স্বাস্থব্যবস্থা অচলায়তন – সমাধান আশু প্রয়োজন

অরুনেষ রায়

এই অচলাবস্থা মোটেই ভালো অবস্থান নয়। শুধু রাজ্য নয় দেশ তথা আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ একটা কথা অন্তত বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আর বিলম্ব নয়। বা করা টাও হয়তো উচিত হবে না। রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা বেহাল, আর তার কারণ যে কোন এক বিচ্ছিন্ন ঘটনা তা নয়। দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা অনেক ঘটনার ক্ষোভ জমে তিল থেকে তাল হয়ে গেছে। ডাক্তার, যারা এই পরিষেবার মূল কান্ডারী, তাদের বিচার বুদ্ধির উপর আস্থা রাখা খুব জরুরী। অনেক পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় এর ফলে যে সমস্ত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা ডাক্তার হন, তারা কখনোই ইচ্ছাকৃত ভুল করেন না। জটিল বা জটিলতর পরিস্থিতিতে একজন জুনিয়র ডাক্তার একজন অভিজ্ঞ সিনিয়র ডাক্তারের পরামর্শ মেনে তবেই চিকিৎসা করেন। কারণ তারা জানেন যে তারা যা নিয়ে কাজ করছেন তা ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তারা এই অচলাবস্থার মুহূর্তেও পুরোপুরি সরে আসতে পারেননি। কারণ তারা জানেন যে এই ক্ষতির পরিমান কতটা হতে পারে।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের এই বিরাট স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর নিয়ামক হিসেবে প্রশাসনের দায়িত্বও খুব কম নয়। স্বাস্থ্যব্যবস্থা যে কোনো রাজ্য তথা দেশের উন্নতি প্রকল্পে বিশিষ্ট ভূমিকা রাখে। এই ধরণের কোনো রকমের অচলাবস্থা তৈরী হলে তা মেটানোর দায়িত্ব পরে প্রশাসনের উপর। মেটানো মানে কোনো বিচ্ছিন্ন বিবেচনা বা অসংবেদনশীলতা প্রকাশ নয়। মেটানো মানে পুরোটা জেনে সুবিচার করে, সুনিয়ম তৈরী করে স্বাভাবিক অবস্থার পুনর্বাসন।

পড়ে নিন এক সাধারন নাগরিকের দৃষ্টিভঙ্গি…ধর্মে আছি, জিরাফেও আছি..

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রশাসন সে অর্থে কোনো বিচার বিবেচনা না করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। যেভাবে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করা হয়েছে তা আদৌ কতটা সুচিন্তিত তা বিচার সাপেক্ষ। যে কোনো আন্দোলনেরই কিছু দাবি-দাওয়া থাকে। ইতিহাস সেকথার সুস্পষ্ট প্রমান আগেও রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও তার অন্যথা হবে না তার প্রমান সমাজই দিয়েছে। এই সব দাবি বা বলা ভালো “দাবিরা” কিন্তু আন্দোলনের প্রাক মুহূর্তেই তৈরি হয় না। অনেক দিনের জমে থাকা অসন্তোষ ধীরে ধীরে সেই দাবিগুলোর ভিত শক্ত করে, প্রয়োজনীয়তা বোঝায়, যুক্তিগ্রাহ্যতা বাড়ায়। সেই দাবি কত টা বা ঠিক কতখানি পূরণ করা সম্ভব তা পরের কথা এবং বিস্তারিত আলোচনা সাপেক্ষ। কিন্তু এই মুহূর্তে যেখানে বৃহত্তর স্বার্থ তথা আপামর বঙ্গবাসীর স্বার্থ ক্ষুদ্রতর রাজনৈতিক প্রসঙ্গকে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলে, সেখানে প্রয়োজন হয়ে পরে প্রশাসনিক প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব। আর ঠিক সেটারই অভাব স্পষ্ট করে বর্তমান শাসনব্যবস্থার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত।

পড়ে নিন একজন ডাক্তারের কলম থেকে… আমরা কি চাই? আমরা ডাক্তার

এ সময় দরকার উভয়পক্ষের পারস্পরিক বোঝাপড়া। শুধু তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়, আলোচনা, পুনরালোচনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তা কার্যকর করা। শুধু বাক্যালাপ নয়, অযথা বাক্যব্যয় নয়, অত্যন্ত সুবিবেচকের মতো সুচিন্তিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যা অন্য উন্নত রাজ্য বা দেশের থেকে শেখা। তা কেবল মাত্র প্রশাসন বা কোনো এক ধরণের জীবিকার মানুষের শুধু নয়, সাধারণ মানুষের ও বোঝা নিতান্ত প্রয়োজন।  

তুষের আগুন আস্তে আস্তে দাবানল হয়ে মহীরুহ কেও গ্রাস করে। আর তাই সে আগুন যত কম জ্বলে ততই ভালো। এই স্বাস্থ্যব্যবস্থার অচলায়তন ভাঙতে একটা পঞ্চক নয়, সহস্র পঞ্চক আজ আন্দোলনরত। আর নাহয় এদের হাত ধরেই প্রশাসন এই সমস্যাগুলির সমাধানের পথিকৃৎ হোক। শাসক দেখিয়ে দিক, “আমরা সবাই রাজা, আমাদেরই রাজার রাজত্বে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *