সঙ

অঙ্কুশ

রঙটা মাখতে মাখতেই মুখটা চ্যাটচ্যাট করে ওঠে কেমন। হবেই, সস্তার রঙ! দামী রঙ কেনার সামর্থ্য আব্দুলের আছে নাকী!

আয়না দেখে তৃতীয় চোখটা যত্ন করে আঁকে আব্দুল। শিবের ব্যাক্তিত্বটাই দারুন লাগে আব্দুলের।

আজ একটা মেলায় ওদের পালা। ছোট্ট একটা দল ওদের। কোনোদিন মনসা পালা,তো কোনদিন তান্ডব নৃত্য তো কখনো মহিসাসুরমর্দিনী। কোনোদিন শিব সাজে, তো কোনদিন লখিন্দর।

দুলালকে আরেকটা লাল চা দিতে বলে আব্দুল। অনেকদিন লখিন্দর সাজার পর আজ শিব সাজছে,সময় লাগছে অনেক। সামনে শিবরাত্রি আসছে।

সামনের বেঞ্চিটায় তুষারদা আর ওর মা এসে বসে। তুষারদাকে দেখে বুকটা কেঁপে ওঠে আবদুলের।

আগের বছর গোটা গ্রামে ব্যাপক ঝামেলা হয়েছিলো। গ্রামটা ভাগ হতেই বসেছিলো। একভাগে হিন্দু, একভাগে মুসলমান। সব আলাদা।

তুষারদা গ্রামের হিন্দু সমিতির কট্টর সদস্য। আগের বার যখন একের পর এক ঝামেলা,মারপিট লাগছে, তুষারদা সবসময় থাকবেই থাকবে। কেমন ডাকাবুকো লোক।

কিন্তু আজকাল দেখা যায়না কেনো তুষারদাকে? তাই তো অনেকদিন হয়ে গেলো!

তুষারদা চা বলে। ওর মার জন্য লাল চা।

যাক শিবের বেশে থাকায় চিনতে পারেনি। তুষারদার মা প্যাটপ্যাট করে চেয়ে থাকে যদিও ওর দিকে।

চা খেয়ে তুষারদা টাকা দিতে যায়। তুষারদার মা হঠাৎ ওর কাছে এসে হাতে হাত রেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

‘আর পারিনা বাবা কষ্ট নিতে। খুব কষ্ট হয় শরীর জুড়ে। কেমোর জন্য এতো খরচা। না পারছি বাঁচতে, না মরতে। কিছু একটা করো ঠাকুর৷ হয় নিবে তো নিয়ে নাও, নাহলে ব্যাথা টা কমাও। আর পারছিনা ঠাকুর,আর পারছিনা।’

আব্দুলের হ্যাঁ করে চেয়ে থাকে। কিচ্ছু করার থাকলে নাসিফা যখন পোয়াতি থাকতেই মারা গেলো বাচ্চাটাকে নিয়ে, তখন কিছু করতোনা ও?

তাও বলে।

‘আল্লাহ আছে আম্মা। সব ঠিক করে দিবে দেখো। সব ব্যাথা কমে যাবে। আমি দুয়া করবো মন থেকে।’

তুষারদার মার চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। হাত থেকে হাত সড়িয়ে নেয় জলদি।

তুষারদা চায়ের দাম দিয়ে মাকে নিয়ে যায়।

আব্দুল হাঁ করে চেয়ে থাকে ওদের দিকে। তুষারদার মা হাঁটতে পারছেনা ঠিক করে।

কষ্ট,ব্যথা কোনো ধর্ম মানেনা।
কষ্টের সামনে খুব একা সবাই, খুবই একা….

The following two tabs change content below.

Ankush

Latest posts by Ankush (see all)

আপনার মতামত:-

%d bloggers like this: