অপুর পাঠশালা

মিহিররঞ্জন মন্ডল

ছেলেবেলার স্মৃতিতে স্কুলজীবনের কথা ঘুরে ফিরে আসে। আসলে সবার মধ্যে একজন করে অপু থাকে কিনা। আমারও রয়েছে। যাইহোক, আমার স্কুল চেতলা বয়েজের কথায় আসি। ক্লাস ফাইভে ভর্তি হলাম ১৯৫১ সালে। তার আগে বাড়ির সামনে মায়ারপুর ইউ পি স্কুলে পড়েছি। আমার সব বন্ধুরা বিলকুল ভর্তি হয়ে গেল চেতলা সেন্ট্রাল রোডের মোড়ে কৈলাশ বিদ্যামন্দিরে।

তবে,স্কুলে প্রথমদিনে গিয়েই বোমকে গেলাম। এ কোথায় এলাম রে বাবা? বাঘা বাঘা সব মাষ্টারমশাই। তখন হল spare the rod & spoil the child এর যুগ। অ্যাসি্সটেন্ট হেডমাষ্টার মশাই শ্রী সুশীল চন্দ্র চারের হাতে সব সময় একটা বেত থাকত। তাঁর ডাকনাম ছিল এককড়িবাবু। কারণে অকারণে ছেলেদের বেতান পছন্দ করতেন। হ্যাঁ, অকারণেও। আমি নিজে তার সাক্ষী। তখন টিফিনটাইম। স্কুল থেকেই তখন টিফিন দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। সে গল্প পরে বলছি। তো আমি দোতলায় ভিতরে চারপাশে রেলিং দিয়ে ঘেরা বারান্দার এককোণে দাঁড়িয়ে বিস্কুট খাচ্ছি আর নিচের বিরাট হলঘরে ছেলেদের হইহুল্লোড় দেখছি। হঠাৎ পিছনে দেখি এককড়িবাবু। হাতে বেত। 

” অ্যাই, এখানে একা একা দাঁড়িয়ে কি হচ্ছে? ” বলেই সপাং সপাং করে বেতের বাড়ি ক’ ঘা দিলেন।   

আমি তো অবাক। কিচ্ছু করলাম না অথচ মার খেলাম। 

উপেনবাবু নিচের ক্লাসে তখন ভূগোল পড়াতেন। দেখলে ভয় হত। শুনেছিলাম তিনি নাকি আগে পুুলিসে চাকরি করতেন। পুলিসের চাকরি ছেড়ে মাস্টারি। কিন্তু পুলিসসুলভ আচরণ আর ছাড়তে পারেননি। পড়া না পারলে পেটে এমন রাম চিমটি কাটতেন। ওহ্ এখনও আমার মনে আছে। স্কুলে প্রথম কদিন  বেশ ভয়ভয় করলেও পরে ধাতস্থ হয়ে গেলাম।    

আমাদের স্কুলে ছিল বিরাট একটা হলঘর। এতবড় হলঘর তখন চেতলায় কোথাও ছিল না। হলের দুপাশে কাঠের পার্টিশন দেওয়া ঘরে ক্লাস চলত। হলটা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তখন ভাড়া দেওয়া হত। তখন কাঠের পার্টিশনগুলো খুলে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। স্কুলের হলে প্রজেক্টর চালিয়ে পর্দায় সিনেমা দেখান হত ছেলেদের কখনও সখনও। সবই নাম করা বিদেশি ছায়াছবি। এ টেল অফ টু সিটিজ, আইভ্যানও এসব দেখেছি স্কুলে। আমার মনে আছে এ টেল অফ টু সিটিজ ছবিটা আমরা দেখছি। ইংরেজি জানি না বলে হেডমাস্টারমশাই শৈলেনবাবু তাঁর ব্যারিটোন গলায় বাংলায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন ছবির প্রতিটি দৃশ্য। ” এই দেখ খিদের জ্বালায় গরীব মানুষ বড়লোকের কুকুরকে দেওয়া মাংসের টুকরো ছিনিয়ে নিয়ে খাচ্ছে।” 

আমাদের স্কুলে টিফিন দেওয়ার ব্যবস্থা চালু ছিল অনেকদিন আগে থেকেই। ফোর্থ পিরিয়ডে আমাদের টিফিন দেওয়া হত। টিফিনের আগে আর একবার রোল কল হত। তারপর ক্লাস টিচার একটা শ্লিপে কতজন ছাত্র উপস্থিত তাতে লিখে সই করে দিতেন। তারপর ক্লাসের মনিটর ওটা টিফিন ঘরে নিয়ে যেত। তারপর শ্লিপ দেখে একটা বড় সাইজের ঝুড়িতে টিফিন সাজিয়ে দেওয়া হত। এরপর মনিটর ক্লাসে নিয়ে আসত। কোন কোন দিন মাখন চিনি লাগান দুপিস মোটা পাঁউরুটি আর কলা। কোন দিন বা আর্য বেকারির বড় সাইজের দুটো খাস্তা বিস্কুট আর কলা। পালেপার্বণে কখনও সখনও কেক কমলা লেবুও দেওয়া হত।   

এই টিফিন নিয়ে পরেশবাবুর কথা মনে এল। পরেশ চন্দ্র বন্দোপাধ্যায় ছিলেন আমাদের বাংলার মাস্টারমশাই। নাইনে উঠে ওনার কাছে পড়েছি। তার আগে আমাদের বাংলা পড়াতেন স্বনামধন্য কাস্তে কবি দিনেশ দাস। এর আগে স্মৃতিচারণায় ওঁকে নিয়ে লিখেছি। তো আমাদের পরেশবাবু মনে হয় ধনী পরিবারের ছেলে ছিলেন। ঠিক মাস্টারির আয়ে তাঁর সংসার চলত না। তারপর ওনার অনেক ছাত্রপাঠ্য বইটই ছিল। নোটবইও লিখতেন। দেখতে ছিলেন সুপুরুষ। জমিদার টাইপের চেহারা। আদ্দির পাঞ্জাবি আর ফিনফনে ধুতি পরতেন। আর শীতকালে গায়ে চড়াতেন দামি বিলিতি সার্জের পাঞ্জাবি আর কাঁধে কাশ্মীরী শাল। হাতে রুপো বাঁধানো একটা ছড়ি থাকত। ওঁর মুখেই শুনেছি কি কাজে যেন একবার স্কুলবোর্ডের অফিসে গিয়েছিলেন। ওঁকে দেখে কেউকেটা ভেবে অফিসের দাপুটে ক্লার্ক নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে ওকে বসতে বলেছিলেন।  আপাতগম্ভীর মানুষটির ছিলেন ভীষণ আমুদে। ছাত্রদের তিনি সন্তানের মতই ভালবাসতেন। একদিন ফোর্থ পিরিয়ডে তিনি বাংলার ক্লাস নিতে এলেন। নিয়ম অনুযায়ী উনি রোলকল করলেন এবং উপস্থিত ছাত্র সংখ্যা লেখার জন্য একটা কাগজের শ্লিপ টেনে নিলেন।

” স্যার, দুটো বাড়িয়ে লিখে দিন” আমরা বলে উঠি।

” কেন, কেন বাড়িয়ে লিখব কেন?” 

” যা বলছি শুনুন না। আমাদের দরকার আছে” আমরা জোর করি।   

অগত্যা কী আর করেন। ছাত্রদের কথা মত দুটো বাড়িয়েই শ্লিপে লিখে দিলেন। যথারীতি ক্লাস মনিটর গিয়ে সেই শ্লিপ দেখিয়ে টিফিন নিয়ে এল ঝুড়ি ভর্তি করে।টিফিন ছেলেদের মধ্যে বিলি হয়ে যাওয়ার পর মাখন চিনি মাখানো চারপিস পাঁউরুটি স্যারের সামনে ধরে দেওয়া হল।    

“স্যার, এবার এগুলো খেয়ে ফেলুন” আমরা বলি।   

” না না এসব কি বলছিস তোরা? তোদের টিফিন আমি খেতে পারব না। তাছাড়া কেউ দেখে ফেললে কী হবে বলতো?”    

” কী হবে? সে আমরা বুঝব। আপনি খান তো দেখি। আচ্ছা, আমরা বাইরে পাহারা দিচ্ছি।”  বলে আমরা একজন বাইরে দাঁড়িয়ে রইলাম। উনি খেতে আরম্ভ করলেন।   

ক্লাস এইটে আমাদের সংস্কৃত পড়াতেন কানাইবাবু। তিনি ছিলেন গুরুগম্ভীর প্রকৃতির। তাঁকে হাসতে কখনও দেখিনি। পড়া না পারলে কাউকে কিছু বলতেন না। একটা ডায়েরি সঙ্গে করে আনতেন। পাতা খুলে সেই ছাত্রের নাম আর রোল নাম্বারটা লিখে রাখতেন। আমরা গ্রাহ্য করতাম না।   

টের পেলাম অ্যানুয়ালের রেজাল্ট বেরবার সময়। এইট থেকে ক্লাস নাইনে উঠব। একজন মাস্টারমশাই এসে ঢুকলেন আমাদের রেজাল্ট নিয়ে। এক এক করে ডেকে সবাইকে রেজাল্ট দিতে লাগলেন। সবাইকে দেওয়া হয়ে গেল কিন্তু আমার রেজাল্ট নেই।     

” স্যার, আমার রেজাল্ট?” কাঁদোকাঁদো মুখে আমি জিজ্ঞেস করি।   

” আমি বলতে পারব না। তোমার রেজাল্ট আমার কাছে নেই। তুমি গিয়ে অফিসে দেখা কর।”   

কী আর করি। গেলাম অফিসঘরে। রেজাল্টের কথা জিজ্ঞেস করতে হেড ক্লার্ক দেখেশুনে বললেন, ” চোদ্দ আনা পয়সা দাও।”   

” কেন কেন?” আমি জিজ্ঞেস করি।   

” সারা বছর কানাইবাবুর ক্লাসে  মোট আঠাশ দিন সংস্কৃত পড়া পারনি। প্রতিদিন দু পয়সা করে ধরলে হয় চোদ্দ আনা। ওই পয়সা দাও রেজাল্ট পাবে।”   

অগত্যা পয়সা দিয়ে শেষে রেজাল্ট নিয়ে এলাম। না, ওই পয়সা কিন্তু  কানাইবাবু নিতেন না। স্টুডেন্ট বেনোভলেন্ট ফান্ডে ওটা জমা পড়ত।   

অঙ্কের মাস্টারমশাই প্রফুল্লবাবুকে দেখলে আমার খুব ভয় করত। ফর্সা আঁটোসাঁটো চেহারা। গোলমতো মুখ। মুখের দিকে তাকাতে সাহস হত না। ওঁর হাতের চড় যে একবার খেয়েছে সে ভুলতে পারবে না। একটা ঘটনার কথা বলি।  ক্লাস নাইনের হাফ ইয়ারলি পরীক্ষায় অঙ্কের প্রশ্নপত্র করেছিলেন প্রফুল্লবাবু। খুব শক্ত হয়েছিল প্রশ্নপত্র। আমাদের সেকশনের ছেলেরা বিলকুল পরীক্ষায় খারাপ ফল করেছে। এবার একদিন বগলে করে অঙ্কের খাতাগুলো নিয়ে ক্লাসে এলেন। একে একে নাম ধরে ছাত্রদের ডেকে তাদের খাতা ফিরত দিতে লাগলেন। সেইসঙ্গে মাথাঘুরে পড়ে যাবার মতো এক একটা বোম্বাই চড়। মনে মনে প্রমাদ গুনছি। এমন সময় আমার পালা এল। সিঁটিয়ে চোখবন্ধ করে বসে আছি চড়ের অপেক্ষায়। না গালে চড় পড়ল না। চোখ খুলে দেখি তাঁর ভয়ঙ্কর মুখে হাসি।  হেসে বললেন,  ” হেয়ারব্রেথ স্কেপ। ” মানে একচুলের জন্য বেঁচে গেছি। অঙ্কে পেয়েছি তেত্রিশ। আমার পরে দুজন চড় খেল। তারপর রথীনের পালা। রথীন ছিল পড়াশোনায় ভাল। ও নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে। তারপর আচমকা প্রফুল্লবাবুর হাতে চড় খেল। না, ও অঙ্কে ফেল করেনি। ৪৭ পেয়েছিল। ভাল ছেলের অত খারাপ নম্বর কেন? তাই চড়।   

আমাদের স্কুলে খুব ডিসিপ্লিন ছিল। স্কুল বসার সময় অর্গান বাজিয়ে প্রেয়ার হত। সিঁড়ি ধরে দোতলায় উঠতেই চোখে পড়ত একটা বোর্ড। দেওয়ালের সঙ্গে সাঁটা। ওটাতে দিনের দরকারি খবরগুলো লেখা হত। স্কুল আরম্ভ হতেই গেট বন্ধ হয়ে যেত। গেটে দারোয়ান থাকত। স্কুল থেকে কেটে পড়ার কোন সুযোগ ছিল না।   

মাস্টারমশাই রামনারায়ণ বাবুর কথা বলা হয়নি। উনি ক্লাস টেনে আমাদের ইংরেজি পড়াতেন। ওই উঁচু ক্লাসেও পান থেকে চুণ খসলে কোন ছাত্রের রেহাই ছিল না। তাকে চড়াতেন। উনি আবার ছিলেন পরীক্ষায় টুকলি ধরার ওস্তাদ। তাই উনি পরীক্ষাটরিক্ষা হলে ফ্লাইং গার্ড হিসাবে থাকতেন।   

আমাদের ক্লাসের অন্য সেকশনে একটা ছেলে খুব ভাল ফুটবল খেলত। নাম যতদূর মনে পড়ে গোবিন্দ শিবলাই। ওকে একদিন সবার সামনে রামনারায়ণ বাবু মারলেন। গোবিন্দ অপমানিত হয়ে আমাদের বলল এর প্রতিশোধ সে নেবে। রামনারায়ণ বাবুকে সুযোগ পেলেই সে বেইজ্জতি করবে।   

যাইহোক, সামনে আমাদের টেস্ট পরীক্ষা। নিচের হলঘরের কাঠের পার্টিশনগুলো খুলে ছেলেদের বসার ব্যবস্থা হয়েছে। সমস্ত সেকশনের ছেলেরা পরীক্ষা দেবে। ছয় সাতজন মাস্টারমশাই গার্ড দেবেন। আর রামনারাযণবাবু যথারীতি ফ্লাইং গার্ড। ইংরেজি পরীক্ষা চলছে। প্রশ্নপত্র পেয়ে ছেলেরা লিখতে আরম্ভ করেছ। বেশ কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল গোবিন্দ উুসখুস করছে। নিচু হয়ে  কোলের কাছে মাঝেমাঝে কী যেন দেখছে। রামনারায়ণবাবুর নজরে এল ব্যাপারটা। শিকারি বাজপাখির মত তাঁর চোখ। ওখান থেকেই তিনি চিৎকার করে উঠলেন,” ইউ দেয়ার! “

এগিয়ে এলেন রামনারায়ণবাবু। ভয়ে যেন সিঁটিয়ে গেল গোবিন্দ। বলতে লাগল না স্যার, না স্যার আমি  কিছু করছি না।     

রামনারায়ণবাবু শিকার ধরেছেন। ও নিশ্চয়ই টুকলি করছে।     

ওর সামনে গিয়ে জলদগম্ভীর স্বরে বললেন, ” জামাটা তোল।”     

“না স্যার, না স্যার আপনার দুটি পায়ে পড়ি জামা আমি তুলতে পারব না। আমায় ক্ষমা করুন স্যার” কাকুতিমিনতি করতে লাগল গোবিন্দ।        

হলে আমরা লেখা থামিয়ে ব্যাপারটা দেখছি। অন্য গার্ডরাও জড়ো হয়েছেন। রামনারায়ণবাবু ওর শার্টের কোনা ধরে তুলে দিলেন।     

সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মত ছিটকে সরে এলেন তিনি।     

প্যান্টখুলে  উদোম হয়ে জামা চাপা দিয়ে বসে আছে গোবিন্দ। চারপাশে সাদা  মলমের মত কী সব লাগানো।     

” আমি এত করে বললাম আপনি শুনলেন না। ওই জায়গাটা হেজে গেছে।মলম লাগিয়েছি। চুলকানি  হচ্ছে কী করব! তাই জামা তুলছিলাম।” গোবিন্দ কাঁদোকাঁদো গলায় অভিনয় করে বলে।     

অন্য গার্ডরা মুচকি হাসছেন।  সঙ্গে ছেলেরাও। বেইজ্জতির একশেষ রামনারায়ণবাবু।   

একটা ঘটনার কথা মনে আছে। একবার আমাদের স্কুলে আমাদেরই প্রাক্তন ছাত্র স্বনামধন্য গায়ক জগন্ময় মিত্র এসেছিলেন। তাঁকে হলঘরে সম্বর্ধনা দেওয়া হল। তিনি স্মৃতিচারণা করলেন পুরানোদিনের। আমাদের অনুরোধে গান গেয়েও শোনালেন। স্বকণ্ঠে তাঁর গান শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল সেদিন।   

ক্লাস টেনে স্কুলে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হয়ে এলেন মেজর সেন। পরণে সবসময় নিখুঁত বিলিতি স্যুট। দারুণ স্মার্ট। শুধু মুখের একটা পাশ ভয়ঙ্কর ভাবে পোড়া। শুনেছিলাম দূর্ঘটনায় পড়ে ওঁর জিপে আগুন ধরে যায়। ওঁকে যখন টেনে বার করা হল তখন ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। আমাদের ইংরেজির ক্লাসে একদিন এসেছিলেন। জিম করবেটের ‘ দি টাইগার স্মাইল্ড ‘ আমাদের পড়ালেন। খুব ভাল লেগেছিল।   

এইসব স্মৃতির মিছিলে আমি পথ হাঁটি। অনেক কথাই মনে পড়ে। মাস্টারমশাইদের কাছে আমার ঋণের শেষ নেই। তাঁদের কঠোর ও কোমল সাহচর্যেই তো আমি বেড়ে উঠেছি।

এবার একটা মজার ঘটনা কথা বলি। স্কুল শেষ করে তখন কলেজে পড়ছি। সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছি। একদিন কী একটা কাজে আমার বন্ধু শিশির আমাকে নিয়ে স্কুলে গেল। কাজটাজ শেষ করে আমরা নোটিশবোর্ডে লেখা দিনের খবর পড়ছি। সেই রামনারায়ণবাবু কখন এসে আমাদের পিছনে দাঁড়িয়েছেন লক্ষ্য করিনি। তিনি সোজা শিশিরের কান ধরে বললেন,” এখন নোটিশ পড়ার সময়? যাও ক্লাসে যাও! ” শিশির এক ঝটকা মেরে রামনারায়ণবাবুর হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলে ওঠে, ” এখন আর স্কুলে পড়ি না। কলেজে পড়ি।”   

রামনারায়ণবাবুর মুখটা হল দেখবার মত। মাথা নিচু করে চলে গেলেন। শিশির তখন রাগে ফুঁসছে।   

আচ্ছা, স্কুল ছাড়ার পরও মাস্টারমশাইয়ের কাছে কানমলা খাবার এমন অভিজ্ঞতা কখনও কী কারও হয়েছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *