ইয়োলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক – ২

সংশ্রিতা দেব

দ্বিতীয় পর্ব

পড়ে নিন প্রথম পর্ব ইয়োলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক -১

সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে হোটেলে ব্রেকফাস্ট সেরে বেড়িয়ে পড়লাম পার্কের উদ্দেশ্যে, আজ আমাদের গন্তব্য গ্রান্ড ক্যানিয়ন অফ ইয়লোস্টোন।

ভলক্যানিক ইরাপশান এবং ইয়লোস্টোন রিভারের জন্য এখানে ক্যানিয়ন সৃষ্টি হয়েছে। এর দুটো পার্ট, সাউথ রিম এবং নর্থ রিম। দুটোতেই হাইকিং ট্রেল রয়েছে। সেই ট্রেলের নানা দিক থেকেই ক্যানিয়ন দেখা যায় এবং স্থান বিশেষে ক্যানিয়নের রঙ পরিবর্তিত হয়েছে।

নীচ দিয়ে ইয়লোস্টোন নদী স্বমহিমায় বয়ে চলেছে এবং এই নদীর দুটি জলপ্রপাত আপার ফলস ও লোয়ার ফলস অপূর্ব সৌন্দর্য্যের প্রতীক। সব মিলিয়ে মনোরম সেই দৃশ্য হাইকিং-এর পরিশ্রম সার্থক করে দেয়। আঙ্কল টমস পয়েন্ট ও আর্টিস্ট পয়েন্ট থেকে আপার ও লোয়ার ফলসের সবচেয়ে সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়। পেন্টার বা আর্টিস্টদের অত্যন্ত পছন্দের জায়গা হলো আর্টিস্ট পয়েন্ট এবং তার থেকেই এই নামকরণ। আমরা বেশ অনেকটা সময় ওখানে কাটিয়ে এবার যাত্রা শুরু করলাম হাইডেন ভ্যালির উদ্দেশ্যে।

গ্রান্ড ক্যানিয়ন অফ ইয়লোস্টোন
আর্টিস্ট পয়েন্ট (লোয়ার ফলস)
গ্রান্ড ক্যানিয়ন অফ ইয়লোস্টোন এবং ইয়লোস্টোন রিভার

হাইডেন ও লামার দুটো খুব বিখ্যাত ভ্যালি এই পার্কের শোভা বাড়িয়েছে। অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য তো আছেই তার সাথে সাথে ওয়াইল্ড লাইফের জন্য খুব প্রসিদ্ধ ভ্যালি দুটি। আমরা প্রথমে গেলাম হাইডেন ভ্যালিতে।

হাইডেন ভ্যালি

সেখানে মাড ভলক্যানো, সালফার হট স্প্রিং ইত্যাদি জিওথার্মাল ফিচারস দেখলাম, আর দেখলাম চোখ জুড়ানো অপূর্ব সুন্দর মেডোস এবং দূরে বয়ে চলেছে  নীল ইয়লোস্টোন নদী।

কিন্তু বন্য প্রাণীর জন্য বিখ্যাত এই ভ্যালিতে বিশেষ কোনো প্রানী চোখে পড়লো না। প্রকৃতির অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করে আমরা রওনা হলাম লামার ভ্যালির উদ্দেশ্যে। লামার ভ্যালি বন্য প্রানীদের বাসযোগ্য ও আদর্শ বিচরণভূমি হওয়ার ফলে এটাকে আমেরিকার সারেঙ্গেটিও বলে।

লামার ভ্যালি

লামার ভ্যালি যাওয়ার পথে প্রথমেই আমাদের চোখে পড়লো এলক, নিশ্চিন্ত মনে খাদ্যের সন্ধান করছে এক জোড়া এলক, সবাই গাড়ি থামিয়ে ফটো তুলতে ব্যস্ত, আমিও বাদ যাই নি তার থেকে।

বাইসন ও ইয়লোস্টোন

এরপর ভিস্টা পয়েন্টে গাড়ি স্টপ করতে করতে এগোলাম আমরা, দূরে নীল-সবুজ পাহাড়ের কিছু অংশ সাদা বরফে আবৃত, উঁচু নীচু প্রশস্ত হলুদ-সবুজ রঙের মেডোস তাতে পালে পালে বাইসন ঘুরে বেড়াচ্ছে আর মেডোসের মধ্যে দিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে নীল স্বচ্ছ লামার নদী, সব মিলিয়ে স্বর্গীয় পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। বিকেল পর্যন্ত ওখানে কাটিয়ে গার্ডিনারের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। 

লামার ভ্যালি

ফেরার পথে সাক্ষাৎ হলো এক কয়োটে ফ্যামিলি, অনেক দূরে থাকায় ফটো তুলতে পারলাম না। পার্কের এনট্রান্সের রাস্তায় ম্যামোথ হট স্প্রিং-এর কাছে এক জোড়া এলকের দেখা পেলাম আবার, তারা রাস্তার মাঝে পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছে বলে দুদিক থেকেই সব গাড়ি দাঁড়িয়ে গেছে, এই সুযোগ ছাড়া যায় না, তাই গাড়ি থেকেই ফটো তুলে নিলাম। তারপাশে হঠাৎই চোখে পড়ল একটা ছোটো টিলার ওপর একপাল হোয়াইট টেলড ডিয়ার, পাশের একটা ক্রিক থেকে জলপানে ব্যস্ত সবাই। ইয়লোস্টোন পার্কের রাস্তায় গাড়ি চালানো বেশ কঠিন, মাঝে মাঝেই একসাথে প্রচুর বাইসন পথ আটকায়, এসেছি থেকে অনেকবার এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম কিন্তু শেষদিনের শেষ প্রান্তে এসে এত সুন্দর ওয়াইল্ড লাইফ এত কাছ থেকে দেখে গোটা ট্যুরটা যেন সার্থক মনে হচ্ছিল। এবার পার্ককে গুডবাই জানিয়ে আমাদের হোটেলে ফেরার পালা। 

বাইসন ও ইয়লোস্টোন
এলক

এই অসাধারণ সুন্দর পার্কের শোভা চিরকাল মনে রাখার মতো, আমরা সত্যি অবিভূত প্রকৃতি মায়ের এই রিসার্চ স্টেশান বা বলা যায় ন্যাচারাল ল্যাবোটারি সচোক্ষে দেখতে পেয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *