ফ্রিজ

পৃথা ভট্টাচার্য

মেঘনার আজকাল বড্ড বেশী ঘুম পায়। অফিসে অনেক চাপ। ফ্ল্যাটের এ-সি বিকল হওয়ায় গরমে আরো বেশী কষ্ট। ফ্রিজে জল নেই, এদিকে কয়েকদিন ধরে ফ্রিজ খুললেই কেমন একটা পচা-পচা গন্ধ।
রবিবার রাতে নিজের জন্মদিন উপলক্ষে একটা ছোট্ট পার্টির আয়োজন করেছে মেঘনা। মেঘনা সবাইকে বলে দিয়েছে বেশী আওয়াজ না করতে, পাশের ঘরে বাবা-মা-ভাই ঘুমাচ্ছে। ফ্রিজে জল ভরা হয়েছে, কিন্তু খুললেই সেই পচা-পচা গন্ধটা যেন তীব্র হয়ে উঠছে।
মেঘনা পাশের ঘরে গেল, বাবাকে ওষুধ খাওয়াতে। ভিকি কি-একটা করতে গিয়ে দেখল, একি! ঘর তো ফাঁকা, মেঘনা নিজের মনেই যেন কার সাথে কথা বলে যাচ্ছে।
পার্টি যে ঘরে হচ্ছে, সেখানে মেঘনা ফিরে আসতে ভিকি কথাটা পাড়ল, “কি রে, পাশের ঘরে কার সাথে কথা বলছিলিস?”
মেঘনা একটু বিরক্তই হলো। “বললাম না, বাবাকে ওষুধ খাওয়াতে গেছিলাম! বাবার সাথেই কথা বলছিলাম, আর কার সাথে বলবো?”
ভিকি হো-হো করে হেসে উঠলো। “তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে? ওই ঘরে তো কেউ ছিল না, আমি নিজের চোখে দেখলাম।”
যারা ঘরে ছিল, সবাই একবার পাশের ঘরে গিয়ে দেখে এলো, সত্যি তো, কেউ তো নেই! এবার সবার সাথেই ঝগড়া লেগে গেল মেঘনার, পার্টির সব আনন্দ জলে গেল। সবাই অল্পবিস্তর হুইস্কির নেশায় বুঁদ, তাই অল্পক্ষণের মধ্যেই ঝগড়াটা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে গেল। ভিকি এক ধাক্কা মারলো মেঘনাকে, ছিটকে পড়ে মাথাটা টেবিলে ঠুকে গেল মেঘনার।
পারমিতা বরফ আনার জন্যে ছুটে গিয়ে ডিপ-ফ্রিজটা খুলে আঁতকে উঠে অজ্ঞান হয়ে গেল – ফ্রিজের ভিতরে মেঘনার বাবা, মা আর ভাইয়ের কাটা মাথা দেখে! মেঘনা তখনো চিৎকার করে যাচ্ছে, “আজ তোদের জন্যে বাবাকে ওষুধটা দিতে পারলাম না। সারারাত বাবা ঘুমাতে পারবে না।”

The following two tabs change content below.

Preethaa Bhattacharya

Latest posts by Preethaa Bhattacharya (see all)

আপনার মতামত:-

%d bloggers like this: