদাহরণ আপনি হাতে-গরম পেয়ে যাবেন​। সহজলভ্য তথ্যের যুগে মানুষের সহমর্মিতা কমেছে, শুধু একটা পোস্ট বা কমেন্ট দিয়ে কত বেশী লাইক পাওয়া যায়​, সেই প্রতিযোগীতায় নেমেছে সবাই। আমার একটা কথা, আমার একটা পোস্ট​, আমার একটা কমেন্ট যদি আমার একজন পরিচিতকেও আঘাত করে, তাহলে সেখানে লাইক​-কমেন্টের হিসাবটা খুব নগণ্য হ​য়ে যায়​।

ঔপনিবেশিকদের কোন দেশে প্রতিপত্তি-বিস্তারের এক অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র ছিল – ডিভাইড অ্যান্ড রুল​। ও তোমার শত্রু, আমি তোমার বন্ধু – এই সত্য স্থাপন করতে পারলেই কেল্লা ফতে! বাকি কাজটা আমার​-আপনার মধ্যে হিংসাই করিয়ে নেবে।

এখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিও প্রায় সেইরকমই। উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতির রমরমা পৃথিবী জুড়ে, আর সেই স্বার্থে দেশের ইতিহাসকেও পাল্টে ফেলা হচ্ছে। আর​, আমি-আপনি অহরহ সেই ফাঁদে পা দিচ্ছি। “আমরা” বনাম “ওরা” পরিবেশ তৈরী করতে অনেকাংশেই সফল রাজনৈতিক নেতারা, আর সেই পরিবেশের শিকার হ​য়ে আমি-আপনি একে-অপরকে বাক্যবাণে জর্জরিত করে চলেছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বন্ধু বিচ্ছেদ হচ্ছে, মানুষ মানুষের প্রতি সহনশীলতা দেখাতে, সামান্য শিষ্টাচার দেখাতে ভুলে যাচ্ছে। এ কোন পৃথিবীতে বাস করছি আমরা?

সরকারের কাজ আমার​-আপনার ভালো থাকা নিশ্চিত করা, এবং তার জন্যে ধর্ম​-জাতি-বর্ণ নির্বিচারে প্রত্যেক মানুষের জন্য চাই শিক্ষা-স্বাস্থ্য​-খাদ্যের সংস্থান। এখন আপনাকে যদি ধর্মের আফিম গিলিয়ে যদি ভুলিয়ে রাখা যায়​, এবং নেতার গদি সসম্ভ্রমে বাঁচিয়ে রাখা যায়​, তাহলে প্রাথমিক প্র​য়োজনের অভাবের জন্যে আমি-আপনি দায়ী।

ধর্মগুরুরা নিজেদের ব্যাবসা বাড়াবেন​, নেতারা নিজেদের গদি বাঁচাবেন​, আর আমি-আপনি খিদে-তেষ্টা ভুলে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে চলব – একটা দেশকে শাসন করার জন্যে এর থেকে আদর্শ পরিবেশ আর কি হতে পারে?

তাই, আসুন​, প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রতিরোধ গ​ড়ে তুলি। আমার​-আপনার বিপদে-আপদে কোন নেতা বা ধর্মগুরু এগিয়ে আসবে না, আসবে আমাদের বন্ধু-আত্মীয়​-পরিজনেরাই। তাই, তাদের ভালো রাখুন​, ভালোবাসুন দল​-মত​-ধর্মের ঊর্দ্ধে উঠে। অনলাইন বা অফলাইন ট্রোলিং এবং বৈষম্য থেকে দূরে থাকুন​।

এই আমার নতুন বছরের সংকল্প​। আসুন​, একসাথে নতুন বছর শুরু করি নবারুণ ভট্টাচার্য্যের প্রাসঙ্গিক দুটো লাইন ধার করে:

“আয় মোরা সব গরিব যত​, বাঁধব জবর জোট​,

একসুরে আয় বলব তেড়ে, ভোটমারানি ফোট​।”

ভালো থাকবেন​, বৈষম্যের বিষম ফাঁদে পা দেবেন না।

Agniv Sengupta

Agniv Sengupta

পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, নেশায় সৃষ্টি। অগ্নিভ সেনগুপ্ত লেখা, শর্ট ফিল্ম এর গল্প থেকে শুরু করে অভিনয় ও নির্দেশনা সবেতেই রেখেছেন তার নিজের সৃষ্টির ছোঁয়া। সময়ে তার লেখা শুরু হল্যান্ডের হালহকিকত দিয়ে, এ ছাড়াও লিখেছেন আরও অন্যান্য সমকালীন বিষয়ে।

আপনার মতামত:-

%d bloggers like this: