অঙ্কুশ

তাড়াহুড়ো করে বাথরুম যাওয়ার পথে আয়নাটার দিকে চোখ পড়তেই চোখ আটকে গেলো অপূ্র্বর। অবাক হয়ে চেয়ে থাকে নিজের দিকে।
-শ্রাবণী, একটু শুনবে এদিকে?
-কী বলছো, রান্না করছি তো
-একটু শোনোনা, দু মিনিট
শ্রাবণী গজগজ করতে করতে হাতা হাতেই আসে।
-বলো
অপূর্ব শ্রাবণীর দিকে মুখ বাড়িয়ে দিয়ে বলে
-দেখো তো
-কী?
-কিছু চেঞ্জ দেখতে পাচ্ছো?
-না তো
-আহ দেখোনা ভালো করে
-কোনো চেঞ্জ নাই, ভালো করে দেখেই তো বলছি। হয়েছেটা কী বলোতো?
-কিচ্ছুনা
মুখ শুকিয়ে বলে অপূর্ব। শ্রাবণী আবার গজগজ করতে করতে চলে যায় রান্না করতে।

আবার আয়নার দিকে তাকায় অপূর্ব। নাহ,কিছুতেই চিনতে পারছেনা নিজেকে। নিজের মুখটাকে অচেনা লাগছে খুব..

কবে দাঁড়িটা পাকলো এতো? মুখে এতো রেখা হলো কবে? কপালে ভাঁজ? মুখের হাসি, হ্যাঁ ওর ট্রেডমার্ক হাসিটা গেলো কোথায়?

আগে পরিপাটি করে নিজেকে সাজাতে খুব ভালোবাসতো অপূর্ব। চুল সিঁথি করতো খুব যত্ন করে। কবে যে এতো বুড়ো হয়ে গেলো!

মিলি আসে। হাতে ম্যাগাজিন। 
-বাবা,বাবা,কনগ্রেচুলেশনস, এবারের ফোর্বস ম্যাগাজিনে তুমি ফিচারড। ইন্ডিয়ার টপ টুয়েন্টি রিচেস্ট পার্সন এর লিস্টে তুমি সিক্সথ! ‘মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল পার্সন অফ দ্য ইয়ার’!

অপূর্ব ম্যাগাজিনটা হাতে নেয়। সুন্দর একটা ছবি ওর। কিন্তু চিনতে পারেনা। ওই মানুষটাকে একদম অচেনা মনে হয়।

মিলি ম্যাগাজিনটা রেখে যায়। ম্যানেজারের ফোন আসছে। কদিন টানা কাজের চাপ চলছে। চিনা কোম্পানিটার সঙ্গে মিটিং আজ, ডিলটা ফাইনাল হলে ব্যাপক লাভ হবে। আরও চার-পাঁচটা মিটিং আছে সারাদিনে।

কী মনে হয় কে জানে, ফোনটা অফ করে দেয়। চেয়ে থাকে আয়নার দিকে। থাক মিটিং, সারাদিন চেয়ে থাকবে আজ আয়নাটার দিকে….

আপনার মতামত:-