Home » অবসর যাপন » কাজ-বাজে কাজ-অকাজ

কাজ-বাজে কাজ-অকাজ

অঙ্কুশ

রবীন্দ্রনাথ নিজের ব্যবহৃত সময়কে তিনভাগে ভাগ করেছেন। ‘কাজ’,’বাজে কাজ’ ও ‘অকাজ’। ‘কাজ’ এর সময় তিনি শান্তিনিকেতন এর যাবতীয় কাজকর্ম করতেন। ‘বাজে কাজ’ এর মধ্যে ছিলো কবিতা লেখা,গান বাঁধা,গল্প লেখা। ‘অকাজ’ মানে কোনো কাজ না করা। আক্ষরিক অর্থেই কোনো কাজ না করা। রবীন্দ্রনাথের কাছে এই ‘অকাজ’টা ভীষন জরুরী ছিলো।

একবার রবীন্দ্রনাথ চুপ করে বসে আকাশের দিকে চেয়ে আছেন। এক কর্মী এসে তাকে ডাকতে লাগলো। তিনি বললেন,থামো,এখন কাজ করছি। কর্মীটি ভীষন অবাক হয়!

বৌদ্ধধর্মে একটা লাইন আছে,’Doing nothing is a big work’. রবীন্দ্রনাথের কাছে এই কিছু না করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিলো।

হুমায়ুন আহমেদ ‘হিমালয়'(ওরফে হিমু) চরিত্রের মাধ্যমে যেনো নিজের মুক্তি খুঁজে নিয়েছেন। সে ভবঘুরে,তার জীবনের লক্ষ্যই ভবঘুরেমি। সে আয়ত্ত করতে চায় নির্লিপ্ততা। কোনো কাজ না করে সে কাটিয়ে দিতে পারে ঘন্টার পর ঘন্টা। তখন সে মনে মনে একটা নদী বার করে আনে,’ময়ূরাক্ষী’ তার নাম। তার পাড়ে বসে হাওয়া খায় ইচ্ছেমতো…

আজ যুগে এগিয়েছে। ফ্ল্যাটবাড়ি উঁচু হয়েছে। বাড়ছে বিলাসিতা। কিন্তু এটাও লক্ষনীয় যে,এই শতাব্দীর মতো ডিপ্রেশন আর সুইসাইডের হার আর কোনো শতাব্দী দেখেনি। আমরা ছুটছি,দৌড়চ্ছি কিন্তু একবার ছোটাটা বন্ধ করে দেখছিনা চারপাশটা। একবার দাঁড়ালাম না হয়। দম ভরে একটা শ্বাস নিলাম। কি কি শব্দ শুনতে পাচ্ছি এইমুহুর্তে? ফ্যান চলার শব্দ,দূরে একটা গান বাজছে,কয়েকজন গল্প করছে আর শ্বাসের শব্দ। হ্যাঁ,শ্বাসের শব্দ,শেষ কবে নিজের শ্বাস নেওয়ার শব্দ শুনেছেন? শেষ কবে তারা গুনেছেন? শেষ কবে বৃষ্টিতে ভিজেছেন? প্রকৃতি থেকে,সবুজ থেকে যতো দূরে যাবো আমরা,বোনাস হিসেবে কিন্তু তত ডিপ্রেশন আসবে। ১০০ বছর আগেও প্রকৃতি থেকে এতোটা দূরত্ব ছিলোনা,কম ছিলো ডিপ্রেশন-এনক্সাইটি-ঘুমের ওষুধ।

একদিন গ্রামে গিয়ে ছাদে গা এলিয়ে চাঁদ দেখুন। ঝিঝির ডাক শুনুন। মাটির গন্ধ নিন। দেখবেন কখন ওই টাইয়ের সঙ্গে বেঁধে থাকা গলার শিকলটা গলে গেছে,দেখবেন কখন ডানা গজিয়ে গেছে দুখানা,তারপরে সেই ডানা মেলে ইচ্ছেমতো উড়ে বেড়ান পূর্নিমা রাতে….

আপনার মতামত:-